২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সম্পাদক মাহফুজ আনামের অগ্নিপরীক্ষা -মুহম্মদ শফিকুর রহমান

সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতা মূলত নৈতিকতার চর্চা করে। এর হাতে আইন নেই, আইনের দ- নেই, পুলিশ-মিলিটারি নেই। এটি কেবল লেখনির মাধ্যমে আইন-আদালত কিংবা আইন প্রয়োগকারীর সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কোথায় কোন্ পর্যায়ে নৈতিকতার স্খলন ঘটছে তা সমাজপতি-প্রশাসনকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। আবার একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের স্খলনের চেয়েও একজন সংবাদকর্মীর নৈতিক স্খলন অনেক অনেক বেশি ক্ষতিকর এবং তিনি যদি হন সম্পাদক তবে তার আর কোন অধিকার থাকে না দায়িত্বে থাকার। পদত্যাগই সেক্ষেত্রে তার একমাত্র পথ। এভাবেই মানবতা সুচিন্তা বেঁচে থাকে, সমাজ রাষ্ট্র এগিয়ে যায়।

আমাদের দেশেও নজির আছে। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ। জাতির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকি মিলিটারি জান্তার মিয়ানওয়ালি কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ থেকে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলায় ফিরে এসেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হাতে নিয়েছেন। চারদিকে ধ্বংসযজ্ঞ, নির্যাতিত মা-বোনের আর্তনাদ, শহীদ পরিবার, ঘরহীন আশ্রয়হীন মানুষের অনিশ্চিত ভবিষ্যত, বঙ্গবন্ধু এর ওপর দাঁড়িয়ে একটার পর একটা সঙ্কটের সমাধান করে চলেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন পরীক্ষিত বন্ধু ভারত-রাশিয়া পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এ সময় একটি জনসভায় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের তৎকালীন শাসক জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাম উচ্চারণ করে বলেছিলেন, ‘ভুট্টো সাহেব, দেখে যান আপনার মিলিটারিরা এখানে কি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ৯ মাসে।’ তখন আমাদের জাতীয় সংবাদ সংস্থা ছিল বাসস বা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা এবং এর প্রধান সম্পাদক ও এমডি ছিলেন প্রয়াত খ্যাতিমান সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ। বাসস-এর পক্ষে বঙ্গবন্ধুর ঐ জনসভায় কাভার করেন সংস্থার রিপোর্টার আলমগীর মহিউদ্দিন। আলমগীর জনসভা শেষে বাসস-এ ফিরে রিপোর্টটি করলেন এভাবে-‘Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, the Prime Minister of Bangladesh, has invited Pakistan’s Prime Minister Zulfiqar Ali Bhuttoo to visit Bangladesh. কথাটি দাঁড়াল বঙ্গবন্ধু ভুট্টোকে বাংলাদেশে বেড়াতে আসার দাওয়াত দিয়েছেন।

লক্ষ্য করুন সময়টা ১৯৭২ সাল। এটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মাত্র দেশটা স্বাধীন হলো। যে পাকিস্তানী হানাদার মিলিটারি জান্তা বাংলাদেশে বর্বর ধ্বংসযজ্ঞ চালাল, ৩০ লাখ বাঙালী হত্যা করল, পাঁচ লক্ষাধিক মা-বোনকে ধর্ষণ করল, হত্যা করল, সাড়ে ৪ কোটি বাঙালী নারী-শিশু, বুড়ো-বুড়িসহ ঘরহারা-দেশহারা হলো, পথঘাট, রেল-সড়ক ধ্বংস করল, সে সবেরই প্রচ- ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রকাশ ছিল বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যে, যা বোঝার জন্য প-িত হওয়ার দরকার নেই, সামান্য লেখাপড়া জানার লোকও বঙ্গবন্ধুর কথা বুঝতে পেরেছেন। অথচ এটাকে বিকৃত করে আলমগীর মহিউদ্দিন বাসস থেকে ঐভাবে রিপোর্টটি করলেন আর এর দায় কাঁধে নিয়ে ফয়েজ আহমেদ বাসস-এর প্রধান সম্পাদক ও এমডির পদ থেকে পদত্যাগ করে চলে গেলেন। ফয়েজ ভাই পদত্যাগ না করলেও পারতেন; কিন্তু নৈতিকতার জায়গায় তিনি নিজেকে দায়ী করে পদত্যাগ করাটাই সমীচীন মনে করেছেন। বস্তুত, সম্পাদক প্রতিষ্ঠানটি এমনই। একটি মিডিয়া, সে ইলেকট্রনিক হোক, প্রিন্ট হোক বা অনলাইন হোক, তার প্রকাশিত প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি বক্তব্য, এমনকি প্রতিটি শব্দের জন্য সম্পাদকই প্রধানত দায়ী হন।

