২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফিরছে নাশকতায়

ফিরছে নাশকতায়
  • দলীয়ভাবে মোটা টাকার বিনিময়ে চার্জশীট হালকা করানোর অভিযোগ ;###;কৌশল হিসেবে দেয়া হচ্ছে ভুল ঠিকানা ;###;সম্প্রতি শুধু শিবিরেরই ছাড়া পেয়েছে ১২৭ জন। এদের মধ্যে অন্তত ৮ জন সভাপতি ও ১০ জন সেক্রেটারি জেনারেল পর্যায়ের

গাফফার খান চৌধুরী ॥ জামিনে মুক্তি পেয়েই লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীরা। তারা গোপনে সংগঠিত হচ্ছে। নাশকতার নতুন নতুন কৌশল আঁটছে। তারই ধারাবাহিকতায় একের পর এক ব্লগার, প্রকাশক ও মুক্ত চিন্তার মানুষ হত্যা এবং এ ধরনের মানুষের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে। সরকারী নথিপত্র অনুযায়ী সম্প্রতি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে শুধু ছাত্রশিবিরেরই ১২৭ জন এবং নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ১৬ জন দুর্ধষ জঙ্গী জামিনে ছাড়া পেয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। তারা আদালতে হাজির হন না। এছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ৩২ জন এবং শিবিরের ১৯ জনের অধিকাংশই জামিনে ছাড়া পেয়ে গেছেন। তারা নিয়মিত আদালতে হাজির হন না। এদের মধ্যে অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

জামিনে ছাড়া পাওয়াদেরই একজন শফিউর রহমান ফারাবী। ব্যাপক আলোচিত একটি নাম। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হয়। সেই মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ছিলেন প্রকৌশলী রাজীব হায়দার শোভন। শোভনকে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবী থানাধীন পলাশনগরের নিজ বাসার সামনে রাত সাড়ে আটটার দিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন রাজীবের লাশের জানাযা অনুষ্ঠিত হয় শাহবাগে। নামাজ আদায়কারী ঈমামকে হত্যার হুমকি দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে ফারাবী। ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফারাবী লিখেন, যেই ইমাম থাবা বাবার (রাজীব) জানাযা পড়াবে, সেই ইমামকেও হত্যা করা হবে। জানাযার নামাজ হচ্ছে মুসলমানদের জন্য। কোন নাস্তিক-মুরতাদ, যে সারা জীবন আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে গালিগালাজ করেছে তার কখনও জানাজা হতে পারে না। থাবা বাবার (রাজীব) লাশ ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানার বাঘের খাবার হিসেবে দেয়া হোক। এমন মন্তব্যে সারাদেশে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায়।

২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকা থেকে ফারাবীকে গ্রেফতার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। ফারাবী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি মেসে থাকত। মেসে অভিযানে একটি ল্যাপটপ ও কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার হয়। পরে তাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে ফারাবী জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ছাত্র থাকা অবস্থায়ই তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষ সম্মান শ্রেণীর অনিয়মিত ছাত্র। এক পর্যায়ে ছাত্রশিবিরের নির্দেশেই তিনি নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ২০১০ সালে তাকে গ্রেফতার হতে হয়েছিল। গ্রেফতারের পর জামায়াত-শিবির ও নিষিদ্ধ হিযবুত তাহ্রীরের সহায়তায় জামিনে মুক্তি পান। জামিনে মুক্তি পেয়েই আবার জড়িয়ে পড়েন ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে। ছাত্র শিবিরের রাজনীতি করার কারণে ফারাবীর সঙ্গে ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসায় যোগাযোগ ছিল। কারণ বাংলাদেশের ছাত্রশিবিরের সঙ্গে দেওবন্দ মাদ্রাসার বিশেষ যোগাযোগ আছে। সেই সুবাদে ফারাবীর সঙ্গে দেওবন্দ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ফারাবীর।

