২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কর্মসংস্থান প্রকল্পের কোটি টাকা লোপাট

আজিজুর রহমান ডল, জামালপুর ॥ তদারকির অভাবে ইসলামপুর ও মেলান্দহে অতিদরিদ্রদের জন্য চল্লিশ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্প বাস্তবায়নে কোটি টাকা লুটপাট হলেও নির্বিকার স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। এতে হাজার হাজার হতদরিদ্র নারী-পুরুষ শ্রমিকরা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। গ্রামীণ জনপদের হতদরিদ্র মানুষের জন্য চল্লিশ দিন দুই বেলা দুই মুঠো খাবার নিশ্চিত করতে সরকার বছরে দুই ধাপে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করে। একজন শ্রমিক প্রতিদিন ২শ’ টাকা মজুরির ভিত্তিতে চল্লিশ দিন মাটির কাজ করবে। সপ্তাহে ৫ দিন কাজ শেষে ব্যাংক থেকে তাদের মজুরি উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করবেন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জেলার অন্যান্য উপজেলার ন্যায় ইসলামপুর উপজেলায় এই প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) আওতায় ১২টি ইউনিয়নে ৫৫টি প্রকল্পে ৩ হাজার ২শ’ ৬২ শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা এবং নন ওয়েজ কস্ট বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৮ লাখ টাকা। উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এই ৫টি প্রকল্পে ৩শ’ ৩৭ জনের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এ ৫টি প্রকল্পের মধ্যে ফুলকারচর, পোড়ারচর গঙ্গাপাড়া ও পোড়াবাড়ি এলাকায় ৩টি প্রকল্পে সরেজমিন ঘুরে কোন শ্রমিকের দেখা মেলেনি। গত এক সপ্তাহে উপজেলা চরপুটিমারী, চরগোয়ালিনী,পলবান্ধা কুলকান্দি, পার্থশী, চিনাডুলি ও নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের একাধিক প্রকল্পে গিয়ে একই চিত্র পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কাগজে কলমে দেখানো এসব প্রকল্পে সামান্য মাটি কাজ দেখা গেলেও প্রকল্পের রাস্তায় কোন সাইন বোর্ড বা শ্রমিক নেই। অথচ স্থানীয় জনগণকে অবহিত করার জন্য প্রতিটি প্রকল্পের সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে তাতে শ্রমিক সংখ্যাসহ বরাদ্দকৃত অর্থ, মাটির পরিমাণ ও কার্যদিবসের বিবরণ থাকার নিয়ম রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তদারকি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সুবিধাভোগী শ্রমিকদের বাদ দিয়ে ভুয়া নাম ব্যবহার করে কোটি টাকা লোপাট করে নিচ্ছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রশ্ন করা হলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা (টেগ অফিসার) ও ইসলামপুর উপজেলা সমবায় অফিসার নাজমুল হক প্রকল্পে শ্রমিক না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রথম দিকে কিছু কাজ হয়েছে, সে জন্য ১৬ দিনের বিল দেয়া হয়েছে যেহেতু আর কোন কাজ হয়নি এবং সময়ও শেষ পর্যায়ে সেহেতু আর কোন বিল দেয়া হবে না। এসব অনিয়ম ও কোটি টাকা লোপাটের বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, যেসব প্রকল্পে অনিয়ম হচ্ছে তা তদন্ত করা হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে বিল প্রদান না করে তা ফেরত দেয়া হবে।