২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রক্তমাখা কাপড় দেখে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া

শহীদ বরকতের রক্তমাখা শার্টের এক টুকরো কাপড় দেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রসমাজ। সারা শহর কেঁপে ওঠে মিছিলে মিছিলে আর গগনবিদারী সেøাগানে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর ছিল সংগ্রামী ভূমিকা। ঢাকার কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদের কর্মসূচী অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস বর্জনের মধ্যদিয়ে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। তখনই গঠিত হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিটি। তৎকালীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র সংসদের জিএস মতিউর রহমান আহ্বায়ক, বড় হরনের মহিউদ্দিন আহমদকে (পরবর্তী সময়ে পোস্ট মাস্টার জেনারেল) যুগ্ম আহ্বায়ক (১), সমিউল আহমেদ খান ফটিককে (পরবর্তী সময়ে সাংবাদিক) যুগ্ম আহ্বায়ক (২) করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজ, অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়, জর্জ হাই স্কুল, এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন (পরবর্তী সময়ে রামকানাই হাই একাডেমি), রাণী সরোজিন গার্লস হাই স্কুল (পরবর্তী সময়ে মডেল গার্লস গবঃ হাই স্কুল) বি.বাড়িয়া এম ই স্কুল (পরবর্তী সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়)সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িযা কলেজ প্রাঙ্গণে এসে সমবেত হয়। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে সেদিন মাতৃভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে সমাবেশ হয়। পরিষদের নেতৃবৃন্দ যে কোন মূল্যে রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করার শপথ নেন। সমাবেশের পর শহরে বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ সেøাগানে সারা শহর প্রকম্পিত করে। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িযার নেতৃবৃন্দ জানতে পারেন ঢাকায় ছাত্রদের ওপর পুলিশ হামলা করছে। এ খবর শুনে সবাই উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েন। সবাই প্রকৃত খবর জানার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িযা রেলস্টেশনে ভিড় জমান। ২১ ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মেইল ট্রেনে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র শহীদ বরকতের রক্তমাখা শার্টের এক টুকরো কাপড় নিয়ে আসে।

Ñরিয়াজউদ্দিন জামি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে