১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এসডিজি বাস্তবায়ন হবে তিন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়

  • প্রস্তুতি দেখতে আসছেন জাতিসংঘ প্রতিনিধি;###;মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ৬ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানও যুক্ত হচ্ছে

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ তিনটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)। এগুলো হচ্ছে চলমান সপ্তম, এর পরবর্তী অষ্টম এবং নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। আর এ জন্য শুরু থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সেই সঙ্গে এসডিজি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোও। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (্এমডিজি) অর্জিত সাফল্য এসডিজিতেও ধরে রাখার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশেষ উদ্যোগ আসছে। এ জন্য একটি বাস্তবায়ন কৌশল তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।

অন্যদিকে এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রস্তুতি দেখছে ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের উচ্চ পদস্থ এক দায়িতত্বশীল কর্মকর্তা। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে মিলিত হবেন এ কর্মকর্তা। এতে সভাপতিত্ব করবেন মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগরে সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। বৈঠকে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সচিবরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ড. শামসুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে প্রথমে নেতৃস্থানীয় মন্ত্রণালয় ঠিক করা হয়েছে। তারপর নির্ধারণ করা হয়েছে কোন মন্ত্রণালয় কোন কোন লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করবে বা কৌশল প্রণয়ন করতে পারবে। তিনি জানান, জাতিসংঘের প্রতিনিধি ঢাকায় এসে আমাদের প্রস্তুতি বিষয়ে এখন পর্যন্ত গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পাশাপাশি, তিনি নিজেও এ বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সূত্র জানায়, চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে এসডিজির চৌদ্দটি প্রধান লক্ষ্যের (গোল) ৮২ শতাংশ সরাসরি কভারেজ হবে। আর ১, ১৬ ও ১৭ নম্বর লক্ষ্যের ১৮ শতাংশ মিল রয়েছে। বলা হয়েছে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ ৪৯ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সরাসরি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত। সেই সঙ্গে ছয়টি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানও জড়িত রয়েছে এসডিসি বাস্তবায়নের সঙ্গে। এগুলো হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, কম্পট্রোলার এ্যান্ড অডিটর জেনারেল, নির্বাচন কমিশন, তথ্য কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংক। তাছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)সহ বাকি ছয়টি বিভাগকেও যুক্ত করা হয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নের সঙ্গে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য মুখ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) এই কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন এবং নিয়মিতভাবে এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রণয়ন করে প্রধানমন্ত্রীর অবগতির জন্য দাখিল করবে।

বলা হয়েছে, এমডিজির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে এসডিজির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এসডিজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা এসডিজি বাস্তবায়নকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে জিইডি।

এর আগে ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০) অনুমোদন দেয়া হয়। এটি তৈরির সময় সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ এসডিজির অভীষ্ট লক্ষ্যসমূহকে এর বিভিন্ন অধ্যায়ে সমন্বিত করেছে। বর্তমানে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসডিজির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ এসডিজির ১৭ অভীষ্ট লক্ষ্য এবং অন্তর্গত ১৬৯ লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সমন্বিত করে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংশ্লিষ্ট এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছে। পরবর্তীতে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া হবে।

এর আগে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠিয়ে এসডিজির লক্ষ্যসমূহ সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তা বাস্তবায়নে গৃহীত ও গৃহীতব্য কার্যপরিধি তথ্য এ্যাকশন প্ল্যানের রূপরেখা প্রণয়ন করে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগে প্রেরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে বলা হয়েছে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে রূপরেখা পাওয়ার পরই এসডিজি বাস্তবায়নে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্ম-কৌশলের রূপরেখা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন ও পর্যালোচনা সম্পর্কিত কমিটির অনুমোদন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

ড. আলম আরও বলেন, এমডিজিতে ভাল করায় বাংলাদেশ চারটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে। এটি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য গর্বের। এ জন্য এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি দেশের মধ্যে আমরা স্থান করে নিতে চাই। সে লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়ন বিষয়ে অর্থাৎ দেশজ ও বৈদেশিক সহায়তা কত প্রয়োজন হবে সম্পদ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে এ জন্য স্টাডি পরিচালনা করা হচ্ছে। তাছাড়া এসডিজি কোন মন্ত্রণালয় কোন কোন লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে সেসব বিষয় নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭০ তম অধিবেশনে ১৯৩টি সদস্য দেশ ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা হিসেবে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা এসডিজি অনুমোদন করেছে।