২০ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরণার্থীদের ইউরোপ পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি তুরস্কের

তুরস্কের সীমান্ত পথ খুলে দিয়ে লাখ লাখ শরণার্থীকে ইউরোপ পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এবং শরণার্থী সঙ্কটে পাশ্চাত্যের লজ্জাকর অবদানের নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। খবর টেলিগ্রাফ অনলাইনের।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছেন, তারা শরণার্থী স্রোত বন্ধ করার বিনিময়ে তার সরকারকে ৩শ’ কোটি ডলার (২শ’ ৩০ কোটি পাউন্ড) সাহায্য দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা থেকে সরে গেছেন তারা।

তিনি রাজধানী আঙ্কারায় এক কঠোর ভাষণে বলেন, তুর্কি সরকারকে ‘নির্বোধ’ বলে ধরে নিয়েছে ব্রাসেলস। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইইউ নেতাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ে বৈঠকের কার্যবিবরণী ফাঁস করার জন্য তিনি গর্বিত। তিনি ওই বৈঠকে ইউরোপে শরণার্থী ঢল নামিয়ে দেয়ার হুমকি দেন। ন্যাটো গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে গ্রিক উপকূলে যুদ্ধজাহাজের একটি টাক্সফোর্স মোতায়েন করলে এবং প্রথমবারের মতো তাদের আটককৃত যে কোন আটকে পড়া শরণার্থী নৌযানকে সরাসরি তুরস্কের দিকে ফিরিয়ে দেয়ার পর এরদোগান এ কথা বলেন। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভাস দিয়েছেন যে, রয়াল নেভির জাহাজ টাস্কফোর্সে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তুরস্কে ২৫ লাখের বেশি শরণার্থী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে আঙ্কারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্যোগে এবং ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতায় স্বাক্ষরিত বর্তমানে শিথিল হয়ে পড়া বিরক্তিকর চুক্তির শর্তানুসারে শরণার্থী বহনকারী নৌকাগুলোকে ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে এরদোগানকে ৩শ’ কোটি ডলার সাহায্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন ইইউ নেতৃবৃন্দ। চুক্তিতে আরও বলা হয়, এ বছরের শেষনাগাদ ইইউভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে ভিসা কড়াকড়ি ছাড়া ভ্রমণে যেতে পারবে তুর্কি নাগরিকরা এবং এর বিনিময়ে পশ্চিম উপকূলে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করবে তুরস্ক। কিন্তু ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে বিরোধের কারণে নগদ অর্থ প্রদান বিলম্ব হয়ে পড়েছে এবং কয়েক হাজার অভিবাসী প্রতিদিন এজিয়ান সাগর হয়ে গ্রীস পৌঁছাচ্ছে। এরদোগান বলেন, আমি যা বলেছি তাতে আমি গর্বিত। আমরা তুরস্ক ও শরণার্থীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছি এবং তাদের আমরা বলে দিয়েছি যে, আমরা দুঃখিত, আমরা আমাদের সীমান্ত খুলে দেব এবং অভিবাসীদের বলব তোমাদের বিদায়। তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘ এ সঙ্কটে ৫০ কোটি ডলারের কম ব্যয় করেছে। তিনি দাবি করেন অভিবাসীদের আরও অনেক দেশ গ্রহণ করতে পারে। তিনি বলেন, লজ্জা, তাদের জন্য এটা লজ্জার বিষয়।

সম্প্রতি জাতিসংঘ, ইইউ ও অন্যান্য সংস্থা ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নির্মমতা এবং সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে রুশ বিমান হামলা থেকে বাঁচতে যে সিরীয়রা দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে তাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কের কাছে। রাশিয়া সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সমর্থনে আলেপ্পোতে বিমান হামলা অব্যাহত রাখলে লাখ লাখ মানুষ পালিয়ে যায় শহরটি ছেড়ে। এরদোগান বলেছেন, তার সরকার ৬ লাখ শরণার্থীকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরছি এবং এরপর যা প্রয়োজন তা অবশ্যই করব।