১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

থাইল্যান্ডের ভিসা যেন সোনার হরিণ- দুই মাসেও মিলছে না

  • হাজার হাজার আবেদনকারী বিপাকে, পাসপোর্টও ফেরত পাচ্ছেন না

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভিসা আবেদনের পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও থাইল্যান্ডের ভিসা মিলছে না। ইতোমধ্যেই প্রায় ২৫ হাজার আবেদনকারী ঢাকার থাইল্যান্ড দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করে পাসপোর্ট জমা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তারা ভিসাও পাচ্ছেন না, আবার পাসপোর্ট ফেরতও পাচ্ছেন না। এদের মধ্যে রোগী, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

সূত্র জানায়, গত দুই মাস ধরে থাইল্যান্ড দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন জমা দিয়ে কোন ভিসা মিলছে না। এদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য ভিসা আবেদন জমা দিয়েছেন। তবে তারা থাইল্যান্ডের ভিসা পাচ্ছেন না। আবার পাসপোর্ট ফিরিয়ে নিয়ে অন্য দেশেও চিকিৎসার জন্য যেতে পারছেন না। ফলে চরম বিপাকে পড়ছেন রোগীরা। তবে ঠিক কী কারণে ভিসা দেয়া হচ্ছে না তারও কোন ব্যাখ্যা দিচ্ছে না থাই দূতাবাস। পাসপোর্ট আটকে রাখার বিষয়েও কিছু বলছে না। এমনকি থাইল্যান্ডের ভিসা প্রসেসের জন্য নির্দিষ্ট এজেন্ট ভিএফএস গ্লোবালও আবেদনকারীদের পাসপোর্ট ও ভিসা না দেয়ার বিষয়ে কিছু জানাতে পারছে না। সূত্র জানায়, সাধারণত তিন থেকে চার কর্ম দিবসের মধ্যে থাইল্যান্ডের ভিসা পাওয়া যায়। সে কারণে অনেকেই থাইল্যান্ডে বেড়াতে যান। আবার চিকিৎসার জন্যও থাইল্যান্ডে যান অনেকেই। তবে গত বছর ডিসেম্বর থেকে ভিসা নিয়ে জটিলতা তৈরি করেছে থাই দূতাবাস। ডিসেম্বর মাসে থাই দূতাবাসে নতুন একজন ভিসা কর্মকর্তা এসেছেন। তার যোগদানের পর থেকেই এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে আবেদনকারীরা বলতে গেলে কোন ভিসা পাচ্ছেন না। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ভিসার জন্য যারা আবেদন করেছেন এবং পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন তার মধ্যে গড়ে ১০ ভাগ আবেদনকারীর পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হয়েছে। বাকি ৯০ ভাগ পাসপোর্টই আটকা পড়ে আছে দূতাবাসে। ফলে এসব আবেদনকারীর মধ্যে যারা চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যেতে চেয়েছিলেন তারাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। আর ভিসা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় নতুন করে কেউ ভিসার আবেদন করতেও ভরসা পাচ্ছেন না।

ট্রাভেল এজেন্সি ও ট্যুর কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, থাইল্যান্ডের ভিসার জন্য প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক আবেদন জমা পড়ে ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে। এই হিসেবে গত দুই মাসে ৩০ হাজারেরও বেশি পাসপোর্ট জমা পড়ে। কী কারণে পাসপোর্ট আটকা আছে সে বিষয়েও ভিএফএসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোন জবাব মিলছে না। তারা কখনও বলছেন প্রসেসিংয়ের কাজ হচ্ছে, কখনও বলছেন তদন্ত চলছে। তবে অনেকেই বলছেন, দূতাবাসে একজন নতুন ভিসা কর্মকর্তা যোগদানের পর এই জটিলতা দেখা দিয়েছে। থাই ভিসা নিয়ে জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে রোগীদের পক্ষ থেকে অনেকেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছেন। আর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কারও কারও ভিসা প্রাপ্তি বা পাসপোর্ট ফেরতের জন্য থাই দূতাবাসে সুপারিশ করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, থাই ইমিগ্রেশন বিভাগ ভিসা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। যে কোন ভিসার আবেদন ব্যাঙ্কক থেকে অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। আবেদনের প্রতিটি কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। কনস্যুলার শাখায় নতুন দুজন কর্মকর্তা ভিসা প্রক্রিয়া সম্পাদনের কাজ করছেন। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে ভিসা প্রক্রয়া সম্পন্ন করতে তারা রীতিমতো হাঁপিয়ে উঠেছেন। ফলে ভিসা পেতে দেরি হচ্ছে। তাছাড়া প্রায় তিন মাস ধরে থাই দূতাবাসে কোন রাষ্ট্রদূত নেই। আগামী মাসের আগে ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত আসারও সম্ভাবনা নেই। দূতাবাসে এখন একজন কাউন্সিলর চার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্সের দায়িত্বে আছেন। ফলে কবে নাগাদ ভিসা সমস্যার সমাধান হবে, সেটা কেউ বলতে পারছে না।