২১ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজাকাররাই কি প্রাধান্য পাবে

পাঠক, শিরোনাম দেখে অবাক হলেন? অবাক হওয়ার কী আছ? লোকে বলে, মুক্তিযোদ্ধারা নাকি দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাই যদি হবে তাহলে সরকারী চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স বাড়ানোর দাবি নিয়ে আদালতে যেতে হবে কেন? তীর্থের কাকের মতো রাস্তায় দাঁড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন করতে হবে কেন? জাতির জনক শেখ মুজিবের আজন্ম লালিত স্বপ্নের ফসল, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও পাঁচ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ও অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে অর্জিত এ দেশটির বর্তমান গণকর্মচারী আর মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবী কি এক কথা? মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের বয়স বাড়ানো প্রসঙ্গে দ্ব্যর্থহীন সমর্থনসহ হাইকোর্টের রায়ের পর কারা তা স্টে করাতে গেল? কারা আপীল বিভাগে আপীল করতে গেল? কারা জননেত্রী শেখ হাসিনার হৃদয় উৎসারিত এ মহতী উদ্যোগকে প্রতিহত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে? জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এরা কারা?

সঙ্গত কারণে এখানে যে প্রশ্নটি উঠতে পারে- তার জবাব হলো- মুক্তিযোদ্ধা ‘জাতীয়তাবাদী’ হলো কী করে? মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধাই। যাঁদের জন্ম ’৭১-এর রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। খুনী জিয়া আর ফারুক-রশীদের ট্যাঙ্কের ভেতর দিয়ে নয়। যে ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণ করে না, ‘বঙ্গবন্ধু’ তথা জাতির জনকের নাম মুখে আনে না, সে কখনও মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না। এদের চিহ্নিত করে মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হোক। তাতে তারা যতবড় জাতীয়তাবাদী বা বিশ্ব প্রেমিক হোক না কেন। ইদানীং মির্জা, মকরুল, হিজিবিজি আহম্মেদ, মাইনর মফিজ ও বানেশ্বর রায়দের ধৃষ্টতা ও বাচালতা সহ্যের সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। দল হিসেবে তার যোগ্য জবাব দিতে আওয়ামী লীগ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা ’৭১-এর মুক্তিযোদ্ধারা আজ কী দেখছি? ‘সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে আছে বিশ্বাসঘাতক মোশতাক বাহিনী। উত্তরা ষড়যন্ত্রের নায়ক অর্থ মন্ত্রণালয়ে, প্রধানমন্ত্রীর দফতরে কুখ্যাত রাজাকারের সন্তান। প্রধানমন্ত্রীর একজন ঘনিষ্ঠ সচিব যার বাবা ছিল কুখ্যাত রাজাকার। তারাই কি দেশ চালাচ্ছে?’ (সূত্র : দৈনিক জনকণ্ঠ, ১২/০১/২০১৬)।

একটু পেছনে তাকালে দেখা যাবে- ২৯ ডিসেম্বর/২০০৮-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এমন এক ব্যক্তিকে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয় যার বাবা ’৭১ -এর মুক্তিযুদ্ধকালে নিজ থানার চারজন শীর্ষ রাজাকারের একজন ছিল। ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বিজয়ের পরের দিন নিজের প্রাণ বাঁচাতে নিজ এলাকা ছেড়ে সপরিবারে পালিয়ে গিয়ে দেশের সীমান্তবর্তী একটি জেলার দূরবর্তী একটি থানার অজপাড়াগাঁয়ে আত্মগোপন করে। পরে সেখানে একটি হাই স্কুলে ‘মৌলভী’ শিক্ষকের চাকরি বাগিয়ে নেয়। পুত্রধন (সচিব) সেই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে তিনিই জয় করে নেন সংস্থাপন সচিবের পদটি (!) তার সময়ে হেফাজত-জামায়াত-বিএনপি (হেজাবি) এবং ফজলুল হক আমিনীর অনুসারীদের জন্য সংস্থাপন মন্ত্রণালয়টি ছিল স্বর্গরাজ্য। হাওয়া ভবনের কুশীলবদের বোনাস পিরিয়ড। একদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও হেজাবি নয় এমন কর্মকর্তাদের নতুন কৌশলে পদোন্নতি বঞ্চিত করা, বাজে পোস্টিং দেয়া ও হয়রানি করা হতো। অন্যদিকে এ সময়ে রাজাকারপ্রীতি হয়েছে দেদার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন হাফশার্ট পরা হাফ জামায়াতী, হাফ বিএনপি। তার পিএস ছিল ফুল শিবির। অর্থমন্ত্রীর পিএস জামায়াত-শিবিরের। খাদ্য সচিবের (মুকুট-মনি) পিএসও ছিলেন জামায়াত-শিবির। দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ জেলাটির ডিসি একজন জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার। অবাক হলেন? ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সপক্ষের শক্তি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় তখন সেই সরকারের জনপ্রশাসন সচিব সিকদার মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়সসীমা বাড়ানোর ফাইল নাড়াতে টালবাহানা করেছেন।’ না এটি আমার কথা নয়, সূত্র : দৈনিক অমাাদের সময় ১০/০১/২০১৬। শুধু কি তাই? তিনি যত দিন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে ছিলেন, ততদিন হেজাবিপন্থীদের বেছে বেছে পদোন্নতি-ভাল পোস্টিং দিয়েছেন। তাদের ডিসি/ইউএনও বানিয়েছেন। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তার সামনে উচ্চারণ করলেই তার চেহারায় বিদ্রƒপের ছাপ ফুটে উঠত।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এখনও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়কার দুর্ধর্ষ ছাত্রশিবিরের ক্যাডার কর্মরত আছে। তারা কখনও চাইবে না মুক্তিযোদ্ধারা আরও কিছুদিন চাকরিতে থাকুক। কারণ মুক্তিযোদ্ধারা তাদের চোখের কাঁটা।

