১৫ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উবাচ

ইস কী লজ্জা!

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সমালোচনাও যেন নাছোড়বান্দা। পিছু ছাড়ে না। পরিবার থেকে শুরু করে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকা- নিয়ে নানা আলোচনা-গুঞ্জন তো আছেই। সফলতা-ব্যর্থতা নিয়েও কথা কম হয় না। সবকিছুর যোগফল তিক্ত। বিরক্ত। হয়ত এ কারণেই জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, ‘আমার দুঃখের অনেক কাহিনী আছে, বলব না। এতগুলো পৌরসভা নির্বাচনে আমরা মাত্র একটিতে জিতেছি। সবচেয়ে বড় দুঃখ, কষ্ট আমার। মানুষ হাসিঠাট্টা করে। লজ্জায় মাথা কাটা গেছে। অপমানে আমি মানুষকে মুখ দেখাতে পারি না।’ ইস। কী যে অবস্থা। নিজের মুখেই বহুবার বলেছেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। হয়ত শেষ কথা নেই চিন্তা করেই মুখ দেখাতে না পারার বিষয়টি সামনে এনেছেন। আবার স্বপ্নও দেখেন আগামীতে ১৫১টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার। কথায় আছে না দিবাস্বপ্ন। হয়ত তাই হয়েছে। নিজ দলের নেতাকর্মীরাই বলেন, লজ্জায় দিবাস্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন সাবেক এই স্বৈরশাসক। যেখানে একটি মাত্র পৌরসভা ও উপজেলায় নিজের দলের প্রার্থী পাস করেন; সেখানে কিভাবে ক্ষমতায় যাবেন তিনি। তাছাড়া আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী সঙ্কটে দলটি। তাহলে মান-অপমানের বিষয়টি কি সত্যিই ছুঁয়ে গেছে প্রেমিক এরশাদকে। না। বলার জন্য বলা। আর আত্মোপলব্ধি করা মাত্র।

জাতীয় যুবসংহতির উদ্যোগে বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে দলের নবনিযুক্ত কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও রুহুল আমিনকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, ‘আমি আজ ক্লান্ত। ক্লান্তি নিয়ে বলছিÑ আমার ভাই জিএম কাদের দলের উত্তরসূরি হিসেবে আসার পরে আমার মনে নবোদ্যম সৃষ্টি হয়েছে। তারপরেও দলের স্বার্থে যেখানে যাওয়া দরকার, আমি যাব। আমি পরিশ্রান্ত নই। আমি গর্বিত এ রকম একটা ভাই আমার আছে। ও শুধু আমার ভাই নয়, আমার সন্তানও, সে আমার চেয়ে বেশি লেখাপড়া করেছে। আমাদের পথ চলা শেষ হবে। যোগ্য তরুণদের হাতে নেতৃত্ব দিতে হবে। আর কোন ভুল বোঝাবুঝি নেই, আজ থেকে জাপা এক। অনেক পথ হেঁটেছি, এবার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।’

দেশে বিরোধী দল নেই

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দশম জাতীয় সংসদ শুরুর পর থেকেই বিরোধী দল নিয়ে নানা সমালোচনা। কারণ একটাইÑ জাপার তিন নেতা সরকারের মন্ত্রিপরিষদে। তাই বার বার তৃণমূলের দাবি ছিল মন্ত্রিপরিষদ ছাড়ার। এরশাদ নিজেও এ বিষয়ে সোচ্চার। কিন্তু তা কী করে সম্ভব। দলের চেয়ারম্যান নিজেই তো মন্ত্রীর সমমর্যাদা নিয়ে বিশেষ দূতের আসনে বসে আছেন। গাছের গোড়া যখন ঠিক তখন মাথা ঝাঁকিয়ে কি গাছ ফেলে দেয়া সম্ভব! না। তাহলে দলপ্রধান কেন এসব বলেন। রওশন বলেছেন, দলের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে অনেক কথাই এরশাদকে বলতে হয়!

যাই হোক। দলের নবনিযুক্ত কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরও উপলব্ধি করেছেন দেশে কার্যকর বিরোধী দল নেই। অর্থাৎ বিরোধী দল হিসেবে জাপার ভূমিকা তাঁর কাছে স্পষ্ট। এ জন্য করণীয় ঠিক করেছেন এই নেতা। তাই তিনি মনে করেন, জাতীয় পার্টির সংসদে ও সংসদের বাইরে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি মন্ত্রীদের পদত্যাগের ব্যাপারেও একমত তিনি। এ বিষয়ে বলেছেন, কিছু মানুষের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য জাতীয় পার্টি সত্যিকারের বিরোধী দল হতে পারবে না তা হতে পারে না। পার্টির নির্দেশ মেনেই পদে থাকতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

কতটুকু পারবেন তিনি। এসবে প্রধান বাধা দলের চেয়ারম্যান নিজেই। পরে ভাবী অর্থাৎ বিরোধী দলের নেতা। তার পর তিন প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ ৪০ সাংসদ। তবুও ভালকিছুর স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান সাবেক এই মন্ত্রী। ব্যর্থ হলে কথা বলাই সার হবে শুধু।

সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জিএম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টি সব সময় সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা এ পার্টিকে শক্তিশালী করে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাব। দেশবাসী রাজনীতিতে একটি পরিবর্তন চায় আর আমরাই এই পরিবর্তন এনে দিতে পারি।’ তিনি বলেন, নব্বইয়ের পর পার্টির ওপর দিয়ে অনেক কিছু বয়ে গেলেও আল্লার রহমত, জনগণের ভালবাসা, নেতাকর্মীদের ত্যাগ এবং এরশাদের শাসনামলের উন্নয়নই পার্টিকে রাজনীতির মাঠে টিকিয়ে রেখেছে।

নেত্রীকে খুশি করতেই...

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বপ্ন দেখা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। তাই যে কেউ স্বপ্ন দেখতে পারেন। যার স্বপ্ন পূরণের ক্ষমতা আছে তাঁর জন্য স্বপ্ন দেখা আরও স্বাভাবিক। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ যদি স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান করে দিতে চান! তাকে কী বলবেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। স্বপ্ন পূরণ হতে না দেয়ার ইঙ্গিত এই নেতার। কেউ কেউ বলছেন, ২০ দলের নেত্রীকে খুশি করতেই হয়ত প্রলাপ বকছেন তিনি।

সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এই জাতীয়তাবাদী নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘২০১৬ সালে দাঁড়িয়ে ২০১৯ ও ২০৪১ সালের স্বপ্ন দেখছেন আপনি? লাভ হবে না। আপনি ২০১৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই। অতএব স্বপ্ন দেখে লাভ নেই।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাম্প্রতিক রাজনীতি ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ২০ দলীয় জোটের এই শরিক নেতা সকলের উদ্দেশে বলেন, ২০ দলীয় জোটের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা হতাশা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তারা সাবধান হয়ে যান। কেউ হতাশ হবেন না। কারণ আপনারা দেখবেন, ‘শেষ হাসিটা খালেদা জিয়াই হাসবেন।’ সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও বলছিলেন, তা হলে জাদুরকাঠি কি নেতাকর্মীবিহীন এই দলনেতার কাছে। যিনি জাদুকরি খেলায় শেষ হাসি হাসানোর দায়িত্ব নিচ্ছেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের বিরোধিতা করেন তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হওয়া উচিত। নির্বাচিত সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর একটি দিনও এই অবৈধ সংসদ থাকতে পারে না। নির্বাচিত সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়?