২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উচ্চ আদালতের বিচারকদের আচরণবিধি থাকা উচিত ॥ আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, দেশে উচ্চ আদালতের বিচারকদের জন্য আচরণবিধি থাকা উচিত। অবসরোত্তর সুবিধায় থাকা অবস্থায় হাইকোর্টের এক বিচারক যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আইনজীবী হওয়ায় আলোচনার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী এ মন্তব্য করছেন। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘আজ বিচারপতিদের আচরণবিধি খুব প্রয়োজন হয়ে গেছে।’ এ আচরণবিধি করতে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান মন্ত্রী।

সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ থেকে গত বছর ১২ ডিসেম্বর অবসরে যাওয়া বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বুধবার আপীল বিভাগে জামায়াত নেতা মীর কাসেমের মামলার শুনানিতে উপস্থিত হলে এ আলোচনার সূত্রপাত হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে আনার পর এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, নজরুল ইসলাম চৌধুরী হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে অবসরকালীন সুবিধায় সরকারী বাসভবন, গাড়ি ও গানম্যান পাচ্ছেন। এ অবস্থায় আইনজীবী হিসেবে মামলায় লড়া ‘নৈতিকতার চরম বিরোধী।’

অন্যদিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আইনে সুযোগ আছে বলেই তিনি সরকারী সুবিধা ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘পত্রিকায় যদি সঠিকভাবে এসে থাকে তিনি বলেছেনÑ নিম গাছেতো আর আম ধরবে না। তিনি প্রমাণ করেছেন, নিমগাছে আম ধরে না। উনি উনার কর্মকা-ে প্রমাণ করেছেন। উনি যেটা করেছেন আমি প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করব দেখেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কারও অধিকার ক্ষুণœ না করেই তারা অনেক কথা বলতে পারেন। বিচারকদের জন্য আচরণবিধি করার বিষয়ে সেভাবেই তিনি কথা বলবেন।

আমরা বিচারপতিদের এত শ্রদ্ধা করি এ ধরনের আইনের প্রয়োজন আছে বলে কখনও মনে হয়নি। তারা বিবেক দ্বারা চালিত হবেন। তাদের এটা বলে দেয়ার প্রয়োজন নেই যে, কী আচরণ তারা করবেন। সে জন্যই কিন্তু এতদিন কোন রুলস ছিল না। রায় লেখার ব্যাপারে বলেন, এই ঘটনায় বলেন, উনাদের বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। উনারা নিজেরাই সেটা করবেন। কিন্তু আজ বাস্তবতায় এটা উপলব্ধি করা যাচ্ছে, সেই প্রেক্ষিত আর নাই। দুঃখের হলেও এটা সত্য। সেই জন্য আমরা মনে হয়, এটার ব্যাপারে রুল করে দেয়া উচিত। আনিসুল হক বলেন, তার বাবা সিরাজুল হকও একসময় আইনজীবী ছিলেন। তখন তিনি দেখেছেন, বিচারকরা যতদিন এলপিআরে ছিলেন, ততদিন তারা কোর্টে যাননি। কিন্তু আজ এই ভদ্রলোকের ব্যাপারে যেটা হলো, সেটা হচ্ছেÑ ‘উনি ১২ তারিখে ছেড়েছেন, ১৩ তারিখেই কোর্টে এসেছেন। তখনও তিনি বিচারপতির বাসা ছাড়েন নাই।’

সংবিধানের ৯৯ অনুচ্ছেদের ২ এর (১) অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক পদ থেকে অবসর নেয়ার পর আপীল বিভাগে ওকালতি করতে পারেন। এ প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারপতিদের অধিকার আছে আপীল বিভাগে প্র্যাকটিস করার। তারা যদি আপীল বিভাগে প্র্যাকটিস করতে আসেন, তাহলে তাদের সরকারি সুবিধা ত্যাগ করে আসা উচিত। যদি ত্যাগ করতে না পারেন তাহলে সেগুলো শেষ করে আসা উচিত। কারণ তারা হচ্ছেন সমাজের দৃষ্টান্ত, রোল মডেল। তারা এমন কাজ করবেন, যেটা অনুসরণীয় হবে। আমি মনে করি, এখন সময় হয়েছে এগুলো ভেবে দেখার।’

নির্বাচিত সংবাদ