২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মরছে তুরাগ ॥ সীমানা পিলারে ভুলের মাসুল

মরছে তুরাগ ॥ সীমানা পিলারে ভুলের মাসুল
  • আদালতের নির্দেশ অমান্য ;###;দখলদাররা বেপরোয়া ;###;বিনোদন পার্কের নামে দখল ;###;গড়ে তোলা হয়েছে হোটেল, রেস্তরাঁ, বসতি, শিল্প-কারখানা

শাহীন রহমান ॥ পিলার বসানোর ভুলে মরতে বসেছে তুরাগ। আর এ সুযোগে বৈধতা পাচ্ছে দখলদাররা। পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে হাজারো স্থাপনা। দখল এখনও চলছে। দখল করা হয়েছে বিনোদন পার্কের নামে। গড়ে তোলা হয়েছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বসতি, শিল্পকারখানাসহ নানা স্থাপনা। সরেজমিনে দেখা গেছে, পিলারের সীমার ভেতরে যেমন দখল করা হয়েছে। আবার পিলার থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেও চলছে দখল। অথচ পরিবেশবিদরা বলছেন, ভুলভাবে পিলার স্থাপনের কারণে দখল হয়ে গেছে কোটি বর্গফুট আয়তনের নদীর জমি। আদালত সঠিক স্থানে পিলার বসানোর জন্য নির্দেশনা দিলেও তা কার্যকর হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তুরাগের কোথাও পিলার অতিক্রম করেই দখল নেয়া হয়েছে। কোথাও পিলারের নেই কোন অস্তিত্ব। আবার কোথাও বালু ফেলে পিলার ঢেকে ফেলা হয়েছে। কোথাও বেড়িবাঁধের সঙ্গে পিলার বসানো হলেও আবার কোথাও নদীর কিনারে গিয়ে বসানো হয়েছে। আবার কোথাও পিলারের নির্দেশনা অমান্য করেই বালু ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক জায়গায় পিলার বসানো না হলে তুরাগ নদী রক্ষা করা যাবে না। পিলার ভুলভাবে বসানোর কারণে দখলে বৈধতা দেয়া হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

রাজধানীর বছিলায় তৃতীয় বুড়িগঙ্গার সেতু থেকে শুরু হয়েছে রাজধানীর অন্যতম তুরাগ নদী। গাবতলীর কাছে এ নদীর ওপর দিয়েই তৈরি করা হয়েছে ব্যস্ততম আমিন বাজার সেতু। সরেজমিনে দেখা গেছে বছিলা থেকে আমিনবাজার ব্রিজের উত্তরের এক কিলোমটিার পর্যন্ত তুরাগের পাড় বাধাই করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে রেলিংসহ হাঁটাপথ। আমিনবাজার ব্রিজের উত্তর দিক থেকে তুরাগ নদীর দুটি শাখা দুদিক দিয়ে বয়ে গেছে। একটি বেড়িবাঁধ ধরে বিরুলিয়া ব্রিজ হয়ে আশুলিয়া দিয়ে বয়ে গেছে। নদীর এ শাখাটিতে বেশিরভাগ জায়গায় পিলার বসানো হয়েছে ভুলভাবে। কোথাও নদীর প্রবাহ ধরে পিলার বসানো হয়েছে। আবার কোথাও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পিলার বসানো হয়েছে। তবে বেড়িবাঁধ থেকে নদী কিছুটা দূর দিয়ে মাঠের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে পাড়ে বেশিরভাগ এলাকায় বছরের সবসময় চলে চাষাবাদ। এরই বিভিন্ন অংশে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে নানা স্থাপনা। মিরপুর বড় বাজার এলাকায় বিভিন্ন স্থানে আগে নদীর পাড় দখল করে বালুর ব্যবসা করা হলেও সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে এসব দখল উচ্ছেদ করে বালুর ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যবসা বন্ধে স্থায়ীভাবে রাস্তার ওপর কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হয়েছে। স্থানীয় একজন এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন আগে সালাম, শহীদ ও মাসুদ নামে তিন ব্যক্তি বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু বালুর ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার পর তারা এখন নদীর মাটি বিক্রির কাজের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। গভীর রাতে মাটি বেচাকেনার কাজ চলে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বড়বাজার থেকে গড়ানচটবাড়ী এলাকায় তুরাগ নদী বামদিক দিয়ে বেকে গিয়ে মাঠের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করেছে। ফলে এখানে নদীর দু’পাড়েই রয়েছে ফসলের চাষাবাদ। ডান দিকে দিয়ে এক সময় ছোট খালের মতো প্রবাহ থাকলেও এখন তা নেই। ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে সবই দখল করে নেয়া হয়েছে। নদীর এই অংশে জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করে বসানো হয়নি কোন পিলার। ফলে এখানে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে রূপকথা রেস্টুরেন্ট নামের একটি বিনোদন পার্ক। পার্কের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় নদীর খানিক এলাকা দখল করেই গড়ে তোলা হয়েছে। এর পাশেই তামান্না পার্ক নামে আরও একটি স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। যা নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে। তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জমিতেই তাদের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। রূপকথা রেস্টুরেন্টের মালিক জানান, তিনি দু’ বছরের জন্য লিজ নিয়ে রেস্টুরেন্ট চালাচ্ছেন। এর আসল মালিক আব্দুল হাই নামের একজন। তবে তিনি বলেন, আব্দুল হাই তার নিজের জমিতেই এটি গড়ে তুলেছেন। এছাড়াও এর আশপাশেই রয়েছে বাঁশের উঁচু টংঘরের তৈরি একাধিক বিনোদন কেন্দ্র। তবে পিলার বসানোর ভুলের কারণে এগুলো এখন বৈধতা পেয়ে গেছে।

