১৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৯০ লাখ

  • থ্রিজি কাভারেজ গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ

ফিরোজ মান্না ॥ দেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত এক বছরে প্রায় ৯০ লাখ বেড়েছে। মোবাইল ফোন বেড়েছে প্রায় এক কোটি। তবে মোবাইল ইন্টারনেটের তুলনায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক তেমন বাড়েনি। মোবাইল আপারেটররা মনে করছেন, মোবাইল ফোন ও মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধির বিষয়টি ইতিবাচক। অন্যদিকে, ইন্টারনেটের ব্যবহার শহর কেন্দ্রিক হওয়ার কারণে সরকার দেশের ৬৪ জেলায় টাওয়ার শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে থ্রিজি কভারজে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছে। যাতে করে গ্রামের মানুষও সহজে ইন্টারনেট সুবিধা পেতে পারেন। একই সঙ্গে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা দিতে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বিটিসিএলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গ্রাম ও শহরের বৈষম্যকে দূর করতেই এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা

হালিম জনকণ্ঠকে বলেন, ভিশন ২০২১ এর আগেই দেশ পুরোপুরি তথ্য প্রযুক্তির আওতায় চলে আসবে। টেলিযোগাযোগ সেক্টরকে জনগণের হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়া হবে। তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য নানা ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালের মধ্যে দেশ তথ্য প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আর ২০২১ সালের মধ্যে দেশ পুরোপুরি তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক হবে। এ জন্য এই সেক্টরে শৃঙ্খলা আনা খুব বেশি প্রয়োজন। শৃঙ্খলার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রথম দফায় মোবাইল সিম রেজিন্ট্রেশন কাজ শুরু করা হয়েছে। এরপর মোবাইল সেটের আইএমই নম্বর ডাটা এন্ট্রিতে আনা হবে। সবার কাছে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার জন্য টাওয়ার শেয়ারিং করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন আছে। তাছাড়া গ্রামের মানুষের হাতে মাসিক ২৫ থেকে ৩০ টাকা কিস্তিতে স্মার্টফোন তুলে দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গ্রামের কৃষক-মজুরদের মতো তৃণমূলের মানুষের হাতে স্বল্পমূল্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে এরিকসন ও ওয়ালটনের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। তারা আমাকে বলেছে, এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তুলে দেয়া সম্ভব।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সবার জন্য ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সব বিমানবন্দরে ওয়াই-ফাই সংযোগ ও প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আইটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করার অনুরোধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিসিএসআইআর-এর ডাটাবেজ প্রস্তুত এবং তথ্য প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়করণ শীর্ষক কর্মসসূচীর আওতায় বৈজ্ঞানিক ডাটাবেজ, মানবসম্পদ ডাটাবেজ, ফিনান্সিয়াল ডাটাবেজ, লাইব্রেরি ডাটা বেজ ও মেডিক্যাল ডাটাবেজের জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সারা দেশে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই সেবাগুলো মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে। তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য গাজীপুরে হাইটেক পার্ক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাইটেক পার্ক স্থাপন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য সময়পযোগী কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় ১৬২ দশমিক ৮৩ একর জমির ওপর ইলেকট্রনিক সিটি স্থাপন করা হবে। ঢাকার মহাখালীতে ৪৭ একর জমির ওপর প্রস্তাবিত আইটি ভিলেজ নির্মাণের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে অচিরেই। রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ৫৬৩১ একর জমিতে আইটি ভিলেজ স্থাপনের জন্য সমীক্ষা কাজ শুরু হয়েছে। রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে রূপান্তরের ঘোষণা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। যশোরে সফটওয়ার পার্কের ডরমেটরি বিল্ডিং ও এমটিবি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। নাটোরে ফ্রিল্যান্সার ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য এক দশমিক ২৩৯৩ একর জমি এবং নাটোর আইটি ভিলেজ স্থাপনের কাজ প্রস্তাবাধীন রয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে আইটি ভিলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভব্যতা যাচাই করে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ে একটি টেকনোলজি পার্ক বা আইটি ভিলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে, গত এক বছরে দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক বেড়েছে প্রায় এক কোটি। ওই সময়ের মধ্যে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে ৯০ লাখের বেশি। বিটিআরসির সবশেষ হিসাবে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়ার বিষয়টি মোবাইল অপারেটররা ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন। এই হারে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে দেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উন্নত দেশগুলোর কাছাকাছি চলে যাবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গত জুন মাস পর্যন্ত মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট গ্রাহকদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এই তথ্যগুলো মোবাইল অপারেটররা বিটিআরসির কাছে প্রতি মাসেই দেয়। অপারেটরদের তথ্যের ভিত্তিতে বিটিআরসি প্রতি মাসে মোবাইল গ্রাহক ও ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা প্রকাশ করে। দেশে বর্তমানে মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার। অন্যদিকে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা চার কোটি ৮৩ লাখ ৪৭ হাজার। ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এই হিসাব প্রকাশ করা হয়। এক বছরে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার। আর ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ৮৯ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৮।

বিটিআরসি জানিয়েছে, দেশের ৬টি মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে সিটিসেল বাদে বাকি ৫টি মোবাইল অপারেটর ইন্টারনেট সার্ভিস দিয়ে আসছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবার শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোন। গত এক বছরে তাদের গ্রাহক বেড়েছে ৩৬ লাখ ৪৭ হাজার। বর্তমানে তাদের গ্রাহকসংখ্যা পাঁচ কোটি ৩১ লাখ ২৯ হাজার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গ্রাহক বেড়েছে রবি আজিয়াটার। তাদের গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ৩১ লাখ ৫৪ হাজার। বর্তমানে তাদের গ্রাহকসংখ্যা দুই কোটি ৭৩ লাখ ৬৮ হাজার। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপারেটর বাংলালিংকের গ্রাহকসংখ্যা তিন কোটি ২২ লাখ ২৪ হাজার। এক বছরে তাদের গ্রাহক বেড়েছে ২৪ লাখ ৬৪ হাজার। এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের গ্রাহক বেড়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার বেড়ে ৮৭ লাখ ৪৩ হাজার। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল কোম্পানি টেলিটকের গ্রাহক বেড়েছে পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার। বর্তমানে টেলিটকের গ্রাহকসংখ্যা ৪২ লাখ ১৬ হাজার।

অন্যদিকে সিটিসেলের গ্রাহকসংখ্যা গত এক বছরে তাদের দুই লাখ পাঁচ হাজার গ্রাহক কমেছে। বর্তমানে তাদের গ্রাহকসংখ্যা মাত্র ১১ লাখ ৮৭ হাজার। গত এক বছরে যে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে মোবাইল কেন্দ্রিক। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক শহর কেন্দ্রিক হওয়ায় মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকই বেশি বেড়েছে। তবে ওয়াইম্যাক্স ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক কমেছে। আইএসপি ও পিএসটিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অল্প কিছু বেড়েছে। ইন্টারনেটে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা হিসাবে যাদের ধরা হয় তারা হচ্ছে, সর্বনিম্ন ৯০ দিন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাদেরই বিবেচনায় নেয়া হয়।