২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠাতে হবে

  • আওয়ামী লীগের নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রথম ধাপে ৭৫২ ইউনিয়ন পরিষদের জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে তা কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এছাড়া যোগাযোগ মাধ্যমে ইউনিয়ন শাখা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক-সাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রার্থী হতে পারবেন না মর্মে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা জানতে চাইলে এটিকে ‘স্রেফ গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল নেতাদের বিভ্রান্ত করতেই কোন অশুভ মহল থেকে এসব গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার রাতে ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি পরিষ্কার করেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। হানিফ বলেন, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা হতে কারও কোন বাধা নেই। একটি অশুভ মহল থেকে গুজব ছড়ানো হয়েছে যে, ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। এটি মোটেই ঠিক নয়। আমরা বলতে চাই, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে কারও কোন বাধা নেই। শুধু পৌরসভা নির্বাচনে যারা দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করেছিলেন তারা শুধু প্রার্থী হতে পারবেন না।

বিএনপির অভিযোগের জবাবে হানিফ বলেন, বিএনপির জাতীয় সম্মেলন নিয়ে দলের নেতারা প্রতিদিনই মিথ্যাচার করছে। বিএনপির মতো একটি স্বৈরচারী দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলন নিয়ে দেশের মানুষ কেন, বিএনপির অনেক নেতারই কোন মাথাব্যথা নেই। নির্বাচন কমিশন আইনী বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা বিএনপির হীনম্মন্যতাই প্রকাশ পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, মৃণাল কান্তি দাস এমপি, এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, গত বুধবার থেকেই কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী ঠিক করে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য দেশের সকল জেলা ও উপজেলা সভাপতি-সম্পাদক বরাবরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, মনোনীত প্রার্থীর নাম (ভোটার নং- ১২ ডিজিট) এবং নির্বাচনী আইন, নীতিমালা ও বিধিমালা অনুযায়ী সকল তথ্য প্রার্থীর নামের সঙ্গে প্রেরণ করতে হবে।

চিঠিতে বলা হয়, প্রার্থীর ভোটার আইডির ফটোকপি অবশ্যই প্রেরণ করতে হবে। আর প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকগণের সমন্বয়ে গঠিত তৃণমূল বোর্ডের সকল সদস্যর তাতে স্বাক্ষর থাকতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত স্থানীয় সরকার/ইউনিয়ন পরিষদ মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্তকৃত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।

উল্লেখ্য, আগামী ২২ মার্চ থেকে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট শুরু হবে। এবার ছয় ধাপে ৪ হাজার ২৭৯ ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। প্রথম ধাপে ২২ মার্চ ৭৫২টি ইউপিতে, ৩১ মার্চ ৭১০, ২৩ এপ্রিল ৭১১টি, ৭ মে ৭২৮টি, ২৮ মে ৭১৪টি এবং সবশেষ আগামী ৪ জুন ৬৬০টি ইউপিতে ভোট হবে।