১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বগুড়ায় ১৮ দিন একটানা ধর্মঘট

ভাষা আন্দোলন যখন এগিয়ে যাচ্ছিল তখন বগুড়া জিলা স্কুল, করনোনেশন ইনস্টিটিউশন, সরকারী আযিযুল হক কলেজের বিপ্লবী নেতারা পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করতে থাকে। ওই সময়ে নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম মোল্লা নূরুল ইসলাম (পরবর্তী সময়ে বগুড়া উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরীর গ্রন্থাগারিক), মোখলেছুর রহমান, আব্দুল মতিন, গোলাম মহিউদ্দিন, মোশাররফ হোসেন ম-ল, শেখ হারুনুর রশীদ, শাহ আহম্মদ, জালাল উদ্দিন আকবর, আব্দুর রহিম সওদাগর, আতাউর রহমান প্রমুখ।

পরের অধ্যায়ে ১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট শুরু হলে উত্তাল তরঙ্গের মতো সেই ঢেউ এসে লাগে বগুড়ায়। গাজীউল হক ঢাকা থেকে বগুড়ায় এসে ভাষা আন্দোলনের কমিটি গঠন করে বগুড়ার কমিটিতে নেতৃত্ব দিয়ে ঢাকা যান। এভাবেই ঢাকা বগুড়া আসা যাওয়ার মধ্যে বগুড়ায় বড় ধরনের নেতৃত্ব পান। যার প্রথম সারিতে ছিলেন মোল্লা নুরুল ইসলাম, মোখলেছুর রহমান, আব্দুল মতিন, শেরপুরের ডা. রহমুতুল বারী, হারুনুর রশীদ, নরেন্দ্র নাথ। বড় ভূমিকা রাখেন আতাউর রহমান (পরবর্তী সময়ে সরকারী আযিযুল হক কলেজের অধ্যাপক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান এবং নজরুল গবেষক)। ১২ ফেব্রুয়ারি প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমানের আহ্বানে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ মধ্যপ্রাচ্য দিবস পালনের জন্য এ্যাডওয়ার্ড পার্কে সমাবেশ করে। সেখানে রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। এরপরের সভায় বগুড়ায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা নুরুল হোসেন মোল্লা, শেখ হারুন অর রশীদ, মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে থানা রোডে আব্দুল ওয়াহাব খলিফার বাড়িতে আব্দুল আজিজ কবিরাজের সভাপতিত্বে সভায় ১৭ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়।

পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বগুড়ায় খবর আসে ঢাকার মিছিলে গুলিবর্ষণে অনেক ছাত্র মারা গেছে। এর মধ্যে বগুড়ার ছাত্রনেতা গাজীউল হক শহীদ হয়েছেন। এমন খবরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বগুড়া। ওই খবরের ওপর ভিত্তি করে তাঁর গায়েবানা জানাজা হয়। পরে জানা যায়, খবরটি ভুল। তিনি মারা যাননি। ২২ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় পূর্ণদিবস হরতাল পালিত হয়। সন্ধ্যায় হরতাল শেষে ঘোষণা দেয়া হয়, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট। এই ধর্মঘট একটানা ১৮ দিন চলে।

Ñসমুদ্র হক, বগুড়া থেকে