১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আফসোস-অনুশোচনা নেই মিরাজের

আফসোস-অনুশোচনা নেই মিরাজের

মোঃ মামুন রশীদ ॥ পুরো আসরে ভাল খেলেও শেষটা ভাল হলো না। বিষণœ মুখ নিয়েই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৯ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথমবারের মতো সেরা সাফল্য হিসেবে অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েন মিরাজরা। কিন্তু পুরনো প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের যুবাদের অতীতে বলে- কয়ে হারানো দলটি এবার পরাজিত হয়েছে। তবে মিরাজ জানালেন শেষ বলে চার হাঁকিয়ে ক্যারিবীয়রা না জেতা পর্যন্তই আশায় ছিল বাংলাদেশ দল। আর এবার হেরে গেলেও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এখন পর্যন্ত দলের অর্জন উদাহরণ হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন তিনি। সে কারণে আফসোসও নেই। এ কারণে এবার তৃতীয় বা চতুর্থ হতে পারলে পরের যুবা ক্রিকেটাররা আগেভাগেই লক্ষ্য নিয়ে নামতে পারবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। মিরাজ আশা প্রকাশ করেন যে এ দলেরই অনেক ভাল ক্রিকেটার যারা আছেন তারা পরবর্তীতে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে খুব ভালভাবে। বৃহস্পতিবার যুব বিশ্বকাপের সেমি শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৯ দলের অধিনায়ক।

প্রথম ব্যাট করে তেমন বড় কোন সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ দল। ক্যারিবীয় পেসাররা দুর্দান্ত বোলিং করেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বিপর্যয় এনে দিয়েছিল। কিন্তু কুয়াশায় আচ্ছাদিত এবং শিশিরে ভেজা সকালের উইকেটে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেয়ার বিষয়টি সবাইকে কিছুটা আশ্চর্য করেছে। এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘উইকেট বেশ সেøা ছিল। কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম যে আগে ব্যাটিং করে যদি ২৪০/৫০ রান করতে পারি ওদের আমরা চাপে ফেলে আটকাতে পারব। কিন্তু ২০ রানের মতো কম হয়েছে আমাদের।’ এরপর ক্যারিবীয়রা ব্যাটিংয়ে নামার পর টপঅর্ডাররা উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন। যদিও পরের দিকে বাংলাদেশী বোলাররা ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত আশাও ছাড়েনি মিরাজবাহিনী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যখন চার মেরে ওরা জিতে গেল, তার আগে পর্যন্ত আমরা হারব এটা চিন্তা করিনি। আশাও ছাড়িনি। কিন্তু চার হয়ে যাওয়ার পর আমরা বুঝতে পেরেছি যে হেরে গেছি।’ এবার শিরোপা জয়ের অন্যতম ফেবারিট দল ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেমিতে এসেই ধাক্কা খেল দলটি। দলের সবাই তাই হতাশ। কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এই হতাশা ভুলে খেলতে হবে। এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘অবশ্যই সবার মন খারাপ। কিন্তু স্যারেরা (কোচ-ম্যানেজার) আমাদের বলেছেন একটা ম্যাচে পরাজয় আসতেই পারে। এখনও আমাদের তৃতীয় হওয়ার সুযোগ আছে। তাই এসব ভুলে সেটার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমরা ফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ হতে পারিনি, কিন্তু তৃতীয় হতে পারলে সেটাও অনেক বড় অর্জন হবে আমাদের জন্য।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিশ্বকাপের আগেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসে তাদের কাছেই হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘ওই সময় তারা একদমই স্পিন খেলতে পারত না। ব্যাটসম্যানরাও রান করতে পারেনি। কিন্তু অনেকদিন ধরে এখানে থেকে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে তারা। অনেক ম্যাচ খেলে কিভাবে খেলতে হবে সেটা বুঝে গেছে। এ টুর্নামেন্টে অনেক ভাল খেলছিল তাদের ব্যাটসম্যানরা এবং আজকেও ভাল করেছে। আর আমাদের স্পিনাররা তেমন ভাল বোলিং করেনি আজ। ওরাও ভালভাবে সামলেছে আমাদের বোলিং। বিশেষ করে ওদের ওপেনাররা অনেক ভাল করেছে।’ তবে এটা এতবড় পরিসরে বিপুল দর্শকের সামনে সেমির মতো বড় ম্যাচ খেলাটাও বাড়তি চাপ হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘আসলে এ রকম ম্যাচ আমরা খেলিনি। এত দর্শকের সামনে খেলায় অভ্যস্ত নই। সে কারণে চাপ একটা থাকেই। তবে আশা করি পরবর্তীতে এমনটা আর হবে না।’ এখন দৃষ্টি তৃতীয় স্থান দখলের দিকে। এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘মুশফিক ভাইরা পঞ্চম হয়েছিলেন। আমরা যদি তৃতীয় বা পঞ্চম হতে পারি সেটা অনেক বড় পাওয়া হবে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উদাহরণ তৈরি হবে। তারা তখন আগে থেকেই আরও ভাল ফলাফল মানে ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার টার্গেট নিয়ে খেলতে পারবে। আর ১০ টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে আমরা শীর্ষ পাঁচে থাকব এটা কিন্তু সবাই হিসাব করবে।’ মিরাজ মনে করেন এতদিন অনুর্ধ ১৯ দলে যারা খেলেছে অনেকেরই সামর্থ্য আছে জাতীয় দলে খেলার এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে গর্বিত করার।