গড়ানচটবাড়ি থেকে বিরুলিয়া ব্রিজ পর্যন্ত তুরাগ নদী মাঠের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। ফলে বেড়িবাঁধ থেকে নদীর বেশ দূরত্ব তৈরি রয়েছে। এর দু’ধারে চলছে ধানচাষ। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও পিলার বসানো হয়েছে নদীর শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহ ধরে। আবার কোথাও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন। এই এলাকার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা বালু ফেলেও দখল করা হয়েছে। আবার কোথাও পিলারের কিনার ঘেঁষে বালু ভরাট করা হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় জাহাজে করে বালু নিয়ে পাড়ে ফেলা হচ্ছে। বিরুলিয়া ব্রিজের উত্তর ও দক্ষিণপাড়ে বালু ফেলে ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে অলিম্পিয়া সিমেন্টের নামে পিলারের নির্দেশনা অমান্য করেই বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। সাইনবোর্ডে টানিয়ে দেয়া হয়েছে ক্রয়সূত্রে এ জমির মালিক অলিম্পিয়া সিমেন্ট। এর কিছু দূরের নদীর পাড় ঘেষে গড়ে তোলা হয়েছে মির আক্তার সিমেন্ট কারখানা। এছাড়া বিরুলিয়া ব্রিজের উত্তর দিকে নদীর দু’পাশে পিলারগুলো অযতœ অবহেলায় মাঠের মধ্যে পড়ে আছে। এর পাশ ঘেঁষেই বালু ভরাট করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এভাবে নদী ভরাটের সুযোগ দিলে নদীর অস্তিত্ব কিছুদিনের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে।

অথচ তুরাগ নদীর দখল রোধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ রয়েছে। তিনি নদী দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ তার কঠোর নির্দেশ উপেক্ষা করে সীমানা জরিপের ভুলের কারণে নদীর পাড় ইতোমধ্যে দখল হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের রায় মেনে সঠিকভাবে সীমানা পিলার স্থাপন না করায় নদীর দুই পাড় সংলগ্ন কয়েক কোটি বর্গফুট আয়তনের মূল্যবান নদীর জমি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের ভুল, প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে নদীর বিশাল রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে অধিকাংশ সীমানা পিলারই ভুলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। নদীর পাড়ের ভিতরে বা ফোরশোরে (নদীতট) বসানো হয়েছে। অনেক স্থানে ফোরশোরের ভিতরে বা একেবারে নদীর তলদেশেও পিলার বসানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে সীমানা পিলার স্থাপনের ফলে একদিকে যেমন দখলদারদের বৈধতা দেয়া হয়েছে, অন্যদিকে সরকারী অর্থের অপচয় করা হয়েছে।