ফারাবী গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসসিতে মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা লেখক প্রকৌশলী ড. অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। এছাড়াও গত বছরের ১২ মে সকাল সাড়ে ৮টায় সিলেট নগরীর সুবিদবাজার এলাকার নূরানী পুকুরপাড়ে মুক্তমনা ব্লগের লেখক অনন্ত বিজয় দাশকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত ৬ জনের মধ্যে ৩ জন গ্রেফতার হয়েছে। একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। হত্যাকারীরা সবাই শিবিরের সাবেক সদস্য। হত্যাকারীরা ফারাবীর একনিষ্ঠ অনুসারী। তারা ফারাবীকে তাদের নেতা মনে করে। অনন্তর হত্যাকারীদের একজন ফারাবীর কাছে অনন্তকে কি করা যায়Ñ ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে চেয়েছিলেন। উত্তরে ফারাবী লিখেছেন, অনন্তকে থাবা বাবার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেই হয়! প্রসঙ্গত, পল্লবীতে খুন হওয়া ব্লগার রাজীবই থাবা বাবা নামে পরিচিত। তাকে বাড়ির সামনেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একইভাবে অনন্তকেও তার বাড়ির সামনেই একই কায়দায় ৫ জনে হত্যা করে। অনন্ত হত্যায় ফারাবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা ঢাকার সিআইডি পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আবদুল্লাহেল বাকী। সিআইডি বলছে, ফারাবীর সঙ্গে দেওবন্দ মাদ্রাসা ছাড়াও দেশী- বিদেশী বিভিন্ন জঙ্গীগোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে। দেওবন্দের ওই মাদ্রাসাটি জঙ্গীবাদের সঙ্গে জড়িত বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, শুধু ফারাবী নয়, এমন অভিযোগ রয়েছে জামিনে ছাড়া পেয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়া অনেকের বিরুদ্ধেই। জামিনপ্রাপ্তরা আর আদালতে হাজির হন না। কারাগারে এক সময় অনেক ছাত্রশিবিরের ক্যাডার বন্দী ছিলেন। এসব বন্দীর মধ্যে থেকে বাছাই করে ১২৭ জনকে জামিনে ছেড়ে দেয়া হয়। এরমধ্যে ৭ জন নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীরের দুর্ধর্ষ জঙ্গী। যারা ছাত্রশিবির পরিচয়ে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। বাকি ১২০ জনের মধ্যে ৫ জন জামায়াত নেতাও রয়েছেন। যারা বিশেষ কায়দায় শিবির পরিচয়ে জামিনে ছাড়া পেয়ে লাপাত্তা হয়ে আছেন। জামিন পেয়ে আত্মপোপনে যাওয়া ১১৫ জন শিবির সদস্যের মধ্যে ১০৮ জনই দুর্ধর্ষ। তাদের বিস্ফোরকসহ নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের প্রশিক্ষণ রয়েছে। জামিনপ্রাপ্তদের সবাই আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলার আসামি। তারা খুবই দুর্ধর্ষ। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

জামিনে ছাড়া পেয়ে আত্মগোপনে যাওয়াদের মধ্যে ছাত্র শিবিরের অন্তত ৮ জন সভাপতি এবং অন্তত ১০ জন সেক্রেটারি জেনারেলও রয়েছেন। এছাড়াও রয়েছেন জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কারাগারে থাকা ১৯ জন শিবির ক্যাডারের ১০ জনই পরবর্তীতে জামিনে ছাড়া পেয়ে গেছেন। জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে বিরাট গোপন আতাত রয়েছে।

শুধু শিবির নয়, নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ১৬ জন দুর্ধর্ষ জঙ্গী জামিনে ছাড়া পেয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন। তারা আদালতে হাজির হন না। অনেকেই দেশ ছেড়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন বিদেশে। এরমধ্যে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর একটি দেশেই জামায়াত-শিবিরের অন্তত ২শ’ নেতাকর্মী রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সঠিকভাবে তদারকি না করায় এবং মামলায় চার্জশীট প্রদানের ক্ষেত্রে হাল্কা করে দেয়ায় ক্যাডাররা জামিনে ছাড়া পেয়ে গেছেন তারা। এ ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকার খেলা রয়েছে। জামায়াত-শিবির দলীয়ভাবে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে পুলিশের মাধ্যমে চার্জশীট হাল্কা করে দিয়েছে। যে কারণে অনায়াসে তারা পার পেয়ে আত্মগোপনে চলে যেতে পেরেছেন। জামিন নেয়ার ক্ষেত্রে তাদেরকে আদালতে ছাত্রশিবিরের সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ হিযবুত তাহরীরের সদস্য হিসেবে প্রকাশ করলে জামিন না হওয়ার সম্ভবনা বেশি। তাই এমন কৌশল নিয়েছেন জামিনপ্রাপ্তদের আইনজীবীরা।