সুতরাং এ অবস্থায় রাজাকার-আলবদরের রক্ত যাদের দেহে তারা ভবিষ্যত স্বার্থ হাসিলের জন্য দু-একজন লোভী-অদূরদর্শী কথিত আওয়ামী লীগ নেতার তদবিরে গোপালগঞ্জে কিছুদিন ডিসি থাকার পর বর্তমান সরকারের সময়ে চৈত্র মাসেও মুজিব কোট পরলেই তারা স্বাধীনতাপন্থী হয়ে যায় না। কথাটি মনে রাখতে হবে। কত প্রমাণ চাই?

এ অবস্থায় রাজাকার-আলবদরের দোসর আমলারা এখন মুক্তিযোদ্ধাদের নয়, পারলে রাজাকারের বংশধরদের সরকারী চাকরিতে বয়সসীমা ৬৫ বছর করে দেয়ার সুযোগ খুঁজবে। তাতে যদি মুক্তিযোদ্ধাদের চরমভাবে অপমানিত করা হয়- তাতে কিছু আসে যায় না। এটা সব সম্ভবের দেশ।

নুরুল হক

ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা

পিরোজপুর

কলেজটির কথা ভাবুন

কলেজ কর্তৃপক্ষের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সীমাহীন অর্থ কেলেঙ্কারির কারণে মানিকগঞ্জ জেলায় প্রথম প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী তেরশ্রী ডিগ্রী কলেজটির ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেখার কেউ নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষের অতীত ও বর্তমান কর্মকা-ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেক, উৎকণ্ঠা ও হতাশা বিরাজ করছে। কলেজ পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য অভিযোগ করে বলেছেন, সরকারী ছুটি ব্যতীত কলেজ চলাকালীন গড়ে ৪০-৫০ জন ছাত্রছাত্রী এবং গড়ে ১০-১২ জন শিক্ষক সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২-২টা পর্যন্ত কলেজে উপস্থিত থাকেন। অভিযোগ উঠেছে, ২০০১ সালে বিএনপি শাসনামলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা। অধ্যক্ষ পদে যোগদান করার পর থেকে তিনি থাকেন তেরশ্রী কলেজ থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে রাজধানী ঢাকার সাভারে নিজ বাসস্থানে। সরকারী ছুটি ব্যতীত অধ্যক্ষ কলেজে আসেন সপ্তাহে ২-৩ দিন। বেলা ১১টায় উপস্থিত হয়ে আবার দুপুর ১-২টার মধ্যে কলেজ ত্যাগ করে চলে যান সাভারের নিজ বাসস্থানে। এভাবেই চলছে দীর্ঘ ১৫টি বছর।

ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, নিয়োগ বাণিজ্যসহ পাহাড়সমান আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কেউ কোনদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ করতে সাহস পায়নি। বর্তমানে কলেজটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নির্বাচিত সদস্যদের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে বিগত এক বছর হলো কলেজ পরিচালনা কমিটির কোন মিটিং না করেই অধ্যক্ষ তার ব্যক্তিগত ক্ষমতাবলে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মবহির্ভূত কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তেরশ্রী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবন্দ, ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক ও সুশীল সমাজ সরেজমিন বিচার বিভাগীয় নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মজিবর রহমান

সাধারণ সম্পাদক

তেরশ্রী শহীদ স্মৃতি পরিষদ

ঘিওর, মানিকগঞ্জ