২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আতঙ্কের নাম মিরপুর শাহআলী থানা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর মিরপুর শাহআলী থানা যেন এক আতঙ্কের নাম। হেনস্তার ভয়ে কেউই সেবা নিতে যান না সেখানে। চাঁদাবাজি, হয়রানি, পুলিশের সোর্সের নামে নাজেহালসহ শাহআলী থানার বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন শেষ নেই। নিরাপত্তা দেয়াই যাদের প্রধান দায়িত্ব সেই থানা পুলিশের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ কতটা অসহায় তাই দেখা গেল মিরপুরে।

ক্যামেরার সামনে কথা বলতে ভয় পেলেও ক্যামেরা সরাতেই জানা গেল অভিযোগের ফিরিস্তি। সম্প্রতি এ থানার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের হামলায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান চা দোকানি বাবুল। গত বুধবার রাতে মিরপুরের গুদারাঘাটে চাঁদা না পেয়ে পুলিশ চা বিক্রেতা বাবুল মাতব্বরের কেরোসিনের চুলায় লাথি মারলে কেরোসিন ছিটকে বাবুলের গায়ে আগুন ধরে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবুল মারা গেলে শাহআলী থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এলাকাবাসীর মধ্যে।

তবে শাহআলী থানার অধীনে অন্যসব এলাকায় পুলিশের সেবা আর নিরাপত্তার প্রশ্নে নীরবতা পালন করাই নিরাপদ বলে মনে করেন এখানকার বাসিন্দারা। ক্যামেরা সরাতেই অভিযোগের ফিরিস্তি যেন শেষ হয় না। অহরহ পাওয়া যায় পুলিশের হয়রানির শিকার ব্যক্তিদেরও।

এদিকে নিহত চা দোকানি বাবুলের পরিবার একমাত্র আয়ের লোকটিকে হারিয়ে আবারও পথে নেমেছেন রুটি-রোজগারের খোঁজে। ছোট মেয়ে লাবনী অনিশ্চিত জেনেও বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মঙ্গলবার। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর চা দোকানি বাবুলের পরিবার স্বস্তির বদলে আছেন আতঙ্কে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহআলী থানায় যাওয়ার পর কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকি মুঠোফোনে কথা বললে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ক্যামেরার সামনে আসতে অস্বীকৃতি জানান থানার দায়িত্বরত তদন্ত কর্মকর্তা। এমনকি শাহআলী থানার বিষয়ে মিরপুর জোনের ডিসি অফিসে দু’দিন গিয়েও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর পাঁচ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রদবদল করা হয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা মানতে নারাজ পুলিশ কর্মকর্তারা। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তার কাজের সুবিধার্থে এবং কাজ আরও বেশি গতিশীল করার জন্য নিয়মিতই বিভিন্ন থানার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি করে থাকে। এটা আমাদের রুটিন কাজ।’

বাবুল হত্যার আরেক তদন্ত প্রতিবেদন জমা ॥ চা দোকানি বাবুল মৃত্যুর ঘটনায় শাহআলী থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে মিরপুর জোনের গঠিত তদন্ত কমিটি। বিকেলে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আহমদ খান মিরপুর জোনের উপ-কমিশনারের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন।

এর আগে, পুলিশের উপস্থিতিতে চা দোকানি বাবুলকে মারধর ও অগ্নিদগ্ধ করার ঘটনায় প্রথমে শাহআলী থানার তিন উপ-পরিদর্শক, এক সহকারী উপ-পরিদর্শক ও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় গঠিত দুটি কমিটির মধ্যে ডিএমপির শৃঙ্খলা বিভাগের উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে গঠন করা কমিটির প্রতিবেদন আগেই জমা দেয়া হয়েছিল। পরে জমা দেয়া হয় অপর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন। দু’টি প্রতিবেদনেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়।