১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রুপসেরা হয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

  • এসএ গেমস পুরুষ ফুটবল, শেষ চারে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত, বাংলাদেশ ২-১ নেপাল

রুমেল খান ॥ এসএ গেমস ফুটবলে বাংলাদেশ অলিম্পিক ফুটবল দলের প্রথম ম্যাচের পারফর্মেন্স দেখে কেউই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাই বৃহস্পতিবার গুয়াহাটির পল্টন বাজারের সাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ গ্রুপ ম্যাচে প্রতিপক্ষ নেপালকে কঠিন দল ভেবেই সমীহ করে খেলবে বাংলাদেশ- এমনটাই অনুমেয় ছিল। সেমিফাইনালে নাম লেখাতে বাংলাদেশের দরকার ছিল ড্র। কিন্তু অর্জিত হলো জয়। সেটা ২-১ গোলে। বিজয়ী দলের রায়হান হাসান ও নাবিব নেওয়াজ জীবন একটি করে গোল করেন। অথচ ম্যাচে পিছিয়ে ছিল ‘বেঙ্গল টাইগার’রা! প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তিটা হলো একটু বেশিই। ড্র করতে করতে জিতেই গেল লাল-সবুজরা ‘গুর্খালিস’দের বিপক্ষে। ফলে ‘বি’ গ্রুপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি তারা দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ ও স্বাগতিক ভারতের মোকাবেলা করবে। খেলাটি হবে সারুসাজাইয়ের ইন্দিরা গান্ধী এ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে। একই দিন একই ভেন্যুতে প্রথম সেমিতে মুখোমুখি হবে মালদ্বীপ-নেপাল।

সেমিতে খেলতে হলে বাংলাদেশকে জয় বা ড্র নয় ৪-০ গোলে হারলেও সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে বাংলাদেশ! এমন সমীকরণ নিয়ে খেলতে নেমে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ নেপালকে হারিয়েই লক্ষ্যপূরণ করে। বাংলাদেশের এ জয়ে কপাল পোড়ে ভুটানের। তারা আসর থেকে বিদায় নেয় রিক্ত হস্তে।

খেলা শুরুর দিকেই (তিন মিনিটে) গোল হজম করে চাপে পড়ে বাংলাদেশ! নেপালের অনন্ত তামাং গোল করলে ১-০ তে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। গোল খাওয়ার পর যেন আরও ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে বাংলাদেশের খেলা। অবশেষে ৪০ মিনিটে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে শাহেদের কাছ থেকে বল পান জীবন। বল পেয়ে জীবন তার পেছনে থাকা ডিফেন্ডার রায়হানকে বল পাস দিলে রায়হান কোন ভুল না করে মাটি কামড়ানো শটে বল পাঠিয়ে দেন নেপালের জালে (১-১)। এর দুই মিনিট পরেই আবারও জোড়া সাফল্য বাংলাদেশের! এবারের গোলদাতা জীবন। প্রথমার্ধ এগিয়ে থেকেই বিশ্রামে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে একের পর এক আক্রমণ করে নেপালের রক্ষণভাগকে চাপের মুখে রাখে বাংলাদেশ। ৭০ মিনিটে হেমন্তকে অবৈধভাবে বাধা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন অদিতিয়া চৌধুরী। বিপদটা নেপালেরই বেশি ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোন গোল করতে পারেনি বাংলাদেশ। নেপালও ম্যাচে সমতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ২-১ গোলের জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালের টিকেট পায় এসএ গেমসের বর্তমান ফুটবল চ্যাম্পিয়নরা।

শুরুটা ভুটানের বিপক্ষে হতাশার ড্র দিয়ে হলেও ওই দিনই ম্যাচ শেষে এ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হেমন্ত বলেছিলেন ‘নেপালের বিপক্ষে জিতেই সেমিফাইনালে যাব।’ হেমন্তর কথার মান রেখেছে বাংলাদেশ দল।

অথচ গত মঙ্গলবারই শেষ চারে নাম লেখাতে পারত বাংলাদেশ। ওইদিন তারা মুখোমুখি হয়েছিল ভুটান ফুটবল দলের। এই ম্যাচে ভুটানকে হারালেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দল নিশ্চিত করে ফেলত সেমিফাইনালে নাম লেখানো। কিন্তু ভুটানের সঙ্গে হতাশার ১-১ গোলে ড্রতে সেমিতে যাওয়া ঝুলে থাকে বাংলাদেশের। বছরখানেক আগেও বাংলাদেশের জন্য সহজ প্রতিপক্ষই ছিল নেপাল। কিন্তু সম্প্রতি তারা জিতেছে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা। অপরদিকে ওলপ্রেই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের যুবারা বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই। নেপালের গোল্ডকাপের দলটাই খেলছে এসএ গেমসে। তাই কোনমতেই বাংলাদেশের সহজ প্রতিপক্ষ বলা যাবে না নেপালকে। প্রথম ম্যাচে নেপালের শুরুটা ভুটানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় জয়ে। আর সেই ভুটানের সঙ্গেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ করেছে ১-১ গোলের ড্র! যে ভুটানের বিপক্ষে হেসে খেলে জয় পাওয়া উচিত বাংলাদেশের।

অনেক ফুটবলপ্রেমী অবশ্য মনে করেন, নেপালের বিপক্ষে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হতে পারলে তারা সেমিতে এড়াতে পারত শক্তিশালী ও স্বাগতিক ভারতকে। আবার অনেকেই মনে করেন, ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে পারলে এবং চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে বাংলাদেশের সুনাম বহুলাংশে বাড়বে।

এখন দেখার বিষয়, সেমির ম্যাচে বাংলাদেশ ভারতকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে উন্নীত হতে পারে কি না।