২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গীর ফাঁসি বহাল

  • আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলা

স্টাফ রিপোর্টার॥ সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হরকত-উল-জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন আসামির মৃত্যুদ- ও দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদ- বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট দ্বৈত বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় বুধবার আসামিদের আপীল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদ- অনুমোদন) ওপর যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত। আসামিদের মধ্যে মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদ- এবং হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছিল সিলেটের একটি আদালত।

আট বছর পর আসামিদের আপীল খারিজ করে হাইকোর্ট সেই রায়ই বহাল রেখেছে। পাঁচ আসামির সবাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের পর মুফতি হান্ননসহ চার আসামির আইনজীবী মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা রায়ের অনুলিপি পেলে সর্বোচ্চ আদালতে আপীল করব।” মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী গ্রেনেড হামলার মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক কামাল উদ্দিন নিহত হন। পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি মারা যান হাসপাতালে।

সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী আনোয়ার চৌধুরী ও সিটেলের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন ওই ঘটনায় আহত হন। পুলিশ ওই দিনই সিলেট কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৭ জুন মুফতি আব্দুল হান্নান ওরফে আবুল কালাম, হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

যথাযথ ঠিকানা না থাকায় মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজার নাম প্রথমে বাদ দেয়া হলেও পরে তাকে যুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছর নবেম্বরে হয় অভিযোগ গঠন। ৫৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীম মোঃ আফজাল তিনজনকে মৃত্যুদ- ও দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন। নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২০০৮ সালে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদনের আবেদন) হাইকোর্টে শুনানির জন্য আসে। ২০০৯ সালে আসামিরা আপীল করে।

এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। নয় দিন শুনানির পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত রায়ের দিন ঠিক করে দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে হাইকোর্টে শুনানি করেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবির ও সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ শহীদুল ইসলাম খান। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ, মোহাম্মদ আলী ও রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাসনা বেগম।

নির্বাচিত সংবাদ