১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বদেশ রায়-এর গুচ্ছ কবিতা

  • শাদা রাত

চাঁদের আলোয় শাদা ছিলো সে রাত

পাহাড়ে সেদিন চলছিলো যেন এক আলোর উৎসব
চাঁদের আলো, অনেক ট্যুরিস্ট তারপরেও কেন যেন
একাকী হয়ে যাই- মনে হয়, কেন এ চাঁদের আলোয়
এভাবে স্নান করছি- তার থেকে কি ভালো ছিলো না
বাথটাবে শরীর ডুবিয়ে হলুদ হুইস্কির গ্লাস হাতে নিয়ে
হোটেলে বসে থাকা- যা হতে পারতো
আমার একান্ত নিজস্ব জগত
তার বদলে এত মানুষের মাঝে উজ্জ্বল চাঁদের
আলোয় কেন বিবর্ণ আমি দাঁড়িয়ে আছি!
হঠাৎই সুধা ওয়াংথন এগিয়ে এলো
হাতে তুলে দিলো এক গোছা পাহাড়ি ফুল
আরেক হাতে রাখলো তার নরম হাত।
বললো, এই চাঁদের আলোয় না এলে ভুল করতে না
শরীরটা নড়ে উঠলো, সুধার মুখের দিকে নয়
আকাশের দিকে গেলো চোখ, দেখলাম চাঁদ কত
সুন্দর অথচ কতদিন তা ভুলে ছিলাম।
নিজেকে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর মনে হলো
মনে হলো একটু আগে লোকাল ফুডের পসরা
নিয়ে যে মেয়েটি চাঁদের আলোয় গান গাইতে গাইতে
পাহাড়ের ওপরের কুটিরের দিকে গেল
ওর থেকে ধনী কোন টেলি টাইকুনও নন।
আর আমি তো কোন্ ছার।

 

বসরার গোলাপ বাগান

হাতখানি দাও না হাতে, একটা চুমু খাই
খুব দোষ হবে কী তাতে, কাল রাতেও তো
তোমার স্বামী খেয়েছে চুমু তোমার ঠোঁটে
তার থেকে আমাকে তো তুমি অনেক বেশি ভালোবাসো
তাই হাতে একটা চুমু খেলে কোন দোষ নেই।
এই তো দেখ লক্ষ্মী মেয়ে কেমন হেসে বললে
চুমু যখন খাবে তখন ঠেঁটেই খাও, আহা! মিশরীয়
মদিরা কেমন বয়ে গেলো শরীরের কোষে কোষে।
থমকে গেলে কেন, মিশরের ধ্বংসস্তূপের কথা মনে
পড়ছে তোমার, মনে পড়ছে সিরিয়ার শুষ্ক কোন গোলাপী
ঠোঁটকে- যেখানে কতদিন পড়েনি কোন চুমু।
আমার না ভীষণ বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে তোমার
আমার এই চুমু আবার মিশরে মদির ফোয়ারা বইবে
সিরিয়ার পাহাড়ে, বাতাসে বাজবে সুরেলা ধ্বনি।
আসলে আমরা মাঝে মাঝে চুমু খেতে ভুলে যাই
বড় বেশি ভয় পাই স্বামীকে তাই তো অমন করে
আমাদের শরীরে ধ্বংসস্তূপ নেমে আসে।
এসো না রাজপথে আমরা শত শত ঠোঁটে ঠোঁট মিলাই
দেখবে কেমন গোলাপের বাগানে ভরে উঠবে বসরা।
আমাকে খুব ক্লান্ত মনে হচ্ছে, দাও না তোমার কোলে একটু
মাথা রাখতে, রাখো তোমার গোলাপি হাতখান আমার কপালে
দেখো আমারও মাথায় ফুটে উঠবে রক্তকরবী, আমিও হব রাজা।

 

জলতরঙ্গ

বিনয় কেমন আছো তুমি? বিনয় শুনতে পাচ্ছো কি আমাকে?
বাড়িতে এখন কখন ফেরো তুমি? ভোর রাতে গঙ্গার হাওয়া খাও?
বিনয়, আমার খবর নিতে একবারও ইচ্ছে করে না তোমার
কোথায় আছি, কোন দেশে আছি।
তুমি অনেক ভালো ছেলে ছিলে বিনয়, আমরা তোমার মত ছিলাম না
তোমার মত কোনদিন গঙ্গাকেও ভালোবাসিনি, বরং লুকিয়ে চুরিয়ে
ওই সব নষ্ট মেয়েদের পাড়ায় গেছি দু’চার দিন।
রাত গড়িয়ে যেতে রঙিন হয়েছে চোখ। তখন তুমি ছিলে বড্ড ভালো ছেলে
গলির কাকারা বলতো, দেখ না বিনয়ের দিকে তাকিয়ে
তোরা বিনয় হতে পারিসনে? পুটুদি হেসে বলতো, ওরা হবে বিনয়
তাহলে গলির মোড়ে শিস দেবে কারা?
যাক ওসব কথা, বিনয় কতদিন পরে ডাকছি তোমায়,
বাড়ি আছো বিনয়? শুনতে পাচ্ছো আমাকে?
জানি তুমি শুনতে পাবে না আমাকে, আজকাল কেউ আমাকে
শুনতে পায় না। অথচ বিনতা একদিন বলেছিলো, তোর মাসির
জলতরঙ্গ বাজনার থেকে তোর ডাক অনেক ভালো।
বিনয় গঙ্গার হাওয়া অনেক জোরে বইতে শুরু করেছে
তুমি শুনতে পাচ্ছো আমাকে?

 

রঙিন কষ্ট

স্বপ্ন দেখার সময় কই, আকাশ গেছে ঢেকে
চাঁদ উঠেছিলো সেই সে কবে, বেনোজল কি
রেখেছে আর মনে। তারারা এখন দেয় না উঁকি
কার্নিশগুলো ঢাকা। ইঁদুরেরা সব আধারগুলো
মাথায় নিয়ে ঘোরে। কুয়াশা ঢাকা বিলে এখন
পড়ে কি আর কোন তরুণীর পা!
একটি পাখি অনেক দূরে গিয়েছিলো উড়ে
ফিরবে বলে জানিয়েছিলো সাগরকে সে
ঝড় আসারও আগে। ঝড়ের শেষে
সাগর কি আর পেয়েছিলো সময়, ফিরছে কিনা
সেই পাখি, আসবে বলে যে গিয়েছিলো উড়ে।
কষ্টগুলো দারুণ রঙিন, হাত বাড়িয়ে চারপাশেতে
দাঁড়ায়, তাদের কাছে ভিক্ষে মেঙে লাভ কি
বলো, তার থেকে আলিঙ্গনে দাও না ভিজিয়ে
তাকে। যাবার আগে জেনে যাই, চাঁদ না থাকুক
রঙিন অনেক কষ্ট ছিলো চাঁদের মতই নরম।