১৯ আগস্ট ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যশোরে বেপরোয়া ইজিবাইক

  • প্রতিদিনই দুর্ঘটনা

সাজেদ রহমান, যশোর অফিস ॥ যশোরে ‘বিষফোঁড়া’ নামে পরিচিত ইজিবাইক আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই এই বাইকের আঘাতে কোন না কোন স্থানে ঘটছে দুর্ঘটনা। পথচারীরাও রেহাই পাচ্ছেন না এই বাহনের কবল থেকে। শুধু তাই নয়, ইজিবাইক চালকদের হাতে প্রহৃত ও লাঞ্ছিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ট্রাফিক পুলিশ এদের নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আর এই ব্যর্থতার কারণে গোটা শহর যেন গ্রাস করে ফেলেছে ব্যাটারিচালিত এই ইজিবাইক। ফলে শহরময় যানজট স্থায়ী রূপ ধারণ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশকে চাঁদা দেয়ার সুবাদে ইজিবাইক চালকরা কাউকে তোয়াক্কা করছে না।

প্রায় বছর দশেক আগে যশোরে আবির্ভাব ঘটে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের। চায়না থেকে আমদানি করা এই বাইকটি বিশেষ করে বেকার যুবকদের কাছে দেখা দেয় আশীর্বাদ হয়ে। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ দেখে অনেক ব্যবসায়ী ঝুঁকে পড়েন বাইক ব্যবসায়। শুরু থেকেই বাম্পার ব্যবসা যায় এই বাইকের। মাত্র দু’বছরের মাথায় বাইকে বাইকে ভরে যায় গোটা যশোর শহর। আর এখন তো শহরে পা ফেলার জায়গা নেই এই বাহনটির কারণে। অনেকের ধারণা, ১০ হাজারের অধিক ইজিবাইক শহরের সড়কগুলো দখল করে রেখেছে। এর মধ্যে দড়াটানা, সদর হাসপাতাল মোড়, চিত্রা মোড়, দড়াটানা ব্রিজ, মুজিব সড়ক, সিভিল কোর্ট মোড়, চৌরাস্তা মোড়, রেলরোড, গরীর শাহ সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এখন অঘোষিত বাইকস্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এসব পয়েন্টে সাত সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অসংখ্য বাইক রাস্তা দখল করে থাকায় অন্যান্য যানবাহন চলাচল চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। ইজিবাইকের কারণে মিনিটে মিনিটে এসব স্থানে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজটের। ট্রাফিক পুলিশ এদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছেন। পথচারীরা টুঁ-শব্দ করলেই তেড়ে আসছে বাইক চালকরা। সন্ত্রাসী প্রকৃতির চালকদের হাতে এ পর্যন্ত লাঞ্ছিত বা প্রহৃত হয়েছেন অনেকে। তাদের হাত থেকে রেহাই পাননি পুলিশ সদস্যরাও। ইতোমধ্যে শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানায় দায়িত্ব পালনকালে ইজিবাইক চালকের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। সর্বশেষ যশোর শহরে বখাটে এক ইজিবাইকচালক কর্তৃক লাঞ্ছিত হন ভারতের শান্তিনিকেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। যদিও এ ঘটনায় ব্যাপক ভূমিকা রাখার কারণে ওই বাইক চালককে এক বছরের কারাদ- দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর প্রবেশমুখের অর্ধেক অংশ দখল করে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে ইজিবাইক চালকরা। ফলে এসব স্থান দিয়ে পথচারীসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। রাতের বেলা এই ইজিবাইকগুলো আবির্ভূত হয় যমদূতের মতো। প্রায় ৯০ শতাংশ বাইকে কোন লাইট বা বাতি না থাকার কারণে রাতের আঁধারে যত্রতত্র ঘটছে দুর্ঘটনা। এছাড়া দিনে-রাতে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে চালকরা জানান দিচ্ছে ‘তারাই রাস্তার রাজা’। ইজিবাইক চালকদের সাফ জবাব, ‘আমরা পুলিশকে নিয়মিত চাঁদা দিয়ে শহরে ইজিবাইক চালাই। স্লিপের মাধ্যমে যে চাঁদা দেই, তার অর্ধেকটা যায় পুলিশের পকেটে।’ সচেতনমহল বলছেন, এই ইজিবাইকের কারণে প্রতিদিনই যানজট ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

এই মাত্রা পাওয়া