২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এজতেমায় এসে পেরুর নাগরিক কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ এজতেমায় যোগদানের জন্য বাংলাদেশে এসে প্রতারক কর্মচারীর খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুঁইয়ে প্রায় দু’মাস বরিশাল কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর লিমা শহরের বাসিন্দা জাগা চিটা ভিক্টরের পুত্র গার্মেন্টস্ ব্যবসায়ী জেরি ভিক্টর (৫৫)।

সূত্র মতে, এ বিদেশী নাগরিকের আটকের খবর এখনও জানেন না তার স্বজনরা। জেল থেকে মুক্ত হয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারাগারে আটক জেরি ভিক্টর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তা ও ভারতে অবস্থানরত পেরুর হাইকমিশনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একটি মামলায় কারাভোগের পর সদ্য বরিশাল কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়া নগরীর বাসিন্দা রনি প্যাদা নামের এক যুবক জেরি ভিক্টরের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখিত তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ এবং ওই যুবকের দেয়া তথ্যে জানা গেছে, দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর লিমা শহরের বাসিন্দা জাগা চিটা ভিক্টরের পুত্র জেরি ভিক্টর। তার (জেরি) পেরুর লিমা শহরে পার্কল্যান্ড নামের একটি গার্মেন্টস রয়েছে। ওই গার্মেন্টেস্ েকর্মচারী হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিল বরিশাল মেট্রো পলিটন সাহেবেরহাট (বন্দর) থানার কাউয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা জনৈক বিপ্লব। সম্প্রতি বিপ্লব ছুটিতে দেশের বাড়িতে আসেন। সূত্রে আরও জানা গেছে, খ্রীস্ট সম্প্রদায়ের জেরি ভিক্টর দুই বছর পূর্বে নিউইয়র্কে জাকির নায়েকের একটি বক্তব্য শুনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বিশ্ব এজতেমায় যোগদানের জন্য ১৯ডিসেম্বর জেরি ভিক্টর বৈধভাবেই ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে জেরি ভিক্টরকে বাংলাদেশে রিসিভ করেন তার গার্মেন্টস্রে কর্মচারী (ছুটিতে দেশে আসা) বিপ্লব। সে অনুযায়ী ওইদিনই বিপ্লব তার মালিক জেরি ভিক্টরকে তাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আনার ফাঁদ পেতে লঞ্চযোগে নিয়ে আসেন। ২০ ডিসেম্বর ভোরে বরিশাল লঞ্চঘাটে নামিয়ে জেরি ভিক্টরকে চরকাউয়া এলাকার নির্জনস্থানে নিয়ে বেদম মারধর করে অজ্ঞান করে সাথে থাকা ৫ হাজার ইউরো, মোবাইল ফোন, পাসপোর্টসহ মালামাল লুট করে নেয়া হয়। স্থানীয়রা অচেতন অবস্থায় জেরি ভিক্টরকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। জেরি ভিক্টরের বরাত দিয়ে রনি প্যাদা আরও জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জেরি ভিক্টরের কাছে থানা পুলিশ মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় ২১ ডিসেম্বর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন সাহেবেরহাট (বন্দর) থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক সাহা সাব।