১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম আলো পুরস্কার পেলেন কবি মুহাম্মদ সামাদ

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম আলো পুরস্কার পেলেন কবি মুহাম্মদ সামাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পশ্চিমবঙ্গের প্রথম আলো পুরস্কার পেলেন কবি মুহাম্মদ সামাদ। সম্প্রতি কলকাতা বইমেলার মিলনমেলা প্রাঙ্গণের মুক্তমঞ্চে কবি মুহাম্মদ সামাদের হাতে অর্থমূল্যসহ এই পুরস্কার-সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। এখন থেকে প্রতিবছর কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবিতা ও কবিতাবিষয়ক পাক্ষিক প্রথম আলো পত্রিকার পক্ষ থেকে সাহিত্যক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব ও সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের জন্য এই পুরস্কার-সম্মান প্রদান করা হবে। প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক কবি বীথি চট্টোপাধ্যায় স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়, বাংলা সাহিত্য ক্ষেত্রে শক্তিমান কাব্য প্রকরণে চমৎকৃত হয়ে বাংলাদেশের কবি মুহাম্মদ সামাদকে এ বছর প্রথম আলো পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। কবি মুহাম্মদ সামাদ কাব্যক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সৈয়দ মুজতবা আলী সাহিত্য পুরস্কার, কবি সুকান্ত সাহিত্য পুরস্কার, কবি জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার, ত্রিভূজ সাহিত্য পুরস্কার, কবি বিষ্ণু দে পুরস্কার (২০০৯, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত), কবিতালাপ পুরস্কার (২০১৫)সহ অনেক সম্মাননা লাভ করেন। মুহাম্মদ সামাদ বাংলা ভাষা-সাহিত্যের একজন প্রতিভাবান ও জনপ্রিয় কবি। তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছেÑ ‘আমার দু’চোখ জলে ভরে যায়’, ‘আজ শরতের আকাশে পূর্ণিমা’, ‘চলো, তুমুল বৃষ্টিতে ভিজি’, ‘পোড়াবে চন্দন কাঠ’, ‘আমি নই ইন্দ্রজিৎ মেঘের আড়ালে’, ‘একজন রাজনৈতিক নেতার মেনিফেস্টো’, ‘প্রেমের কবিতা’, ‘কবিতাসংগ্রহ’, ‘সিলেক্টেড পোয়েমস ’ইত্যাদি। বিশ্বের কমপক্ষে ১০টি ভাষায় তার কবিতা অনূদিত হয়েছে। একজন ধীমান সামাজিক বিজ্ঞানী হিসেবে ড. মুহাম্মদ সামাদ বাংলাদেশের গ্রামীণ দরিদ্র, আদিবাসী ও পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর ওপর গবেষণা করে প্রচুর সুনাম অর্জন করেছেন। ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা পাবলিশ আমেরিকা থেকে তাঁর একটি গবেষণাগ্রন্থ ‘ইনভিজিবল পিপলস : পোভার্টি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্সি ইন ঢাকা স্লামস’, প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক উন্নয়ন, রাজনীতি ও সাহিত্য বিষয়ে তাঁর গবেষণা-প্রবন্ধগ্রন্থসমূহ হচ্ছে ‘সান্তাল কমিউনিটি ইন বাংলাদেশ : প্রোব্লেমস এ্যান্ড প্রসপেক্টস’ (যৌথ), ‘পার্টিসিপেশন অব দি রুরাল পুওর এ্যান্ড এনজিও প্রোগ্রামস ইন বাংলাদেশ’, ‘এ্যাওয়ারনেস এ্যাবাউট দি রোল অব ইউএন ইন বাংলাদেশ : এ্যান ওপিনিয়ন সার্ভে;’ ‘মানবাধিকার: ৫০ বছরের অগ্রযাত্রা’ (যৌথ-সম্পাদনা); ‘চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলন : বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা’ (অনুবাদ-সম্পাদনা); ‘হৃদয়ে মুজিব : টুঙ্গিপাড়া বক্তৃতামালা’ (যৌথ-সম্পাদনা); ‘কবি ও কবিতার সংগ্রাম’ (যৌথ-সম্পাদনা), ‘বাংলাদেশে গ্রামীণ দারিদ্র্যমোচনে এনজিওর ভূমিকা’ প্রভৃতি। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইনোনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে পর-পর দুইবার পাঠদান করে প্রভূত সম্মান অর্জন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে অধ্যাপক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একজন কবি ও সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, বার্মা, ভারত, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামে কবিতা উৎসব এবং সেমিনার-সম্মেলনে যোগদান করেন। ড. সামাদ বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি এ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস)-এর উপাচার্য ও জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এই মাত্রা পাওয়া