১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তানী পণ্য বর্জন ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের দাবি

  • ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের বৈঠক

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের অবৈধ হস্তক্ষেপের বিষয়টি জাতিসংঘ ও সার্কে অভিযোগ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সব পণ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য বর্জন এমনকি কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করারও দাবি জানিয়ে তারা বলেছেন, পাকিস্তান একাত্তরে পরাজয়ের গ্লানি আজও ভুলতে পারেনি। তাই এখনও এ দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে আর এক্ষেত্রে এদেশীয় দোসর হিসেবে কাজ করছেন খালেদা জিয়া। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বৃহস্পতিবার ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নেতৃবৃন্দের বৈঠকে তারা এসব দাবি জানান। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে পাকিস্তানের কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে ১৪ দল ঘোষিত আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচী সফল করতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সকল পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মানববন্ধন কর্মসূচীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, এটা শুধু ১৪ দলের নয়, গোটা জাতির পক্ষে মানববন্ধন। স্বাধীন বাংলাদেশে একাত্তরের পরাজিত শত্রুদের হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না।

বৈঠকে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের নগ্ন হস্তক্ষেপ বরদাশ্ত করা হবে না। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে পাকিস্তানের কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশবাসী এখন জেগে উঠেছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচীতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বকে দেখিয়ে দেয়া হবে যে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ এখনও ঐক্যবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, যারা আজ বাংলাদেশকে হুমকি দিচ্ছে, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে, সেই পাকিস্তানের শাসকদের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করছি। সেই দোসররা যারা একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের সঙ্গে ছিলেন, তারা এখনও একইভাবে আছে। ওই সময় মুসলিম লীগ ও জামায়াতের নামে ছিল, এখন তারা বিএনপি-জামায়াতের নামে আছে। এই অপশক্তিকে রুখে দেয়ার জন্য আমরা মাঠে নামছি। একাত্তরের মতো আমরা এবারও তাদের পরাজিত করতে পারব।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পাকিস্তান ও খালেদা জিয়ার দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের জবাব দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার মানববন্ধনের মাধ্যমে দেয়া হবে। বাংলাদেশবিরোধী পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার এখনই সময়। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মানববন্ধনে সর্বস্তরের মানুষকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বাঙালীর কর্মসূচী। এটি একটি বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচী নয়। তাই সবাই পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে এনে মানববন্ধন সফল করুন। পেশাজীবীদের নিজ নিজ পেশার পোশাক পরে মানববন্ধনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এ ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচী জেলা-উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে পালন করা হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, পাকিস্তানের অপকর্ম ও গণহত্যাকে আড়াল করার জন্য তারা শুরু থেকেই মিথ্যাচার করে এসেছে। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে, স্বাধীন বাংলাদেশের ওপর বিদেশী রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ আমরা বরদাশ্ত করব না। আজকে বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন হয়ে রাজপথে নামতে হবে। ১৫ ফেব্রুয়ারির মানববন্ধনকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমগ্র জাতির কর্মসূচী বলে দাবি করে তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা নিয়ে কোন ছিনিমিনি খেলতে দেয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী সকলকে ১৫ ফেব্রুয়ারির মানববন্ধনে অংশ নেয়া উচিত। সাংবাদিক সমাজের নেতারা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেবেন বলে তিনি জানান। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন রাজনৈতিক নয়, পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ী বাঙালী জাতির কর্মসূচী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবাই এতে অংশ নেবেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম বলেন, অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপের বিষয়টি সার্কের মাধ্যমে পাকিস্তানকে সতর্ক করতে হবে। নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সব সীমা অতিক্রম করেছে। প্রকৌশলী আবদুস সবুর বলেন, পাকিস্তান ও খালেদার বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা। তিনি বলেন, মানববন্ধন কর্মসূচীতে প্রকৌশলীরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে অংশ নেবেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব) হেলাল মোর্শেদ খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অজ্ঞতারই প্রকাশ পেয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের হাজার হাজার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেবে বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, পাকিস্তানের আচরণ সীমা লঙ্ঘন করেছে। বিষয়টি জাতিসংঘে অভিযোগ করতে হবে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, একাত্তরের মতো এখনও পাকিস্তানের মিত্র হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতাকর্মীরা শাহবাগ-শিশুপার্ক এলাকায় থাকবে বলে তিনি জানান। সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মেহেদী বলেন, যখনই যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর শুরু হয়েছে, তখন থেকেই পাকিস্তান নতুন করে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তিনি বলেন, আইনজীবীরা সুপ্রীমকোর্টের সামনে থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত এলাকায় মানববন্ধনে অংশ নেবেন। স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ আবদুল আজিজ বলেন, সর্বক্ষেত্রে পাকিস্তানের পণ্য বর্জন করতে হবে। শাহবাগ থেকে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত চিকিৎসক সমাজের নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে অংশ নেবেন বলে তিনি জানান।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এস এম কামাল হোসেন।