১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

থমকে আছে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ

  • একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পরও

বাবুল সরদার, বাগেরহাট ॥ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি খানজাহান আলী বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ গত জুলাই মাসে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আজও তা শুরু হয়নি। পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরের চূড়ান্ত নক্সা প্রণয়ন এখনও হয়নি। অথচ দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য গত বছর ৬ মে ৫৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বিমানবন্দর নির্মাণ কাজে স্থবিতরায় স্থায়ীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

মংলা সমুদ্রবন্দরকে আরও গতিশীল, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ কেন্দ্রীক পর্যটন শিল্পের বিকাশ, দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ, দেশ-বিদেশে সহজ যোগাযোগ স্থাপন, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে দ্রুততার সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী পরিবহনে স্টল বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর করার সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ওই প্রকল্পের অনুকূলে মাত্র ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আরও ৫৩৬ একর জমি অধিগ্রহণে জমির দাগ নং ও খতিয়ান নির্দিষ্টকরণের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাগেরহাট জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়। নির্দেশ পেয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন জমির দাগ ও খতিয়ান নেয়ার কাজ শুরু করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ এখনও আসেনি। ফলে চলতি অর্থবছরে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ সম্ভব হবে না। জমি অধিগ্রহণ ও অর্থের যোগান হলে আগামী অর্থবছরে নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট রামপাল-মংলা এলাকার সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক জানান, ১৯৯১ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। প্রায় ৯৫ একর জমির মাটি ভরাট কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে এখনও কোন অবকাঠামো নির্মিত হয়নি। যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তারা স্থানীয় অধিবাসী। সম্প্রতি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বিমানবন্দরের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমি পরিদর্শন করেছেন। একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ২০১৮ সালে বিমানে চড়ে খানজাহান অলী বিমানবন্দরে অবতরণ করতে চান। তারপরেও বাস্তবে এ প্রকল্পের কাজের কোন অগ্রগতি হয়নি। তালুকদার খালেক আরও বলেন, যদি আরও জমির প্রয়োজন হয় তারও ব্যবস্থা করা যাবে। তিনি দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ শুরুর আহ্বান জানান।

প্রায় চার মাস আগে একনেক সভায় ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাগেরহাটের রামপালের ফয়লায় খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু এখনও প্রকল্প এলাকায় কাজের জন্য কোন অফিস স্থাপন করা হয়নি। মাঠজুড়ে অবাধে গবাদিপশু বিচরণ করছে। বিমানবন্দরের জমিতে ঘের করে মাছ চাষ করছে স্থানীয়রা। মাটি ভরাটের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক, রোলার, ড্রেজার, তেলবাহী ট্যাঙ্কার অযতেœ নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ২৫ অক্টোবর এপিডি পর্যালোচনা সভায় খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ এবং ভবিষ্যতে ওই জমি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিমান) নায়েব আলী ম-লের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত হয়। বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে সরেজমিন পরিদর্শন প্রতিবেদন দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে বলা হলেও আজও তা হয়নি।