১৬ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরিয়ায় অস্ত্রবিরতি নিয়ে মতৈক্য

  • এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হবে ॥ আইএস ও আল-নুসরা ফ্রন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না

বিশ্ব শক্তিগুলো জার্মানিতে আলোচনার পর সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে অস্ত্রবিরতি চাইতে একমত হয়েছে। এ অস্ত্রবিরতি এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা। তবে দুটি জিহাদী দল ইসলামিক স্টেট ও আল-নুসরা ফ্রন্টের ক্ষেত্রে অস্ত্রবিরতি প্রযোজ্য হবে না। ইন্টারন্যাশনাল সিরিয়া সাপোর্ট গ্রুপের অন্তর্গত মন্ত্রীরা দেশটিতে ত্রাণ সরবরাহ ত্বরান্বিত ও সম্প্রসারিত করতেও সম্মত হন। খবর বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও অন্যান্য শক্তি আগামী সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়ায় লড়াইয়ের অবসান ঘটাতে সম্মত হয়েছে। তারা দেশটির অবরুদ্ধ এলাকাগুলোতে অবিলম্বে ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর সুযোগ করে দিতেও রাজি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন এফ কেরি শুক্রবার মিউনিখে এ কথা ঘোষণা করেন।

যখন রুশ বিমান হামলার সমর্থন নিয়ে সিরীয় সেনাবাহিনী আলেপ্পো প্রদেশে অগ্রাভিযান চালাচ্ছে, তখন ওই ঘোষণা দেয়া হলো। সিরীয় বাহিনীর এ পদক্ষেপের ফলে বড় শহর আলেপ্পোর বিদ্রোহী অধিকৃত অংশগুলোতে হাজার হাজার লোক অবরুদ্ধ হতে চলেছে। ওই গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর জারি করা এক ইশতেহার সম্পর্কে কেরি বলেন, এটি সর্বসম্মত। আজ সবাই একমত হয়েছে। অস্ত্রবিরতির পরিকল্পনায় ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে কেরি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখায় কিনা, সেটিই হবে আসল পরীক্ষা। তিনি বলেন, আমরা কাগজপত্রে প্রতিশ্রুতি পেয়েছি এবং এখন আমাদের কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলোর বাস্তবায়ন দেখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন এক টাস্কফোর্স সিরিয়ার বিবদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে শলাপরামর্শ করে অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করবে। সিরিয়ার অবরুদ্ধ জনবসতিগুলোর কাছে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো শুক্রবারই শুরু হওয়ার কথা। কেরি এক সংবাদ সম্মেলনে ওই ঘোষণা দেন। তার রুশ প্রতিপক্ষ সের্গেই লাভরভ এবং সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ জাতিসংঘ দূত স্তাফান দে মিসতুরা তখন উপস্থিত ছিলেন। লাভরভ বলেন, আমরা যে আজ একটা বড় কাজ করেছি, তা আশা করার মতো কারণ রয়েছে। আগের এক রুশ প্রস্তাবে ১ মার্চ থেকে অস্ত্রবিরতি শুরু করার ধারণা দেয়া হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে কেরি আবারও মত ব্যক্ত করেন যে, পাশ্চাত্য যাদের মধ্যপন্থী বলে মনে করে এমন সিরীয় সরকারবিরোধী বাহিনীর ওপরই রাশিয়া বোমাবর্ষণ করছে। তারা সন্ত্রাসী নয়, যেমনটি মস্কো বলে থাকে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড বলেন, যদি রাশিয়া বিমান হামলা বন্ধ করে কেবল তাহলেই অস্ত্রবিরতি কাজ করবে। কিন্তু লাভরভ এটি চলবে বলে জানান। লাভরভ বলেন, সিরিয়াতে তার দেশের অন্তত কিছু বিমান হামলা করার শুক্রবার থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামিক স্টেট ও জাবহাত আল-নুসরাসহ ‘সন্ত্রাসী’ দলগুলোর ওপর বিমান হামলা চলতে থাকবে। আল-নুসরা আল কায়েদার সিরিয়া শাখা এবং এটি প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জড়িত রয়েছে। দলটি কোন কোন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের সমর্থনপুষ্ট সিরীয় বিদ্রোহীদের পাশে থেকে লড়াই করছে। সাপোর্ট গ্রুপ সিরীয় সরকার এবং বিদ্রোহীদের নিয়ে শান্তি আলোচনা যথাশীঘ্র সম্ভব আবার শুরু করা উচিত বলেও একমত হয়। প্রাথমিক আলোচনা চলতি মাসের প্রথমদিকে শুরু হওয়ার মাত্র দিন কয়েক পর সিরীয় বাহিনীর আলেপ্পো আক্রমণের প্রেক্ষিতে স্থগিত রাখা হয়। ওই লড়াইয়ের ফলে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার লোক তুরস্ক সংলগ্ন সীমান্তে আটকা পড়ে আছে। সেখানে মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে বলে ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়েছে।

এই মাত্রা পাওয়া