১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লোক নাট্যদলের ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ নাটক মঞ্চায়ন

লোক নাট্যদলের ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ নাটক মঞ্চায়ন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০১১ সালে লোক নাট্যদল (বনানী) মঞ্চে আনে নাটক ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’। দেশে আইটিআই, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ও শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নাট্যোৎসব এবং দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসবে অংশগ্রহণসহ নাটকের টানা ১৪টি মঞ্চায়ন হয়। এ পর্যায়ে নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয়কারী একজন শিল্পীর সড়ক দুর্ঘটনাজনিত অসুস্থার কারণে নাটকটির মঞ্চায়ন বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রযোজিত দলের ২৫তম এ প্রযোজনাটির পুনঃমঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে আজ শনিবার। দল সূত্রে জানা গেছে আজ সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটি ১৫তম মঞ্চায়ন হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন কামরুন নূর চৌধুরী। চাটুকারিতা ও তোষামোদির মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও আকাক্সক্ষাকে চরিতার্থ করার যে প্রবণতা মানব সমাজে বিরাজমান তারই সরল ব্যঙ্গাত্মক কাহিনী রবীন্দ্রনাথ বর্ণনা করেছেন তাঁর ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ নাটকে। এ নাটকের বিষয়বস্তু এ যুগেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বলাবাহুল্য রবীন্দ্রনাথের যে কোন রচনা সব সময় প্রাসঙ্গিক। এ কারণে রবীন্দ্রনাথ সব সময় আধুনিকও বটে। ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ নাটকের গল্পে দেখা যাবে বৈকুণ্ঠ একজন লেখক, যিনি একমাত্র অবিবাহিত ছোট ভাই, বিধবা মেয়ে নিরুপমা ও দীর্ঘদিনের চাকর ঈশেনকে নিয়ে বসবাস করেন। বৈকুণ্ঠের লেখার বিষয়বস্তু মূলত সঙ্গীত এবং প্রাচ্য-প্রাশ্চাত্যের সঙ্গীত শাস্ত্রের উৎপত্তি ও ইতিহাস। তবে সংসারের নানা টানাপোড়েনে সহজ সরল ও উদার প্রকৃতির মানুষ বৈকুণ্ঠের লেখা শোনার ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের উদাসীনতা রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধূর্ত ও সুযোগসন্ধানী কেদারের আবির্ভাব ঘটে, যে তোষামোদ করে বৈকুণ্ঠের লেখা শোনার ভান করে। তার মন জয় করার চেষ্টা করে। উদ্দেশ্য তার অবিবাহিত শ্যালিকার সঙ্গে বৈকুণ্ঠের ছোট ভাই অবিনাশের বিয়ে দিয়ে বৈকুণ্ঠের বাড়িতেই আত্মীয়-পরিজন বেষ্টিত হয়ে বসবাস করা এবং শেষ পর্যন্ত তাই ঘটে। ফলে বৈকুণ্ঠের পরিবারে নেমে আসে নানা বিপর্যয়। ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন জাহিদুর রহমান পিপলু, আবদুল্লাহ আল হারুন, খায়রুল আলম টিপু, আনোয়ার কায়সার, তানজিনা রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, বাসুদেব হালদার, মিনহাজুল হুদা দীপ, সুধাংশু নাথ, নাদিত নূর চৌধুরী জাদু প্রমুখ। নাটকটির মঞ্চ পরিকল্পনা জাহিদুর রহমান পিপলু, পোশাক কামরুন নূর চৌধুরী, আবহ সঙ্গীত মুজাহিদুল হক লেনিন, আলো জিএম সিরাজুল হোসেন, মঞ্চ ব্যবস্থাপনা- সুধাংশু নাথ এবং প্রযোজনা অধিকর্তা আনোয়ার কায়সার।