পরিবেশ সংগঠন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন বলেন, বাপার পক্ষ থেকেও সমস্ত সীমানা পিলার স্থাপনের কাজ জরিপ করা হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে একটি পিলারও সঠিক স্থানে স্থাপন করা হয়নি। এতে করে হাইকোর্টের রায় মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। নদীর জমি দখলদারদের বেআইনী দখলিসত্বের বৈধতা দেয়া হচ্ছে। সীমানা পিলার বসানো হাইকোর্টের রায়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়ার বিষয়টি অনেক আগেই টাস্কফোর্সকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জানা গেছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত থেকে দ্বিতীয়বার আদেশ দিয়ে তুরাগের পিলার সঠিক স্থানে বসানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র এক কর্মকর্তা বলেন, আদালতের রায় মেনেই তুরাগের পিলার সঠিক স্থানে বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, নদীর পাড়ে দখল উচ্ছেদে প্রায়ই অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে তুরাগ পাড়ে বিভিন্ন স্থানে বালু ব্যবসাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বালু ব্যবসার স্থানে কাঁটাতারের বেড়া দেয়া হচ্ছে যাতে কেউ পাড় দখল করে ব্যবসা করতে না পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশন ও ভূগর্ভস্থ পানিরস্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় নদীগুলো পুনরুদ্ধার ও সঠিক সংরক্ষণ ঢাকা মহানগরীর অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। জনগণের বৃহত্তর কল্যাণ নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। ঢাকার চার নদীর সীমানা জরিপ ও সীমানা পিলার স্থাপনের জন্য আদালত ২০০৯ সালে যুগান্তকারী রায় প্রদান করে। রায়ে প্রাথমিক কাজ হিসেবে নদীর সীমানা নির্ধারণের কথা বলা হয়। আদালত নদীর একটি সংজ্ঞাও প্রদান করেন। সরকার নদী বিষয়ক হাইকোর্টের এই রায় বাস্তবায়নের কাজও শুরু করে। হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নদীর সীমানা নির্ধারণকল্পে বিআইডব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসনের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। তারা নদীর জায়গা জরিপ করে চার নদীতে সীমানা পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর সীমানা পিলার স্থাপনের কাজ শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহ ধরে করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবাহ অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায়। তখন নদীর আকার আয়তন অনেক বড় হয়ে যায়। এ সময়ে নদীর যে প্রবাহ থাকে তাকে আসল নদী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু নদীর আসল সীমানা বাদ দিয়ে এমনভাবে পিলার স্থাপন করা হয়েছে যাতে নদী দখলকে বেশি করে বৈধতা দেয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেভাবে পিলার স্থাপন করা হচ্ছে সেটা আসলে কোন নদী নয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবাহ যেখানে থাকে সেটাই আসল নদী। এর মাধ্যমে নদী দখলকে আরও উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। আদালতের রায়ে নদীর তলদেশ, প্রবাহ, তীর ও তীরভূমি ঠিক রেখে সিএস ও আরএস রেকর্ডের ভিত্তিতে নদীর সীমানা জরিপের আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু যে স্থান দিয়ে সীমানা পিলার দেয়া হয়েছে তা আদালতের রায়কে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে নদীর সর্বনিম্ন প্রবাহ থেকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকাকে নদীর তীরভূমি (ফোরশোর) হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। আর বর্ষা মৌসুমে নদী প্রবাহ যেখান দিয়ে প্রবাহিত হয় সেটা নদীর তীর ধরা হয়ে থাকে। নদীর এই তীরভূমি এলাকার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোন প্রকার স্থাপনা তৈরি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে নদীর দখল প্রক্রিয়া।

বিআইডব্লিটিএর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঢাকা শহরের চারদিকের নদীগুলোর সমন্বয়ে ১১০ কিলোমিটার নদী নৌবন্দর হিসেবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এর সংরক্ষক ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। পোর্ট এ্যাক্ট-১৯০৮ এর ক্ষমতাবলে সরকার দুটি সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে ঢাকা, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের সীমানা ঘোষণা করে। ঢাকা নদীবন্দরের ও নারায়নগঞ্জ নদীবন্দরের সীমানা ১৯৬২ সালে এবং ১৯৯০ সালে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ জরিপ দল সমন্বয়ে পুনর্যৌথ জরিপের মাধ্যমে সীমানা চিহ্নিত করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি ম্যানুয়েলে ১৯৯১ শাখা ৯ নদীর প্রবাহ পথ তলদেশ ও ফোরশোর ভূমির ব্যবস্থাপনায় বিশদ সংজ্ঞায়িত করা আছে এবং নদীর ও ফোরশোর ভূমিতে এর ভিতরে অনুপ্রবেশ এবং এগুলোয় প্রকৃতি পরিবর্তন বেঙ্গল ক্যানেল এ্যাক্ট ১৮৬৪ ও ইমব্যাঙ্কমেন্ট ও ড্রেনেজ এ্যাক্ট ১৯৫২ অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করা আছে। তবে দীর্ঘদিন থেকে নদীর চিহ্নিত সীমানার মধ্যে অবৈধ দখলদারের দখলের মাধ্যমে নদীর কাঠামো সঙ্কুচিত করে ফেলা হয়।