২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দখলে মহাসড়ক ॥ যানজটে নাকাল যাত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হলেও বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যাচ্ছে অনেকাংশ। নগরীর সিটি গেট থেকে কুমিরা পর্যন্ত মহাসড়কের দু’পাশের আংশিক দখল নেয়ায় যান চলাচলে বিপত্তি ঘটছে। হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কন্টেনার মুভার থেকে শুরু করে বিভিন্ন আকৃতির ভারি যানবাহন মহাসড়কের দু’দিক দখল করে আনলোডিংয়ের অপেক্ষায় থাকে। চার লেনের এ সড়কের দুই লেন দিনের বেশিরভাগ সময় দখলে থাকায় আবারও ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত চার লেন রাস্তার কাজ প্রায় শেষেরদিকে। আগামী জুনে এ সড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কথা রয়েছে। কিন্তু যেসব এলাকা সম্পূর্ণরূপে চার লেন সড়ক নির্মিত হয়েছে সেসব এলাকায় গত এক বছর ধরে যান চলাচল করছে। তবে আইল্যান্ড অথবা রোড ডিভাইডারের আংশিক কিছু স্থানে ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে। এছাড়াও চার লেন সড়ক চিহ্নিত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে সাদা রঙের ডিভাইডার দেয়া হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সিটি গেট থেকে কুমিরা পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে রয়েছে অর্ধশত বৃহৎ আকারের শিল্প কারখানা। এর মধ্যে রয়েছে রিরোলিং মিল, সিমেন্ট কারখানা ও জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পসহ নানা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কবির স্টীল রিরোলিং মিল, জিপিএস ইস্পাত কারখানা, কনফিডেন্স সিমেন্ট কারখানা, বিএসআরএম, কেডিএস লজিস্টিক কন্টেনার ডিপো, আবুল খায়ের স্টীল মিলস, পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস কারখানা, মোস্তফা হাকিম সিমেন্ট কারখানাসহ অর্ধশত শিল্প কারখানা। এসব কারখানার কন্টেনার মুভার, কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী ট্রাকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম-কুমিরা অংশে চার লেন সড়কের দু’পাশের বেশিরভাগ অংশই দখল করে নেয় প্রায়শ।

আরও অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যসামগ্রী চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কারখানায় প্রবেশের আগ মুহূর্তে সড়কের ওপর রাখা হচ্ছে গাড়ির সারি। ফলে রাস্তার উভয়দিকে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো রাস্তার রং সাইটে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। এছাড়াও এসব কারখানায় পণ্যবাহী গাড়ি প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়ার কারণে যানজটের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়বকু- এলাকায় গুল আহমদ জুট মিলের গাড়িও রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

সীতাকু- থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিটি গেট থেকে সীতাকু- পর্যন্ত পুলিশের টহল টিম কার্যকর রয়েছে। কিন্তু বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানগুলো সড়কের দু’পাশে অবৈধভাবে পণ্যবাহী গাড়ি অপেক্ষায় রাখায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ বিষয়ে কারখানাগুলোর কর্র্তৃপক্ষকে দফায় দফায় সচেতন করার পরও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এছাড়া এসব কারখানার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে প্রশাসনের কথাও কানে তুলছে না। তবে দুর্ঘটনার শিকার হলে সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ভারি পরিবহন সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটছে।