২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিল্প-সাহিত্যের নান্দনিক উঠোন

  • রফিকুজ্জামান রণি

ত্রিনদী

বাংলাসাহিত্যের শক্তিমান কবি বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের চমৎকার একটি সাক্ষাতকারকে মলাটবন্দী করে এবং ‘শুভবোধের শক্তিতে খুলে যাক বন্ধ কপাট’-এই প্রত্যয়কে ধারণ করে চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত হলো সাহিত্যের ছোট কাগজ ‘ত্রিনদী’। তরুণ কবি কাদের পলাশের সম্পাদনায়। দ্বিতীয় বারের মতো প্রকাশিত সাহিত্যের এই ছোট কাগজটি মূলত দেশের ঐতিহ্যবাহী ছোট কাগজগুলোর পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আত্মপ্রকাশ করেছে। এতে দেশখ্যাত লেখকদের পাশাপাশি হাল আমলের তরুণদের লেখারাও ঠাঁই পেয়েছে। চলতি সংখ্যার সূচনাপর্বে রয়েছে কালজয়ী নাট্যজন মুনীর চৌধুরীর ওপর লেখা অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের অত্যন্ত গবেষণালব্ধ একটি প্রবন্ধ। প্রবন্ধটি পাঠের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের পাঠক শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাবে। এ সংখ্যায় আরও যারা প্রবন্ধ লিখেছেন তারা হলেন : মহীবুল আজিজ, আহমাদ মোস্তফা কামাল, নাজিব ওয়াদুদ, বদরুল হায়দার ও সৌম্য সালেক। একটি প্রবন্ধ ব্যতিরেকে প্রায় প্রত্যেকটি প্রবন্ধেই অত্যন্ত সুখপাঠ্য।

ত্রিনদীর চলতি সংখ্যায় চমৎকার কিছু গল্প প্রকাশ করা হয়েছে। লিখেছেন : স্বকৃত নোমান, মেহেদী উলাহ, অঞ্জন আচার্য, খালেদ চৌধুরী, জসীম মেহেদী, জাহিদুল ইসলাম, কাদের পলাশ, কবির হোসেন মিজি ও মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। তন্মধ্যে স্বকৃত নোমনের ‘যেখানেই যাও’ শিরোনামের গল্পের আদলে ফুটে ওঠেছে দুর্যোগঘন পরিবেশ এড়িয়ে চলা একজন ভীতু মানুষ বারবার দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে পতিত হওয়ার নির্মম বাস্তবতার চিত্র। মেহেদী উল্লাহর গল্পখানা কিছুটা রম্যধর্মী মনে হতে পারে তবে লেখাটি অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ এবং সময়োপযোগী একটি গল্পও বটে। কিন্তু খালেদ চৌধুরীর গল্পে যদিও অতিমাত্রায় বিচ্ছিন্নতা চোখে পড়ে তবে হাজার বছরের গ্রামবাংলায় প্রচলিত সরলসোজা মানুষের জীবনাচারণ তথা বিশ্বাস অবিশ্বাসের মিথগাথা, প্রবাদ-প্রবচন ও সুখদুঃখের কথামালা সেখানে সূক্ষ্মভাবে ধরা দিয়েছে। এ সংখ্যায় অনেকগুলো ভাল কবিতার পাশাপাশি কিছু দুর্বল কবিতাকেও জায়গা দেয়া হয়েছে। হয়তো বা নবীন প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের প্রাধান্য দেয়ার কথা বিবেচনা করেই সম্পাদক কিছু দুর্বল কবিতা ঠাঁই দিয়েছেন। এ সংখ্যার কবিরা হলেন : বোহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, সোহরাব পাশা, মাসুদ খান, তছলিম হোসেন হাওলাদার, শাহ বুলবুল, অতনু তিয়াস, মিজান মালিক, পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, ইকবাল পারভেজ, জিয়াবুল ইবন, সাদী শাশ্বত, মাইনুল ইসলাম মানিক, অনু ইসলাম, সুমন কুমার দত্ত, নূরে আলম পাটওয়ারী, আবু ইউসূফ, আশিক বিন রহিম, হারুন অর রশিদ, সজিব খান, সোহেল বীর প্রমুখ এবং সংলাপ কবিতা লিখেছেন পিয়াস মজিদ। পিয়াস মজিদের সংলাপ কবিতাটি ত্রিনদীকে অনেক বেশি ঋদ্ধ করেছে সে কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হয়। এর বাইরেও ‘বিশ্ব ঐহিত্য সুন্দরবন : দুর্নিবার আকর্ষণে গিয়েছি যেখানে’ শিরোনামে চমৎকার একটি ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন কাজী শাহাদাত।

এ সংখ্যায় প্রকাশিত সাক্ষাতকারটি এ প্রজন্মের কবি-লেখকদের অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করবে। অনেক অতলের কথাই বেরিয়ে এসেছে তার সাক্ষতকারে। এ সংখ্যায় দুটি বই আলোচনা প্রকাশ করা হয়েছে। আলোচনা লিখেছেন আয়েশা রফিক। জিলানী আলমের চমৎকার প্রচ্ছদে ঠাসা ত্রিনদীর দ্বিতীয় সংখ্যার মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ১০০ টাকা।

তরী

বইমেলাকে সামনে রেখে সম্প্রতি চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত হলো কবিতার কাগজ ‘তরী’র তৃতীয় সংখ্যা। তরুণ কবি আশিক বিন রহিমের সম্পাদনায়। এতে দেশখ্যাত কবিদের পাশাপাশি হাল আমলের তরুণদের কবিরাও ঠাঁই পেয়েছে। চলতি সংখ্যার সূচনাপর্বে রয়েছে ক্ষণজন্মা কবি আবুল হাসানের ‘উচ্চারণগুলি শোকের’ শীর্ষক শিরোনামের কবিতাটির পুনর্পাঠ। প্রবন্ধ লিখেছেন শান্তনু কায়সার এবং সাক্ষাতকার দিয়েছেন মুখলেসুর রহমান মুকুল। এ সংখ্যায় কবিতা লিখেছেন আল মাহমুদ, অসীম সাহা, আইউব সৈয়দ, আমিনুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, শাহ বুলবুল, বীরেন মুখার্জী, শাফিক আফতাব, সৌম্য সালেক, হাসান হাবিব, সিকতা কাজল, পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, তছলিম হোসেন হাওলাদার, সানাউল্লাহ সাগর, বঙ্গ রাখাল, ইকবাল পারভেজ, আনোয়ার কামাল, দীপ্র আজাদ কাজল, রফিকুজ্জামান রণি, মাহফুজ রিপন, অনু ইসলাম, মাইনুল ইসলাম, সুমন কুমার দত্ত, শামস্ আরেফিন, অবরুদ্ধ সকাল, কাদের পলাশ, সাদি শাশ্বত, দুখাই মুহাম্মদ, ইলিয়াস বাবর, মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ, সীমান্ত হেলাল, শিশুক সেলিম, জসিম মারুফ, মোস্তফা হায়দার, আক্তারুজ্জামান লেবু, জসীম মেহেদী, ওসমান সজীব, হারুন অর রশিদ, সজীব খান প্রমুখ। কবিতা ও কবিতা ভাবনা লিখেছেন মনসুর আজিজ এবং গীতিকবিতা লিখেছেন তপন বাগচী এবং দীর্ঘকবিতা লিখেছেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। মণিপুরী কবিতা লিখেছেন শুভাশিস সিনহা। তৃতীয় সংখ্যায় অনুবাদ কবিতা লিখেছেন দিলারা রিঙকি, ওমর আলীর কবিতার ইংরেজি ভাষারূপ দিয়েছেন মাইনুল ইসলাম মানিক। রতœগর্ভা চাঁদপুরের কৃতী সন্তান বেগম পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান বেগমের উপরে আলোচনা লিখেছেন শাহমুব জুয়েল। প্রচ্ছদ করেছেন নাজিব তারেক। মূল্য ধরা হয়েছে ৫১ টাকামাত্র।