১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
  • প্রথম দফায় ভোট ২২ মার্চ ;###;মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২২ ফেব্রুয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রথম দফায় আগামী ২২ মার্চ থেকে ৭৫২ ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২ মার্চ। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৩ মার্চ। এ ছাড়াও প্রার্থীদের আপীল দাখিলের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫-২৭ ফেব্রুয়ারি। আপীল নিষ্পত্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কমিশনের সভায় ইউপি নির্বাচনের এ তফসিল অনুমোদন করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তারা নির্বাচনের বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করেন।

কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের তাদের এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচী নির্ধারণ করে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করবেন। প্রথম ধাপের ৭৫২টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং এ ছাড়াও দ্বিতীয় ধাপে ৭১০টি ইউনিয়ন পরিষদে ৩১ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ৭১১টি ইউনিয়ন পরিষদে ২৩ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ৭২৮টি ইউনিয়ন পরিষদে ৭ মে, পঞ্চম ধাপে ৭১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ২৮ মে ও ষষ্ঠ ধাপে ৬৬০টি ইউনিয়ন পরিষদে ৪ জুন ভোটগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কমিশনের সভায়। বৃহস্পতিবার এই ছয়টি ধাপের ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করে স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তফসিল ঘোষণার দায়িত্ব দিয়েছে। কমিশন জানিয়েছে সারাদেশে ৪ হাজার ৫৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চলতি বছরে মেয়াদোত্তীর্ণ হবে এরূপ ৪ হাজার ২৭৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন মোট ৬টি পর্যায়ে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে সময়সূচী নির্ধারণকালে চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এবং আসন্ন এসএইচসি ও সমমানের পরীক্ষা যাতে ব্যাহত না হয় তা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে প্রথমবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে শুধু নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীগণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। রাজনৈতিক দলের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী এবং তাদের নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। যাতে উল্লেখ থাকবে যে, উক্ত প্রার্থীকে উক্ত দল হতে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। স্বতন্ত্রভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের শুধু মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয় কোন রাজনৈতিক দল কোন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করতে পারবে না। রাজনৈতিক দল কর্তৃক একাধিক ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদান করা হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে উক্ত দলের সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবি, নমুনা স্বাক্ষরসহ একটি পত্র তফসিল ঘোষণার ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কাছ দাখিল করবে এবং উক্ত পত্রের একটি অনুলিপি নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করতে হবে।

এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ম্যাজিস্ট্র্রেট নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, কর্মী-সমর্থকসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধি বুধবার গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে। এবার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা ও টিআইএন নম্বর দেয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তবে বিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের নির্ধারিত জামানত দিতে হবে। এ ছাড়াও আচরণবিধি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের পরই প্রচার শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।

এদিকে কমিশনের বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজ সাংবাদিকেদের বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সঠিক দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ গত পৌরসভা নির্বাচনেও কিছু কিছু গাফিলতির ঘটনা ঘটেছিল। সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে আরও কঠোরভাবে তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তদারকি করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে বলতে চাই, কেউ গাফিলতি করলে বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, সারাদেশের নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদে ৬ দফায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দফার নির্বাচনের তফসিল দেয়াসহ যাবতীয় কার্যাবলী সম্পন্ন করবেন। কমিশন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেন তারা সুন্দরভাবেই নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে। তাই কেউ গাফিলতি করলে বা কারও পক্ষে কাজ করার চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুন্দর নির্বাচন করা সম্ভব। তবে এখন ভোটার তালিকায় ছবি রয়েছে। তাই কেউ ইচ্ছা করলেই অন্য জনের ভোট দিতে পারেন না। কেউ ব্যত্যয় করলে এবং আমাদের নজরে আসলে চরম ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনে সাংবাদিকরা ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে। তবে তারা বেশিক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থান করবে না বলে উল্লেখ করেন।

দেশে পৌরসভার মতো ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রথমবারে মতো দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। আইন অনুযায়ী পৌরসভার মতো ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন। দলীয় প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়েই তারা নির্বাচন করবেন। তবে সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদের প্রার্থীরা আগের মতোই নির্দলীয়ভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে যে কেউ ইচ্ছা করলে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন। কমিশন ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র ও নির্দলীয় সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য প্রতীক অনুমোদ দিয়েছেন। তবে কমিশন জানিয়েছে দলীয় প্রার্থীর প্রতীক নির্ধারিত থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের আগে কেউ নির্বাচনী প্রচারে নামতে পারবেন না।

এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের আচরণবিধি অনুসারে আগের মতোই সরকারের অধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, স্পীকার, সংসদ সদস্যরা নির্বচনী প্রচারের অংশ নিতে পারবে না। তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়ররা এবার নির্বাচনী প্রচারে সুযোগ পাচ্ছেন।

পৌরসভা নির্বাচনের মাধ্যমে গত ৩০ ডিসেম্বর প্রথম স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে কমিশনের নিবন্ধত ২০ রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেন। পৌরসভার পরে ইউনিয়ন পরিষদেও প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে যাচ্ছে। এর আগে দেশে আটবার নির্বাচন হলেও তার সবই হয়েছে নির্দলীয়ভাবে। সর্বশেষ ২০১১ সালে ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল প্রথম দফায় প্রায় ছয় শ’ ইউপিতে ভোট হয়। দ্বিতীয় দফায় ৩১ মে থেকে ৫ জুলাই তিন হাজার আট শ’র বেশি ইউপিতে নির্বাচন করা হয়। তবে এবার মার্চেই থেকে জুন পর্যন্ত ৬ দফায় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪ হাজার ২৭৫টি পৌরসভার নির্বাচনের জন্য কমিশন জানিয়েছে বাকি ইউনিয়ন পরিষদে পর্যায়ক্রমে ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে।