১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অপারেশনের পর প্রসূতির মৃত্যু ॥ ডাক্তারের বাসায় হামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর, ১২ ফেব্রুয়ারি ॥ কেশবপুরে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার তুলকালাম কা- ঘটেছে। নিহত রেকসোনার স্বজন ও গ্রামবাসী ওই ক্লিনিকের ডাক্তারের বাসভবন হামলা করে ভাংচুরের চেষ্টা চালিয়েছে। প্রায় দু’ঘণ্টা শত শত লোকজন ওই বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে ডাক্তারের শাস্তি দাবি করে। এ সময় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ তাদের সামাল দিতে ব্যর্থ হলে থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা বাসভবন থেকে উপজেলা পরিষদে গিয়ে বিক্ষোভ করে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় কেশবপুরের দেওলী গ্রামের কালাম মোল্যার স্ত্রী রেকসোনার (২০) সিজার করে একটি কন্যা সন্তান প্রসাব করান ডাক্তার দীলিপ রায় ও তার স্ত্রী ডাক্তার অঞ্জলী রায় কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সিজার করার জন্য পাঁচ হাজার টাকায় চুক্তি করে। পরের দিন রেকসোনা ভাল থাকার পর রবিবার সন্ধ্যায় তার পেট ফুলে যায়। গভীর রাতে রেকসোনাকে ওই ডাক্তাররা আবারও অপারেশন করে। বুধবার রোগির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে খুলনা নিতে বলা হয়। তখন রেকসোনাকে খুনলা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে নেয়া হয় এবং ওই রাতে সে মারা যায়। রেকসোনার দেবর হাবিবুর রহমান জানান, দ্বিতীয়বার অপারেশন করার আগে তার কাছ থেকে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। প্রথমে তাদের রোগীর কাছে যেতে ও দেখা করতে দেয়া হয়নি। মারা যাবার কিছু সময় আগে তাকে খুলনা নিতে বলা হয়েছে। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছে, সিজার করতে এক জায়গা কাটা লাগে নিহতের পেট ও পিঠের নিচে মোট তিন জায়গায় কাটা হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাশ মাটি দেয়ার পর তারা ওই ক্লিনিকে গিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাদের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর শুক্রবার সকালে গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে কপোতাক্ষ সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যায়। সেখানে ডাক্তার দিলীপ রায়কে না পেয়ে কেশবপুর হাসপাতালের পাশে ডাক্তার দিলীপ রায়ের তিনতলা বাসভবনে হামলা করে। তারা গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে গেট বন্ধ করে দিয়ে ডাক্তারের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে মারপিট করেছে বলে বিক্ষোবকারীরা সাংবাদিক ও পুলিশকে জানায়। প্রায় দু’ঘণ্টা বিক্ষোভকারীরা নানা সেøাগান দিয়ে ভেতরে ঢোকার জন্য পুলিশ ও ডাক্তারের লোজনের সাথে হাতাহাতি করে। এ সময় পুলিশ সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাধা দেয়। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থানার ওসি শহিদুল ইসলাম প্রচুর পুলিশ নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে নিহতের স্বজন ও বিক্ষোভকারীদের থানায় অভিযোগ দিতে অনুরোধ করে তাদের শান্ত করেন। তখন বিক্ষোভকারীরা বাসভবনের সামনে থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সামনের মাঠে অবস্থান নেয়। চিকিৎসায় কোন ত্রুটি হয়নি দাবি করে মনিরামপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দিলীপ রায় জানান, পাঁচদিন আগে রেকসোনকে সিজার করি, পরের দিন তার পেটে পানি জমে যাওয়া দ্বিতীয়বার অপারেশন করি। কিন্তু রোগির কিডনি ঠিকমতো কাজ না করায় তাকে খুলনায় রেফার করলে সেখানে সে মারা যায়।