২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বামীর পরকীয়ায় শিশুসন্তান নিয়ে শিল্পী দ্বারে দ্বারে

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ ‘প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছে আমার স্বামী। তাকে নিয়ে চোখের সামনে বসবাস করছে অথচ কিছুই বলার নেই। কথা বললেই চলে নির্যাতন যে কারণে মুখ বুজে সব সহ্য করি। বাঁচার আর ইচ্ছা নেই আবার মরতেও পারছি না। কোলের বাচ্চাটাকে কার কাছে রেখে যাব? পুষ্প আমার সংসার ভেঙ্গেছে। আর কোন নারীর যেন এমন অবস্থা না হয়।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবে স্বামীর নির্যাতন ও অন্য নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কথা জানালেন, শিল্পী ম-ল নামে এক গৃহবধূ।

সরেজমিনে গিয়ে শিল্পী ও তার শশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার খলিশাখালী গ্রামের নরেন্দ্র নাথ ম-লের পুত্র সুকেশ ম-লের সাথে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নারাণখালী গ্রামের কালিপদ ম-লের কন্যা শিল্পী ম-লের ৬-৭ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সুকেশ পুষ্প বৈদ্য নামে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পুষ্পর স্বামী মনমথ বৈদ্যের আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। এতে সুকেশ আর পুষ্পের জন্য উত্তম সুযোগ সৃষ্টি হয়। তারা দুজনে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সুকেশ নিয়মিত পুষ্পের বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে। কিন্তু স্বামীর এ অনৈতিক কাজের বিষয়টি সুকেশের স্ত্রী শিল্পী কোনভাবেই মেনে নিতে না পারায় এ কাজে বাদ সাধে সে। যার ফলে তার ওপর প্রায়ই চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। বর্তমানে সুকেশ পুষ্পকে নিয়ে আলাদা বসবাস করছে। তবে শিল্পী ও তার চার বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে তাদের কোন ভরণ-পোষণ দেয় না বলে স্বামীর বিরুদ্ধে শিল্পীর অভিযোগ।

শিল্পীর শ্বশুর নরেন্দ্র নাথ ম-ল ছেলের অপকীর্তির কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন। তিনি হতাশা করে জানান, এমন কুলাঙ্গার সন্তান যেন আর কারও না হয়। মা-বাবা ও নিজের স্ত্রী-সন্তানকে কোন ভরণ-পোষণ না দিয়ে অন্য নারীকে নিয়ে সংসার পেতেছে। ছেলেকে অনেক বুঝিয়ে ও পথে আনতে পারিনি। বুড়ো বয়সে সংসারের ঘানি টানতে হচ্ছে আমাকে। এ পরিস্থিতিতে পুষ্পর কবল থেকে ছেলেকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনসহ এলাকার সচেতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে পুষ্পর দেবর প্রমথ বৈদ্য জানান, তার বড় ভাই মনমথ বৈদ্যের মৃত্যুর আগে থেকেই সুকেশ তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করত এবং তার ভাইবউ পুষ্পর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। বর্তমানে নিজের স্ত্রী-সন্তানকে রেখে পুষ্পকে নিয়ে বসবাস করছে সে। সুকেশের বিভিন্ন অনৈতিক কাজে বাধা দেয়ায় তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। এছাড়া তার বড় ভাইয়ের মতো তারও পরিণতি হবে বলে হুমকি দিয়েছে সুকেশ। এ ঘটনায় প্রমথ গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুুকেশের বিরুদ্ধে চিতলমারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পেছনে সুকেশ ও পুুষ্পর বড় চক্রান্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ তার।

এ বিষয়ে সুুকেশ ম-লের সঙ্গে কথা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পুষ্পকে আমি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বিয়ে করেছি। সে এখন আমার স্ত্রী। তাই তাকে নিয়ে সংসার করছি।

এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার ওসি মোঃ রেজাউল করিম জানান, সুকেশের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

নির্বাচিত সংবাদ