২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নারী, কবি অতঃপর ভ্যালেন্টাইনস ডে...

  • জাকিয়া সুলতানা জিতু

পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রাচীনতম, সবচেয়ে রোমাঞ্চকর, স্বপ্নীলা বিষয় হলো ভালবাসা। পৃথিবীর কোথাও খুঁজে এমন একজন নর-নারীকে পাওয়া যাবে না, যে জীবনে একবার হলেও প্রেমে পড়েনি বা ভালবাসেনি। অতি প্রাকৃতিক উপলব্ধি এই ভালবাসা। ভালবাসা হচ্ছে এক প্রকার সঞ্জীবনী সুধা। যা পান করে প্রতিটি নর-নারী তাদের জীবনকে বিচিত্রভাবে অভিশিক্ত করে। সেই সঙ্গে জীবনকে করে তোলে প্রফুল্ল।

‘বিশ্ব ভালবাসা দিবস’ বা ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ সারা বিশ্বের কোটি কোটি প্রেমিক যুগল এর জন্য পরম আকাক্সিক্ষত একটি দিন। প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি একযোগে সারা বিশ্বে এই দিবসটি পালন করা হয়। পৃথিবীতে যতগুলো বিশেষ দিবস রয়েছে তার মধ্যে তরুণ-তরুণীদের নিকট এই দিনটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঋতুরাজ বসন্তের ১ম দিনের রেশ কাটতে না কাটতেই এই দিনটি আমাদের সামনে হাজির হয়। আমাদের এদেশে এখন এটি ঐতিহ্য হিসেবে পালিত হচ্ছে। প্রেমিক- প্রেমিকারা এই দিনটিকে ঘিরে বছরজুড়েই কল্পনার জগত সাজাতে থাকেন। সকল বাধা-বিপত্তিকে পাশ কাটিয়ে সবাই চায় এই বিশেষ দিবসের কিছুটা সময় প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যে কাটাতে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে নানা ধরনের প্রস্তুতিও লক্ষ্য করা যায়।

বিধ্বস্ত পৃথিবীতে বার বার প্রেম আসে। অলংকারবিহীন গাছে গাছে ফুল ফোটে, পাখি গান গায়। তখন প্রিয়া প্রেমিকের কাছে হয়ে ওঠে এক অনাবিল আনন্দময়ী উপহার। নারীর প্রেমে মশগুল হয়ে পুরুষ হয়ে উঠেছে কবি। আবার অনেক কবি, লেখক সাহিত্যে তার ভালোবাসার মানুষের অবয়ব নির্মাণ করে গেছেন। নজরুলের ব্যক্তি জীবনের মতো তার কবি মানসেও নারী বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তার সাহিত্য প্রতিভা বিকাশে নারীদের অবদান যে বেশ অর্থবহ তা কবিও সরলচিত্তে স্বীকার করেছেন। ১৯৩৭ সালের ১ আগস্ট কবি তার প্রথম স্ত্রী নার্গিস খানকে চিঠিতে লিখেছেন, ‘আমার অন্তর্যামী জানেন, তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কি গভীর ক্ষত; কি অসীম বেদনা। তুমি এই আগুনের পরশ মানিক না দিলে আমি অগ্নিবীণা বাজাতে পারতাম না, আমি ধূমকেতুর বিস্ময় নিয়ে উদিত হতে পারতাম না।’

অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের নারী ধারণা রোমান্টিকতায় আবৃত। বাস্তব নারীর চেয়ে তিনি অনেক বেশি দেখেছেন স্বপ্নের নারীকে, কল্পনার নারীকে। রোমান্টিক রবীন্দ্রনাথের চোখে নারী মাত্রই তরুণী, রূপসী, মানস সুন্দরী, দেবী। রবীন্দ্রনাথ নারীর উপাসক, হাজার বাস্তব রচনা করেন লোকোত্তর নারীর; কিন্তু বাস্তবে নারী তাদের কাছে গৃহিণী, আদরের নামে যাকে বলা হয়, ‘গৃহলক্ষ্মী’। রবীন্দ্রনাথের নারী হয় স্বপ্নে অথবা গৃহে অবস্থান করে, অন্যত্র সে থাকতে পারে না।

ভালবাসার অনুভূতিই তো সবচেয়ে বড়। তবে এর প্রকাশটাও থাকা চাই। বিশেষ দিনে প্রিয়জনকে ছোট্ট একটি উপহার, শুভেচ্ছা কার্ড আর ফুল দিয়ে নতুন করে যদি একবার বলি ‘তোমায় বড় ভালোবাসি’ তবে মন্দ কী? একজন প্রেমময় নারীর কাছে ভালবাসার মানুষ হতে পারে বিশেষ একজন। ‘তোমারে যেন ভালবাসিয়াছি শতরূপে শতবার, জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এ দুই লাইন দিয়ে খুব সহজেই নারী, কবি আর ভালবাসার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা যায়।