২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ আজ স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখিৎ

  • জিতলে সাবিনাদের কমপক্ষে রৌপ্যপদক নিশ্চিত, হারলে তাম্রপদক

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এসএ গেমস মহিলা ফুটবলে এবারের আসরে প্রথম ম্যাচে নেপালের কাছে অপ্রত্যাশিত হারে (০-৩) হিসেবনিকেশ পাল্টে যায় অনেকটাই। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা দল পড়ে যায় চাপে। সেই চাপ কিছুটা হলেও সামাল দেয়া গেছে দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে (২-১)। তৃতীয় ম্যাচে মালদ্বীপকে হারিয়ে (২-০) তাম্রপদক জেতা নিশ্চিত করে বাংলাদেশের মেয়েরা। আজ শিলংয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিকেল সাড়ে ৪টায় নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে শক্তিশালী ও স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মেয়েরা।

আফগানিস্তান না থাকাতে এবারের টুর্নামেন্টের ফরমেটেও এসেছে পরিবর্তন। এবার খেলা হচ্ছে লীগ পদ্ধতিতে (মোট দল ৫টি)। সিঙ্গেল লীগ হওয়ার পর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে। ফলে সেমিফাইনাল বলে কিছু থাকছে না। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ দল যদি জিতে যায় বা কমপক্ষে ড্র করে, তাহলে তারা নিশ্চিতভাবেই নাম লেখাতে পারবে ফাইনালে। এতে করে কমপক্ষে রৌপ্যপদক পাওয়া নিশ্চিত হবে তাদের। ফলে টপকে যেতে পারবে ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ এসএ গেমসে তাম্রপদক জেতার কীর্তিকে। এ পর্যন্ত ৩ খেলায় ২ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। সমান খেলায় ১ জয় ও ২ ড্রতে ৫ পয়েন্ট ভারত আছে তিন নম্বরে। সমান খেলায় ২ জয় ও ১ ড্রতে সর্বোচ্চ ৭ পয়েন্ট নিয়ে নেপাল আছে এক নম্বরে। শুক্রবার অনুশীলনে দেড় ঘণ্টার মতো ঘাম ঝরায় বাংলাদেশ দল। দলনায়ক-ফরোয়ার্ড সাবিনা খাতুন জানান, ‘এখানে বেশ ঠা-া। তবে আমরা ইতোমধ্যেই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। দলের সবার মনোবল বেশ ভাল আছে।’ দলের সমস্যা একটাইÑ গোলরক্ষক সাবিনার মেরুদ-ের চোট। এ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত সাবিনা, ‘মনে হচ্ছে সাবিনা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারবে না।’ সেক্ষেত্রে তার স্থলে কে খেলবেন? ‘সম্ভবত দ্বিতীয় গোলরক্ষক রওশন আরা।’ জানান সাবিনা। ভারত বরাবরই বাংলাদেশের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ। আজ পর্যন্ত তাদের হারতে পারেনি বাংলাদেশ। গত এসএ গেমসে তাদের কাছে ০-৭ গোলে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। এ পর্যন্ত মুখোমুখি ৪ ম্যাচের প্রতিটিতেই জিতেছে ভারত। গোল করেছে ২১টি। বাংলাদেশ করেছে মাত্র ১ গোল! তবে আশার কথা হলোÑ বাংলাদেশ দল এখন আর আগের মতো দুর্বল ও ভঙ্গুর দল নয়। এখন তারা আর যাই হোক, হারার আগেই মানসিকভাবে হেরে বসে না। লড়াই করে। গড়ে তোলে কঠিন প্রতিরোধ। তাদের খেলার মান এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত। আজকের ম্যাচে তারা যদি ড্র করে, তাহলে এই প্রথম ভারতের বিপক্ষে না হারার কৃতিত্ব দেখাতে পারবে তারা। আর জিতলে তো ইতিহাসই গড়বে। সেই সঙ্গে আগের চার ম্যাচ হারার বদলাটাও নেয়া হয়ে যাবে।

এসএ গেমসের জন্য এই দলটি নিজেদের তৈরি করছে গত নবেম্বর থেকে। এর মাঝেই দলের বেশ কিছু ফুটবলার অংশ নিয়েছিল নেপালে অনুষ্ঠিতব্য এএফসির আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে। এছাড়াও দলটির অনেক সদস্যরই আছে এএফসি অনুর্ধ ১৬ বাছাই খেলার অভিজ্ঞতা। এবারের আসরে উদীয়মান শক্তির বাংলাদেশকে বেকায়দায় ফেলতে হঠাৎই সূচীতে পরিবর্তন আনে আয়োজক ভারত। পূর্বের সূচী অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ছিল ৯ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু সূচীতে পরিবর্তন হওয়াতে ৫ ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম ম্যাচটা খেলতে হয় তাদের। ৯ তারিখের কথা ভেবে বাংলাদেশ দলের ভারত যাওয়ার কথা ছিল ৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু তারিখ এগিয়ে আসাতে বিপাকে পড়ে যায় দল। কেননা ৪ তারিখ ঢাকা থেকে রওনা হয়ে পরের দিন সকালেই প্রথম ম্যাচটা খেলতে হবে! তাই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয়া এবং ভ্রমণক্লান্তি কাটিয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়ার সেই সুযোগ পাওয়া সম্ভব নয়।

এ সঙ্কট উত্তরণে তৎপর হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে)। তারা বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কাছে একটি আবেদনপত্র পাঠায়। সেখানে ৪ তারিখের পরিবর্তে একদিন আগেÑ অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি মহিলা ফুটবল দলকে পাঠানোর জন্য আবেদন করে। সে আবেদনে সাড়া দেয় বিওএ। মহিলা ফুটবল দলের শিলং যাওয়ার জন্য বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করা হয়। অবশ্য একদিন আগে গিয়েও কোন লাভ হয়নি! বাংলাদেশ হেরে যায় নেপালের কাছে।

এখন দেখার বিষয়, শেষ ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে বা তাদের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালে যাওয়ার পথ সুগম করতে পারে কি না বাংলাদেশের মেয়েরা।