এখানে আলমগীর মহিউদ্দিনের একটু পরিচয় দেয়া দরকার। এই ভদ্রলোক বর্তমানে জামায়াত-শিবির সমর্থিত পত্রিকা দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক। তাইতো ফয়েজ ভাইয়ের মতো এমন খ্যাতিমান সাংবাদিক, লেখক, ছড়াকার চাকরি ছেড়ে দেন নৈতিকতার প্রশ্নে। ওপেন সিক্রেট হলো আলমগীর মহিউদ্দিনেরও পরে বাসস-এর চাকরি চলে গিয়েছিল নৈতিকতা স্খলনজনিত কারণে। পরে আজ এখানে কাল ওখানে এভাবে চলতে চলতে এখন নয়াদিগন্তে। এরা এমনভাবেই গর্ত থেকে ওঠে এসে আসল চেহারা ধারণ করে, যেমন সুপ্রীমকোর্টের একজন বিচারক চাকরি থেকে সদ্য অবসর নিলেও এখনও সরকারী বাড়ি গাড়ি সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আলবদর কমান্ডার মীর কাশেম আলীর পক্ষে আপীল বিভাগে ওকালতি করতে দাঁড়িয়েছেন। এই মীর কাশেম আলীই নয়াদিগন্তের মালিক বলে শোনা যায়। আরও শোনা যায়, এই ভদ্রলোকই ২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে প্রোপাগা-ার জন্য বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছিলেন।

ফয়েজ ভাই পদত্যাগ না করলেও পারতেন। ফয়েজ ভাই, মূসা ভাই, মুকুল ভাই, গাফ্ফার ভাই এরা বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের লোক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাদের ‘আপদ’ ‘বিপদ’ ‘মুসিবত’ এমনি সব নামে ডাকতেন। আদর করে। তারপরও ফয়েজ ভাই পদত্যাগ করেছিলেন, তাও এক রিপোর্টারের দায় কাঁধে নিয়ে। কিন্তু আমাদের বন্ধু ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম পদত্যাগ করলেন না। অথচ এক টক-শোতে তিনি স্বীকার করেছেন ১/১১-এর বিরাজনীতিকরণ এবং বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে বিতাড়নের জন্য ডিজিএফআই তাকে রিপোর্ট দিত আর তিনি ডেইলি স্টার-এ ছেপে দিতেন। এটি কি নৈতিকতার স্খলন নয়?

মাহফুজ ও আমি একই সময় একই ইয়ারের ছাত্র ছিলাম। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ (পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ’৭২-’৭৩-এ)। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার কারণে মাঝে এক বছর স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছিল। শুনেছি মাহফুজ আনামও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। যার কিছু আলামত তার কাগজে লক্ষ্য করা যায় সহজেই। বিশেষ করে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের দিন থেকে ডেইলি স্টার দৈনিক প্রথম আলোর চেয়েও অনেক বেশি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছে।

একটা ঘটনা মনে পড়ে, ২০০১-এর অক্টোবর নির্বাচনের পর একদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের লাউঞ্জে বসে আছি। এমন সময় মাহফুজ আনাম ঢুকলেন। আমি টিটু (ওকে আমরা টিটু নামে ডাকতাম) বলে বসতে বললাম। চা খেতে খেতে বললাম বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনের রেজাল্ট ঘোষণার আগে থেকেই (তারা আগে থেকেই রেজাল্ট জানত) আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতার পক্ষে শক্তির ওপর বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যেভাবে বর্বর হামলা করে চলেছেÑ তা একাত্তরের পাকি-হানাদারদের বর্বরতার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি নিজ এলাকা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করে তবেই ঢাকায় ফিরেছি। ফিরে এসে হতাশও কম হইনি।

বললাম- তোমার কাগজেও সত্যিকার চিত্র অনুপস্থিত।

টিটু বলল- তুমি একটা বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে দাও, আমি গুরুত্ব দিয়ে ডেইলি স্টার-এ ছেপে দেব।

বললাম- তোমার এত বড় কাগজ, শত শত রিপোর্টার, তুমি সবাইকে গাইড লাইন দিয়ে চিঠি দিলেই দেখবে কি ভয়াবহ চিত্র উঠে আসবে।

টিটু আর কোন কথা বলল না। চা খেয়ে চলে গেল। ক’দিন পর দেখলাম স্টার-এর সাপ্তাহিক ম্যাগাজিনটির কভার স্টোরিসহ পুরোটাই সংখ্যালঘুদের ওপর বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নির্যাতনের বিশেষ করে নৌকায় ভোটদাতা বা সমর্থকদের ওপর নির্যাতনের অনেকগুলো স্টোরি নিয়ে ছাপা হয়েছে। একইভাবে অনেক দিন ধরে। যে কারণে মাহফুজ আনামকে সিপিবির (মাহফুজ আনামও ছাত্র ইউনিয়ন করতেন) রাজনীতি থেকে আলাদা ভাবতে শুরু করি। কিন্তু হঠাৎ ডেইলি স্টার-এর একটি সম্পাদকীয়তে দেখলাম ‘We have our two great Leaders–Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and President Ziaur Rahman...’ শহীদ শব্দটি লাগিয়েছিল কিনা মনে নেই। লাগালেও অবাক হতাম না। আমি অবাক হয়েছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ক্যুদেতা মিলিটারি জিয়াউর রহমানকে Great Leader’ বলে পাশে বসানোর ব্যাপারটা। এ ব্যাপারেও বন্ধু টিটুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। কোন উত্তর পাইনি।

