১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিগুণ অর্থ না দিলে খেলবেন না সামিরা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের (ডব্লিউআইসিবি) পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব করা হয়েছে তার দিগুণ অর্থ পেলে টি২০ বিশ্বকাপে খেলতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন দলটির অধিনায়ক ড্যারেন সামি। তারা আইসিসির এমন একটি বৈষয়িক টুর্নামেন্টে খেলতে উদগ্রীব বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। আপাতদৃষ্টিতে খারাপ শোনালেও দলের খেলেয়াড়দের পক্ষ থেকে সামির চাওয়াটা খুবই যৌক্তিক। বিশ্বকাপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কাছ থেকে উইন্ডিজ ৮০ লাখ ডলার পাবে। ঐতিহ্যগতভাবে ২৫ শতাংশ খেলোয়াড়দের দেয়ার কথা। সে হিসেবে পুরো দল পায় ২০ লাখ। প্রত্যেক ক্রিকেটার ১ লাখ ৩৩ হাজার ডলার। কিন্তু বাজে ব্যাপার, বোর্ড গোটা দলকে মাত্র ৪ লাখ ১৪ হাজার ডালার দেয়ার প্রস্তাব করেছে! এর বিরোধিতা করে খেলোয়াড়রা ডব্লিউআইসিবির চুক্তিপত্রে সই করতে অস্বীকৃতি জানায়। বোর্ডও নাছোড়বান্দা।

খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে সামি বলেছেন, প্রস্তাবিত অর্থের দিগুণ এবং টুর্নামেন্টের ম্যাচ ফির শতভাগ দেয়া হলে তাদের চুক্তিতে সই করতে আপত্তি নেই। তিনি বলেন, ‘টি২০ দলের অধিনায়ক হিসেবেই আমি চাই দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হোক। নির্ভার হয়ে অনুশীলন করতে চাই, যাতে আমাদের মনোযোগ বিশ্বকাপ ঘিরে আবর্তিত হয়।’ চলমান পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলতে সামি এখন আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। সেখানেই সংবাদ মাধ্যমকে এ কথা বলেন তিনি। তিনি আরও যোগ করেনÑ ‘এটা যৌক্তিক চাওয়া। বোর্ড ভুল করে আমাদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স এ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউআইপিএ) সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছে। এই দলের কেউ ডব্লিউআইপিএ’র সদস্য নয়। তাই আমাদের ন্যয্য চাওয়াটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা উচিত নয়।’

সামির চাওয়াটা বোর্ডের করা প্রস্তাবের দিগুণ হলেও তা বাস্তবভিত্তিক। কারণ এবার উইন্ডিজ যে অর্থ দিতে চাইছে তা আগের বিশ্বকাপের চেয়ে কম! মূলত বোর্ডটির ক্রমাগত অর্থনৈতিক দুর্গাতিই এর জন্য দায়ী। পৃথিবী যেখানে সামনে এগোচ্ছে সেখানে দৈন্যতায় ভুগছে ভিভ রিচার্ডস-ব্রায়ান লারার মতো গ্রেটদের পরিচর্যাকারী এই বোর্ড। ডব্লিউআইসিবি ও উইন্ডিজ খেলোয়াড়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব অবশ্য নতুন নয়। একই কারণে এর আগে একাধিকবার তারকাশূন্য হয়ে পড়েছিল ক্যারিবীয় ক্রিকেট। গত সপ্তাহে বোর্ডের ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে দলের পক্ষ থেকে লিখিত চিঠি দেন সামি। সেখানে পারিশ্রমিক বাড়িয়ে শীঘ্রই সমস্যা সমাধানের আবেদন জানানো হয়। চিঠিতে পরিষ্কার করে বলা হয়, তারা কিছুতেই এই আর্থিক প্রস্তাব মানবেন না। অন্যদিকে উল্টো হুমকি দিয়ে বোর্ডও চুক্তিতে সই করার জন্য খেলোয়াড়দের সময় বেঁধে দেয়!

এ অবস্থায় অনেকেই বিশ্বকাপে দলটির তারকাশূন্য হয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন। ভারতে ৮ মার্চ শুরু টি২০ বিশ্বকাপে উইন্ডিজের প্রথম ম্যাচ ১৬ তারিখ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।