২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বই-ই হোক প্রথম উপহার

প্রায় তিন চার মাস আগে আমার এক নিকট আত্মীয় তার একমাত্র পুত্রের জন্য মেয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। আমিও তাদের সহযাত্রী ছিলাম। আত্মীয় তার পুত্রের জন্য কনে দেখা শেষে টাকার পাশাপাশি কনেকে একটি বই উপহার দিলেন। পনেরো বছর আগেকার কথা বেশ মনে পড়ল।

আমি যদি পনেরো বছর আগেকার কথাও বলি তখনও কোন ছেলেমেয়ে প্রেম করতে গিয়ে উপহারের প্রধান উপকরণ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের উপন্যাস ও এ জাতীয় বই, ডায়েরি দিত। ঠিক এই মুহূর্তে উপহারের উপকরণ হিসেবে মোবাইল বা ট্যাবকে বেছে নেয়া হচ্ছে। আর তিন-চার বছর পরে দেখবেন মোবাইল বা ট্যাবের পরিবর্তে উপহার হিসেবে আরও অত্যাধুনিক কোন কিছু দেয়া হবে। প্রিয় বা পছন্দের মানুষকে সবাই দামী গিফট করতে চায়। না হলে নিজেকে নিজের মানুষের কাছে যথাযথভাবে হয়তোবা উপস্থাপন করা যায় না। এটা আমরা অনেকেই মনে করি। আপনারা স্বীকার করুন আর নাই করুন বর্তমান সমাজের তরুণ-তরুণীদের কাছে বই কিনে পড়া বা না পড়ার বিষয়টি যথার্থতা হারিয়েছে। বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য কোন বই তেমন একটা কেনে না। কোন কোন ছেলেমেয়ের মধ্যে বই কেনার বিষয়ে একটা অনীহা দেখা যায়। আবার এমন অনেকেই আছে যারা খুব আগ্রহী হয়ে বই কেনে।

চাঁদপুর সরকারী কলেজে থাকার সময় আমি আমার এক বন্ধুসহ প্রায় পাল্লা দিয়ে বই কিনতাম। হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও মুনতাসীর মামুনের লেখা বইগুলো আমাদের পছন্দের তালিকায় থাকত। হুমায়ূন আহমেদের হিমু ও মিসির আলী খুব মজা করে পড়তাম। হিমু এত বেশি পড়তাম যে, শেষ পর্যন্ত আমার বন্ধুকে হিমু বলে ডাকতাম। এই লেখাটি যেদিন ছাপা হবে তখন অমর একুশে বইমেলা শুরু হয়ে গেছে। যা ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে চলবে। একুশের বইমেলা এখন প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে। মাসজুড়ে বইমেলায় যত মানুষ আসা-যাওয়া করে সবাই যদি অন্তত একটি করে বই কিনত তাহলেও বইপড়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যেত তাও না। এমন অনেকেই আছেন যারা শুধু বইমেলা থেকে কতগুলো বই কিনে বাসায় তা পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখে। আবার এমন অনেকেই আছেন বইপড়ার আগ্রহ আছে কিন্তু বই নগদ অর্থ দিয়ে কেনার সামর্থ্য নেই। বাজারে তারতম্য ভেদে বইয়ের দাম বিভিন্ন রকমের আছে আশি টাকা, এক শ’ টাকা, দেড় শ’ টাকা যেমন বইয়ের দাম আছে আবার চার শ’, ছয় শ’ বা আট শ’ টাকাও বইয়ের দাম আছে। শুধু গল্প বা উপন্যাসের দাম মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকে। মুক্তিযুদ্ধ সংস্কৃতি এবং ইতিহাসসমৃদ্ধ বইগুলো সব পাঠকের পক্ষে অনেক সময় কেনা সম্ভব হয় না। বই কিনে কেউ কোনদিন দেউলিয়া হয় না আমরা অনেকেই এটা জানি। তবুও বই কেনা বা পড়ার প্রতি আমাদের একটা অনাগ্রহ তো রয়েছেই। এর অন্যতম একটি প্রধান কারণ হলো বর্তমান বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তির প্রবল বিচরণ। তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার বর্তমান বিশ্বের মানুষকে এত বেশি মোহিত করেছে যে, মানুষ কাগুজে বইয়ের প্রতি খুব একটা আকৃষ্ট হয় না।

