২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাদারীপুরে ৬৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত ফি আদায়

  • ফেরত দিচ্ছে না ৬৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর, ১১ ফেব্রুয়ারি ॥ চলতি বছর এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে জেলার ৪ উপজেলার ৬৫ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত ৬৩ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড ঢাকার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত টাকা শিক্ষার্থীদের ফেরত দিয়েছে কি না তার প্রতিবেদন ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেয়ার তথ্য জমা দেননি বলে জানা গেছে। তবে ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের এসএসসি কর্নারে জরুরী নোটিস হিসেবে থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস চিঠি সম্পর্কে অবগত নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এ ছাড়া ঢালাও অভিযোগ মানতে নারাজ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণের পরপরই গোপনে তদন্ত করে সারাদেশে অতিরিক্ত ফি আদায়কারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলায় ১৮টি, রাজৈরে ১৪টি, কালকিনিতে ১৬টি ও শিবচরে ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ৬৩ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ সত্ত্বেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেয়নি।

বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত পত্রে মাদারীপুর জেলার ৪ উপজেলার ৬৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে সরকারী বেসরকারী নামীদামী সব স্কুল মাদ্রাসার নাম।

উমেদপুর অজিফা রবিউল্লাহ লাইসিয়াম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ হোসেন বলেন, “এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছি কিনা এ ব্যাপারে ইতোপূর্বে তো আমার কাছে কোন সংস্থা বা ব্যক্তি জানতে চায়নি। এই পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোন চিঠি বা আদেশ আমি পাইনি। টাকা ফেরত দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্দেশ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নিব।” দত্তপাড়া টিএন একাডেমির প্রধান শিক্ষক ও শিবচর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবদুল ওহাব মিয়া জানান, এসএসসি পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ বাবদ বোর্ড নির্ধারিত ফি’র চেয়ে এত বেশি (উল্লেখিত টাকা) টাকা নেয়া হয় নাই।’ আল বায়তুল মামুর সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুল মালেক মিয়া বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীরা যেখানে বেতনই দিতে পারেন না, সেখানে তারা এত টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করতে পারে না।” তিনি গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাদারীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান অসুস্থ থাকার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া গেল না।