২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বসন্ত ছুঁয়েছে নারীকে...

  • মাহবুবা সুলতানা

আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা

কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে...

বাংলাদেশের উৎসবের রঙে একাকার হয় নারী। বসন্ত এলেই নারী মনে লাগে বসন্তের অনাবিল ছোঁয়া। তারা ফুলে ফুলে নিজেকে সাজাতে চায় বসন্তের প্রথমদিনে। কোন শাড়ির সঙ্গে কোন চুড়ি আবার এলো চুলগুলোকে কোন রঙের ফুলে জড়ালে ভাল লাগবে; সেসব নিয়ে ভাবতে শুরু করেন উচ্ছল নারীরা। বসন্তে যেন সব মেয়েরই পছন্দ শাড়ি। অন্তত একদিনের জন্য হলেও বাঙালীর নারীরা সাজে হলুদ আর বাসন্তী রঙে। যেন পুরো বাংলা ছেঁয়ে যায় হলুদে-বাসন্তী রঙের অপরুপতায়।

বসন্ত, নতুন পাতার দিন। সজিবতার দিন। শীতের গাঢ় কুয়াশা থেকে, রিক্ততা থেকে, নতুনত্বের এ আহ্বানে আজ মাতবে শিশু কিশোর যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও। নতুন বছরকে সাদরে গ্রহণ, বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় উৎসবের পাশাপাশি এই দিনটিও ঠাঁই করে নিয়েছে বাঙালীর তাবত নারীর হৃদয়ে।

বাংলা বসন্তের দিন স্বপ্নীল সাজে প্রকৃতি সাজবে বাহারি রঙে। আর অন্যদিকে বাহারি পোশাকে প্রিয় মানুষটির দৃষ্টি আকর্ষণে সাজবে কপোত-কপোতি। আর চোখে-মুখে আনন্দের নহর নিয়ে আসা প্রিয় মানুষটির মুখ থেকে ভালবাসার প্রস্তাব শুনতেও ব্যাকুল হয়ে উঠবে প্রেয়সী নারী।

ঘরে ঘরে রঙের মেলার পার হতেই চলে আসে ভালবাসার রঙ। ভালবাসা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর কোমল দুরন্ত অনুভূতি। ভালবাসা নিয়ে ছড়িয়ে আছে কত কত পৌরাণিক উপাখ্যান। সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি সর্বত্রই পাওয়া যায় ভালবাসার সন্ধান। প্রতিবছর ১৩ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় বসন্তের দিন হিসেবে। তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাসে সারাবিশ্ব হারিয়ে যায় ভালবাসায়।

এদিনে বন বনান্তে কাননে কাননে পারিজাতের রঙের কোলাহলে ভরে ওঠবে চারদিক। কচি পাতায় আলোর নাচনের মতোই বাঙালীর মনেও লাগবে রঙের দোলা। হৃদয় হবে উচাটন। পাতার আড়ালে-আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহুকুহু ডাক, ব্যাকুল করে তুলবে অনেক বিরোহী অন্তর। কবি তাই বলেছেন, ‘সে কি আমায় নেবে চিনে/এই নব ফাল্গুনের দিনে...।’

এদিনেই অসংখ্য রমণী বাসন্তী রঙে নিজেদের রাঙিয়ে রাজধানীর রাজপথ, পার্ক, বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরসহ পুরো নগরী সুশোভিত করে তোলে। বসন্তের পূর্ণতার এ দোলা ছড়িয়ে পড়ুক বাংলাদেশের সর্বত্র এবং সারা পৃথিবীর সকল বাঙালীর ঘরে ঘরে। কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরা পাতার শুকনো নূপুরের নিক্কন, প্রকৃতির মিলন, সব এ বসন্তেই।

শীতের খোলসে ঢুকে থাকা বন-বনানী অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠে। পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তে সাজ সাজ রব। আর এ সাজে মন রাঙিয়ে গুন গুন করে অনেকেই ফাগুনে গেয়ে উঠবেন ‘মনেতে ফাগুন এলো..।’

বসন্ত তারুণ্যের ঋতু বলেই সবার মনে বেজে ওঠে, কবির ওই বাণী ‘বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে। ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে, পয়লা ফাল্গুন আনন্দের দিনে।’ নারী সৃষ্টিকর্তার এক অপরূপ সৃষ্টি। পুরুষের অপূর্ণতা পূর্ণ হয় নারীতে। নব জীবন সৃষ্টিতে পুরুষ-নারী একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নারী জননী। নারী দেবী, মহাশক্তির আধার। নারী আসে মাতৃত্বের স্নেহ নিয়ে, প্রেয়সীর প্রেম নিয়ে। একটা বিশেষ সময়ে নর-নারী একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়, জন্ম নেয় প্রেম। শুরু হয় প্রেমের লুকোচুরি অভিসার যাত্রা। সমাজের সব বাঁকা চোখ উপেক্ষা করে নীরবে, নির্জনে মিলিত হওয়া। স্বপ্নের জাল বোনা। প্রাপ্তির আগে বা পরে সেই নারীকে কল্পনা করা হয় নানান সৌকর্যে, নানান গুণে, নানান মহিমায়।

নারী তুমি সুন্দর। অবশেষে বলতে হয় নারীর সৌন্দর্য আছে তার সংগ্রামে, সৌন্দর্য আছে উৎসবে। সংগ্রাম বিপ্লব নারী ছাড়া পূর্ণ হতে পারে না। ঠিক তেমনি পূর্ণ হয় না কোন উৎসব। বসন্তে যদি হলুদ শাড়ি পরা নারীর খোপায় গাঁদা ফুল না থাকত তবে কি বসন্তের রঙকে মানুষ অনুভব করতে পারত? বসন্ত যেন হয়ে যেত বিবর্ণ। প্রকৃতি যেন নারীর জন্যই হেসে ওঠে বসন্তে। আর ভালবাসা তো নারী ছাড়া ব্যর্থ। যেখানে নারী নেই, তার অনুভূতি নেই সেখানে ভালবাসা কোথায়? নারীর সৌন্দর্য বিচরণ করে বেড়ায় উৎসবে, সংগ্রামে, ভালবাসায়।