১৯ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইংলিশদের সিরিজ জয় নাকি প্রোটিয়াদের সমতা?

  • চতুর্থ ওয়ানডে আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টানা দুই ম্যাচ হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ঠেকিয়ে দিয়েছে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খোয়ানোর ভয়টাকে। কিন্তু সেই লড়াইটা এখনও শেষ হয়নি স্বাগতিক প্রোটিয়াদের। আজ সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতেও একই লড়াই তাদের। হারলেই হাতছাড়া সিরিজ। তাই আবারও জিততে হবে, তাহলে সমতাও আসবে। আর ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বেশ ভাল একটা অবস্থানে আছে সফরকারী ইংল্যান্ড। তৃতীয় ওয়ানডেতে হারলেও এবার চতুর্থ ম্যাচটি জিতে আগে ভাগে সিরিজ জিতে নেয়ার দ্বিতীয় সুযোগ তাদের। আজ জোহানেসবার্গে দু’দলের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচে এমন সমীকরণ থাকছে। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। টেস্ট সিরিজ দাপটের সঙ্গে জেতার পর ওয়ানডে সিরিজেও ধারাবাহিকতাটা ধরে রেখেছে তারা। টানা দুই ম্যাচ জিতেছে ইয়ন মরগানের দল। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকরা। ইংল্যান্ডের ৩১৮ রান টপকে জিতে গেছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। ফলে হারানো আত্মবিশ্বাসটাও ফিরে এসেছে প্রোটিয়া শিবিরে। বিশেষ করে যে ব্যাটিং নিয়ে যে সমস্যা সেটা কাটিয়ে ওঠার একটা ভাল ইঙ্গিত দেখা গেছে। দারুণ শতক হাঁকিয়েছেন দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও হাশিম আমলা। তারা যেভাবে ব্যাটিং করেছেন এক সময় মনে হচ্ছিল কোন উইকেট না হারিয়েই জিতে যাবে প্রোটিয়ারা। ইংলিশ বোলারদের এই প্রথম কোন ম্যাচে অসহায় মনে হয়েছে। যদিও আদিল রশিদ দারুণ বোলিং করেছেন। বাকিদের ওপর ঝড় বইয়ে দিয়েছেন এ দুই ওপেনার। এই ম্যাচে উভয়দলের ব্যাটসম্যানরা সেঞ্চুরিয়ানের ফ্ল্যাট উইকেটে রানোৎসব করেছেন। এ কারণে উভয়দলেরই এখন বোলিং নিয়েই ভাবনা থাকবে আজকের ম্যাচে। যদিও ব্যাটিং স্বর্গ হিসেবেই গড়া হয়েছে উইকেটগুলো, কিন্তু বেশ কয়েকজন বোলারের ঠিক জায়গায় বল ফেলতে না পারাটাও বড় প্রশ্ন হয়ে গেছে। স্পিনার ইমরান তাহিরও তেমন সুবিধা করতে পারেননি। সে কারণে প্রোটিয়ারা আজকের ম্যাচে তাহিরের বিকল্প হিসেবে অন্য কাউকে একাদশে নেয়ার কথা ভাবতে পারে।

একইভাবে ইংল্যান্ডের পেসার ক্রিস জর্ডান গত কয়েক ম্যাচ ধরেই তেমন আহামরি কিছু করতে পারেননি। তৃতীয় ম্যাচে তাকে আরও বিপর্যস্ত দেখিয়েছে। ডেভিড উইলি অবশ্য ভালই করছিলেন কিন্তু সেটা নির্দিষ্ট কোন প্রভাব বিস্তারে ব্যর্থ হয়েছে। এ দু’জনের চেয়ে বরং বেন স্টোকসের বলেই কিছুটা নিয়ন্ত্রণ দেখা গেছে। অবশ্য প্রোটিয়াদের দুই পেসার কাইল এ্যাবোট ও কাগিসো রাবাদা যথেষ্ট ভাল বোলিং করেছেন। দুটি করে উইকেটও তুলে নিয়েছেন। তাই পেস আক্রমণ নিয়ে খুব বেশি ভাবনা নেই তাদের। কিন্তু আজকের ম্যাচে এটা নিয়ে কিছুটা ভাবনাতেই থাকবে ইংলিশরা। তবে ব্যাটিংয়ে বরাবরের মতোই দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে জো রুটের দারুণ সেঞ্চুরি বড় একটা সংগ্রহও এনে দিয়েছিল ইংলিশদের। কিন্তু বোলিং ব্যর্থতাতে আর সেটাকে কার্যকরী করে তুলতে পারেনি সফরকারীরা। এছাড়া এ্যালেক্স হেলস ও স্টোকস দারুণ দুটি অর্ধশতক উপহার দিয়েছেন। এবার সিরিজ জয়ের আরেকটি সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বোলিংয়ের ব্যর্থতা পুষিয়ে উঠতে হবে তাদের। তবে আজ হারলেও শেষ ম্যাচে আরেকবার সে সুযোগটা থাকবে সফরকারীদের। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার আরেকবার জিততেই হবে। এর বিপরীত কিছু ঘটলে শেষ ম্যাচটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতা হয়ে যাবে।

নির্বাচিত সংবাদ