উত্তর পেয়েছিলাম আরও পরে যখন দেখলাম ‘দুই নেত্রী’ বলে সময়ের সাহসী ও দূরদর্শী নেত্রী শেখ হাসিনার পাশে সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ খালেদা জিয়াকে বসানো হচ্ছিল। তারচেয়েও অবাক করা উত্তর পেলাম যখন দেখলাম তথাকথিত সিভিল সোসাইটির নামে একদল শ্যুটেড বুটেড বা লাল রঙের পাঞ্জাবি পরা ভদ্রলোক ১/১১-এর ক্যুদেতার সমর্থনে মাঠে নামলেন। মাহফুজ আনামকেও দেখা গেল তাদের সঙ্গে। বিশেষ করে নোবেল জয়ী প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনূস যখন রাজনীতিকদের দুর্নীতিপরায়ণ বলে চিহ্নিত করে নিজে দল গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করলেন, সেই প্রক্রিয়ায় প্রফেসর ইউনূসের পাশে মাহফুজ আনামকে দেখা গেল সাধারণ সম্পাদকের পদ অলঙ্কিত করতে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি বুধবার ডেইলি স্টার-এর ‘Opinion’ পাতায় ‘Mistakes versus crimes, The Daily Stars ordeal” শিরোনামে একটি উপসম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে। লিখেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাক হিলস স্টেট ইউনির্ভাসিটির প্রফেসর ইমেরিটাস আহরার আহমেদ। স্মরণশক্তি লোপ না পেয়ে থাকলে বলব এই আহরার আহমেদ আমাদের ইয়ারের এবং মাহফুজ আনামের বন্ধু। দু’জনই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটার বা তার্কিক ছিলেন। উপ-সম্পাদকীয়টির মাঝে এমন একটি ইলাস্ট্রেশন রয়েছে যাতে দেখা যায় -‘একটি দাঁড়ানো কলমের সঙ্গে একজন লোককে বেঁধে রাখা হয়েছে, কলমটির ক্যাপ লোকটির মাথা গিলে খেয়েছে’-এতে আহরার হয়তো কলমের স্বাধীনতা বন্দী এবং অন্ধ বোঝাতে চেয়েছেন। কেননা, ডিজিএফআই-এর লেখাটি ছাপার কথা স্বীকার করায় পার্লামেন্টে কয়েকজন এমপি প্রশ্ন তোলেন মাহফুজ আনামের শেখ হাসিনাবিরোধী ভূমিকার ওপর। প্রফেসর আহরার এ জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উপসম্পাদকীয়র শেষ প্যারায় শেখ হাসিনাকে উপদেশ দিয়েছেন তিনি যেন তাঁর সমর্থকদের সঠিকপথে শক্তিক্ষয় করার পথে পরিচালিত করেন- ÒThe Daily star is a popular and powerful newspaper and Mr. Anam, an editor who has abundantly demonstrated his honour, integrity and patriotism. The effort to impugn him in this tone and language only stains the image of Bangladesh, and complicates our journey towards the ideals of democracy and development to which we are all committed. I certainly hope that our highly experienced and internationally respected prime Minister would see fit to redirect the energies of her supporters in more constructive directions.

আমি আহরার সাহেবের উপসম্পাদকীয়র অনেক পয়েন্টের সঙ্গে যেমন একমত তেমনি কতিপয় ক্ষেত্রে আমার স্বাভাবিক ধারণার জায়গাটা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। একজন ব্যক্তি অর্থাৎ মাহফুজ আনামের সমালোচনা করলে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা জটিল হবে, দেশের ইমেজ নষ্ট হবে, এটি বুঝতে পারলাম না। সেদিন প্রফেসর ইউনূস, মাহফুজ আনাম এবং ১/১১-এর কুশীলবরা সফল হলে আহরার সাহেব কি শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেতেন? পেতেন না। কারণ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না এসে মাহফুজ আনামদের দুই নেত্রীর একজন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলে কি আন্তর্জাতিক সম্মানের ব্যাপারটা আমরা অর্জন করতে পারতাম? বরং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এমন এক জায়গায় আসীন এবং এর অন্তর্নিহিত শক্তি এত মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে যে, দুই-চারজন সম্পাদকের পদ খালি হলে দেশের ইমেজ মুখ থুবড়ে পড়বে এমনটি মনে হয় বেশি বলা হবে। বরং প্রফেসর আহরারের উচিত হবে মাহফুজ আনামকে উপদেশ দেয়া যে, তিনি যেন ফয়েজ আহমেদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সম্পাদক প্রতিষ্ঠানটির ইমেজ সমুন্নত রাখেন। তার জন্য অগ্নিপরীক্ষা এটি।

ঢাকা ॥ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি,

জাতীয় প্রেসক্লাব

balisshafiq@gmail.com