প্রখ্যাত কল্পবিজ্ঞান লেখক আইজ্যাক আসিমভ বলেছিলেনÑ ‘আগামীতে কাগুজের বই বলে কিছু থাকবে না’ কাগুজে বই আর কতকাল বজায় থাকবে তা হয়তো সময়ই বলে দেবে। কিন্তু আমরা তো এখনই দেখছি যে, কাগজের বইয়ের প্রতি পাঠকের অনাগ্রহ প্রবল আকার ধারণ করছে। বই যে মানুষ এখন আর আগের মতো পড়ে না তা সহজেই অনুমান করা যায়। বই কেনা বইপড়ার চেয়ে আমাদের সমাজের দেশের বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাইটগুলো বিশেষ করে ফেসবুক বা টুইটারের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়েছে। দেশেই ই-বুকের প্রচলন শুরু হয়েছে আমরা এমনও দেখছি ফেসবুকে একটা বড় ধরনের স্ট্যাটাস পোস্ট করলেও তাতে কোন ইউজারের চোখ তেমন একটা পড়ে না। এতে ব্যবহারকারীর বড় ধরনের কোন পোস্ট পড়ার প্রতি স্পষ্ট অনাগ্রহ লক্ষ করা যায়। বইপড়ার প্রতি পাঠকের এক ধরনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার কারণে অনেক লেখক আলাদা ব্লগ খুলে তাতে লেখালেখি করছেন।

বই মানুষের মনকে সুন্দর করে, সমৃদ্ধ করে। মানুষের জীবন, সমাজ-রাষ্ট্রকে বদলে দিতে সাহায্য করে। তাই বইপড়ার মধ্য দিয়ে মানুষ তার মনকে উন্নত ও সুন্দরের পথে নিয়ে যেতে পারে। বইপড়ার মাধ্যমে কোন মানুষ সমাজকে সুন্দর ও সুচারুরূপে গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। বই পড়ে মানুষ সুন্দর হয়, মানুষ ভালবাসতে শেখে, বই পড়ে মানুষ তার মনের জগতকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারে। যার ভেতরে সাহিত্য সংস্কৃতির কোন চর্চা নেই, ভালবাসা নেই তার ভেতরে কোন সভ্যতা থাকে না তিনি একজন খুনীর সমতুল্য। কেউ বই না পড়লে বইয়ের কিছু যাবে আসবে না বইয়ের কোন ক্ষতি হবে না। যা ক্ষতি হবে তাহলো মানুষের মনুষ্যত্বের সমাজের রাষ্ট্রের এবং মানব সভ্যতার। আসুন আমরা সকলেই মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলায় যাই। শুধু সেলফি না তুলে সবাই অন্তত একটা করে বই কিনি বেশি বেশি বই পড়ি। আমাদের প্রিয় মানুষটিকে বই উপহার দেই।

হারুন রশিদ

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর

প্রাচীন গণমাধ্যম

রেডিও সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম। জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, তা হোক সঙ্কটে বা দুর্যোগে, বিশেষত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে রেডিওর প্রেরণাদায়ক ভূমিকার কথা সকলে একবাক্যে স্বীকার করেন। একাত্তরে ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ ও বিবিসির সংবাদ রণাঙ্গনে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ধমনীতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছিল, তেমনি অবরুদ্ধ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের প্রাণে জাগিয়ে রেখেছিল স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা। সেদিন গণমাধ্যম হিসেবে রেডিওর শক্তি ও সম্ভাবনার দিকটি সকলের কাছে উন্মোচিত হয়েছিল।

‘আগামীর বাংলাদেশ হবে রেডিওর বাংলাদেশ’- এই সেøাগানের সত্যতা মেনে নিয়ে ও উন্নয়নে রেডিওর অপরিসীম সম্ভাবনার দিকটি যথার্থভাবে বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যে ২৮টি প্রাইভেট এফএম এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিওর অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় বাংলাদেশ বেতার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১২টি আঞ্চলিক বেতার কেন্দ্র ও ৩৫টি এফএম পরিচালনা করছে। ২০০৮ সালে সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত ‘কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা’ ও ২০১০ সালে কমিউনিটি রেডিওর জন্য দীর্ঘমেয়াদী কৌশলপত্র প্রণয়নের মাধ্যমে বস্তুতপক্ষে বেতার ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটেছে। ঘোষিত নীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণমাধ্যমের এই মৌলিক ধারার অফুরন্ত সম্ভাবনা উন্মোচন করার জন্য রেডিওতে কমিউনিটির বহুবিচিত্র কণ্ঠস্বর সম্প্রচারের পথ খুলে দেয়া। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় মানুষের দুর্যোগের সঙ্গে টিকে থাকা এবং দুর্যোগপরবর্তী উন্নয়নে সহায়ক শক্তি হিসেবে রেডিও বড় ভূমিকা রাখতে পারবেÑ এ রকম ধারণা থেকে ২০০৯ সালে সরকার প্রাথমিকভাবে ১৪টি কমিউনিটি রেডিও সম্প্রচারের অনুমতি দেয়। পরবর্তীতে আরও ২টি রেডিও স্টেশন যুক্ত হয়ে বর্তমানে দেশের ১৫টি জেলায় ১৬টি কমিউনিটি রেডিও নিয়মিত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। দেশের কমিউনিটি রেডিওগুলোর সহায়তাকারী সংস্থা বিএনএনআরসির (বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এ্যান্ড কমিউনিকেশনের) সাম্প্রতিক এক জরিপ থেকে জানা যাচ্ছে ১৬টি রেডিও স্টেশন বর্তমানে প্রতিদিন সর্বমোট ১২৫ ঘণ্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। এই স্টেশনগুলোতে বর্তমানে আট শতাধিক যুবা ও যুব নারী কর্মরত।

