১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার কারণ জিন

টুটুল মাহফুজ

অনেকেই আছেন যারা সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠেন। আবার এমন মানুষের অভাব নেই যারা রাতে ঘুমানই না। তাদের ঘুম শুরু হয় সকাল থেকে। মা-বাবা বিশেষ করে বাড়ির বড়রা ঘুমানোর এ অভ্যেসকে সহজভাবে সমর্থন করে না। অনেকেই দেরি করে ঘুমানো আর ঘুম থেকে ওঠার কারণও হয়তবা অনুসন্ধান করেছেন। সম্প্রতি গবেষকরা ঘুম নিয়ে এক গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, যেখানে সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা বা দেরি করে ঘুমানোর কারণ জানা গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মূলত জেনিটিক কারণেই ঘুমে এ অনিয়ম হচ্ছে। অর্থাৎ আপনার দেরি করে ঘুমানো আর ঘুম থেকে ওঠায় যারা চিৎকার করছেন তারাই আসলে বহন করছে ঘুমের এই জিন!

ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর দৈনন্দিন কর্মকা-ের ফাঁকে বিশ্রাম নেয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যখন সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া থেমে থাকে। নিষ্ক্রিয় জাগ্রত অবস্থার সঙ্গে ঘুমন্ত অবস্থার পার্থক্য হলো এ সময় উত্তেজনায় সাড়া দেয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়। মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী এবং অন্য বেশকিছু প্রাণীর (যেমন কিছু প্রজাতির মাছ, পাখি, পিঁপড়া এবং ফ্রুটফ্লাই) অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নিয়মিত ঘুম আবশ্যক। ঘুমন্ত মানুষের চেহারায় এক অজানা অতিরিক্ত আবেগ অনুভূতি কাজ করে। যা গোপন এক প্রাকৃতিক নিরাপত্তা দেয়।

ঘুমিয়েও কমানো যায় ওজন

বেশি ঘুমালে মানুষ মোটা হয়ে যায়- এই ধারণাটাকে বোধহয় আগামীতে হেসেই উড়িয়ে দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম বেশি হলে বরং ওজন কমে। এর কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, ঘুম বেশি হলে বিপাক প্রক্রিয়া ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়, ফলে যেসব খাদ্য উপাদান মেদ বাড়ায় সেগুলো হজম হয়ে যায়। সুতরাং মেদ কমাতে শুধু খাওয়া-দাওয়া, ব্যায়াম, খেলাধুলাই নয়, পাশাপাশি ঘুমের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।

ঘুম ভুল কমায়

হ্যাঁ, কাজে ভুলের হারও কমায় ঘুম। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নির্ভুল কাজের জন্য খুবই দরকার। প্রয়োজনমতো বিশ্রাম নিলে শরীর ও মন দীর্ঘক্ষণ কাজের ধকল সহ্য করার মতো করে প্রস্তুত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভাল ঘুমের পর মানুষ নাকি শব্দ ভালভাবে শোনে, সব ধরনের রং পরিষ্কার দেখে, এমনকি বোঝার ক্ষমতাও নাকি বাড়ে।

ক্লান্তি দূর করে, শক্তি জোগায় ঘুম

সুস্থ জীবনের জন্য দিনে দুবার ঘুমানো দরকার। রাতের ঘুমের বাইরে একবার সামান্য একটু ঘুমিয়ে না নিলে কর্মক্ষমতা কমে। মন-মেজাজেও তার প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাজের ফাঁকের সামান্য ঘুমও হৃৎস্পন্দনের হার শতকরা ৫ ভাগের মতো কমায় এবং কাজে মনোনিবেশের ক্ষমতা বাড়ায় শতকরা ৩০ ভাগের মতো।

ভাতঘুম শরীরের জন্য ভাল

দিনের বেলায়ও ক্ষণিকের জন্য হলেও অনেককে ঘুমে ঢলে পড়তে দেখা যায়। আধুনিক জীবনযাত্রার চাপে ভাতঘুম তো লোপ পেতে বসেছে। কিন্তু এমন ‘পাওয়ার ন্যাপ’ শরীরকে চাঙ্গা রাখতে অত্যন্ত জরুরী।

প্রেম বাড়ায়

ঘুম ভাল হলে শরীরে রক্তপ্রবাহ শতকরা ৭ ভাগ বেড়ে যায়। এর ফলে রক্ত শরীরের সব অংশেই পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞরা মানুষের অনুভূতিতেও ঘুমের খুব ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করেছেন। ঘুম ভাল হলে নাকি প্রিয়জনের প্রতি আকর্ষণ এবং ভালবাসাও বাড়ে! একদিন পরই যেহেতু বিশ্ব ভালবাসা দিবস, তাই একটু ভাল করে ঘুমিয়ে নিন।

যদিও অনেক গবেষক এ অনুসিদ্ধান্তের বিরোধিতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন কেউ তাড়াতাড়ি ঘুমোলে স্বভাবতই সকালে উঠবেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কিছু কারণে মানুষের ঘুম স্বাভাবিক হতে নাও পারে। যেমন, কেউ যদি অত্যধিক মানসিক টেনশনে থাকে, ডিপ্রেশনে থাকে। বিজ্ঞানীদের এ গবেষণা প্রতিবেদন ২ ফেব্রুয়ারির ন্যাচার কমিউনিকেসন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র : লাইভ সায়েন্স