মামলাগুলোর শুনানিতে বলা হয়েছে, এরা মূলত ছাত্রশিবিরের সদস্য। যাতে জামিন না হয়, এজন্য পুলিশ ইচ্ছে করেই তাদের নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠনের সদস্য বলে উল্লেখ করেছে মামলায়। প্রকৃতপক্ষে যার কোন ভিত্তি নেই। তারা নিষিদ্ধ কোন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয়। এর নেপথ্যেও রয়েছে গ্রেফতারকৃতদের এক বিরাট কারসাজি। কারণ গ্রেফতারের পর জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাম পরিচয়, পেশা এবং প্রকৃত ঠিকানা আড়াল করে। আদালত বা পুলিশ আসামিকে ভুল ঠিকানা দেয়ার কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করা মাত্রই আসামিরা বলে থাকেন, আমরা ঠিকই দিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভুল লিখেছে। এতে করে আদালত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাঁকা চোখে দেখে থাকে। এটি জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীদের কৌশল। এ কারণে অধিকাংশ ছাত্রশিবির ও জঙ্গীরা অনায়াসে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। দোষ পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাড়ে। তবে দু’একটি ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যে এমন কাজ করেন না তা নয়। অনেক সময় নানা সুযোগ সুবিধার লোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য এমন কাজ করে থাকেন।

এ ব্যাপারে র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিটি কারাগারেই তাদের গোয়েন্দা দল কাজ করে। কবে কোন আসামি জামিনে বের হচ্ছে বা কারাগারে প্রবেশ করছে তা তারা জানতে পারেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এছাড়া আদালতেও তাদের লোকজন আছে। সেখান থেকেও তারা খবর সংগ্রহ করে থাকেন। তারপরেও অনেক সময় কোন জঙ্গী জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে গেলে, তাদের বিষয়ে জোরালোভাবে খোঁজ খবর নেয়া হয়। কোনক্রমেই হদিস না মিললে তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। অনেক সময় তাতে কাজ না হলে প্রয়োজনে বিমানবন্দর ও সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে ছবিসহ পলাতকদের সম্পর্কে বিস্তারিত ফিরিস্তি দেয়া হয়। যাতে তারা দেশত্যাগ করতে না পারে। এছাড়া র‌্যাবের তরফ থেকে কড়া মনিটরিং করা হয়। বিশেষ করে জঙ্গীদের ক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স নীতি ঘোষণা করা আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সর্বশেষ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ৩২ জন সদস্য কারাবন্দী ছিল। তাদের ৫ জনকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা অসাধু আইনজীবী ও পুলিশের সহযোগিতায় জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। হিযবুত তাহরীর সদস্যদের মুক্তি করতে সহযোগিতা করেছেন জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। বর্তমানে হিযবুত তাহরীরের ৪ জন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। তারা সেখান থেকেই বাংলাদেশে তৎপরতা চালাচ্ছেন। শুধু হিযবুত তাহরীর নয়, নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রথম সারির অন্তত ৫ জন নেতা মালয়েশিয়া রয়েছেন। সেখান থেকেই তারা হিযবুত তাহরীরের আদলের আনসার আল ইসলামের নামে প্রচার প্রপাগান্ডা ও কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক নেতা মুফতি জসীমুদ্দিন রাহমানিকে কারামুক্ত করতে অর্থায়ন করছেন।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জনকণ্ঠকে বলেন, দুর্ধর্ষ জঙ্গী বা অপরাধীদের বিষয়ে তারা নিয়মিত মনিটরিং করে থাকেন।