১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী পালিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘ ঘোষিত ৫ম বিশ্ব বেতার দিবস। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব বেতার দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। গণমাধ্যম হিসেবে রেডিও তথ্য পরিবেশন, সংবাদ প্রদান এবং বিনোদনের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে সক্ষমÑ এই সত্যটি বার বার প্রতিষ্ঠিত হোক।

সৈয়দ কামরুল হাসান

ঢাকা

রোগীর গাড়িতে রেকার!

উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে (পূর্ব থানার পাশে) একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খাবারের হোটেল চলছে। সোনারগাঁও জনপথে আছে আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বেসমেন্টে হরেক রকম মালের দোকান আছে। এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বেসমেন্টে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থার পরিবর্তে বিভিন্ন দোকানপাট, হোটেল ও ফাস্টফুডের রমরমা বাণিজ্য। ফলে রোগীদের গাড়ি মূল রাস্তায় যততত্র পার্কিং করার ফলে একদিকে যেমন সৃষ্টি হয় যানজট, অন্যদিকে রোগীদের গাড়িতে পুলিশের রেকার লাগানোর ফলে রোগী ও তার সঙ্গে আসা লোকজনদের চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।

বাণিজ্যিক ভবনে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় গাড়ি রাখার পরিবর্তে অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠায় তীব্র সমস্যা দেখা দেয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রায়ই এসব উচ্ছেদের অভিযান পরিচালনা করলেও ভবন মালিকদের ক্ষমতার দাপটের সামনে অসহায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

মোঃ মামুন

উত্তরা, ঢাকা

যৌক্তিক প্রত্যাশা পূরণ করুন

সরকার বেশ আগেই সরকারী সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বয়সসীমা ৫৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫৯ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তা ৬৫ আর বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৬০ বছর। অর্থাৎ আগে যা ছিল এখনও তাই। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গড় আয়ু বৃদ্ধি চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে বেসরকারী শিক্ষকদের কি গড় আয়ু বৃদ্ধি পায়নি? সরকারী চাকরিজীবীদের চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি আর বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পুরনো বয়সসীমা বহাল থাকা কি কোন বৈষম্য সৃষ্টি করে না? এ বৈষম্য সরকারের সমতাবিহীন সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয় কি না? কাজেই আমরা বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীরা আশা করি সরকারী চাকরিজীবীদের বয়সসীমা যেমন ২ বছর বাড়ানো হয়েছে, তেমনি বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বাড়িয়ে ৬২ বছর করা হোক। এই সিদ্ধান্ত সর্বমহলে প্রশংসিত হবে এবং সরকারের গণতান্ত্রিক প্রজ্ঞার পরিচয় ফুটে উঠবে।

মানবিক দৃষ্টিতে দেখলে আরও বলা যায় বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারী অন্যদের মতো আরও ৩ বছর চাকরিরত থাকলে অবসর জীবনের বর্ণনাতীত কষ্ট আরও ২ বছর পরেই শুধু আসবে না বরং অন্তত ২ বছর মৃত্যুর আগে কিছুটা হলেও চিন্তাহীন স্বাভাবিক জীবনযাপন করবে। এটাও কম পাওয়া নয়। প্রধানমন্ত্রী বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের যেমন বার বার নতুন বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন, তেমনি এক্ষেত্রে বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির বয়স অন্তত ২ বছর বাড়িয়ে অন্যদের সঙ্গে সমতা বিধান করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

একেএম হুমায়ূন কবির

জয়দেবপুর, গাজীপুর