২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফিলিস্তিনের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য আব্বাসের কৃতজ্ঞতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সব সময় তাদের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। শনিবার মধ্যরাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে এ আশ্বাস দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে ফিলিস্তিনকে অব্যাহতভাবে সমর্থন করায় বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মাহমুদ আব্বাস।

ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস টোকিও যাওয়ার পথে শনিবার মধ্যরাতে ঘণ্টাখানেকের জন্য ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী শাহজালাল বিমানবন্দরে ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান।

শনিবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মাহমুদ আব্বাস। ফিলিস্তিনী জনগণের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের কারণেই প্রেসিডেন্ট আব্বাস ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন। বিদ্যুত ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ঢাকায় আরব দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরাও বিমানবন্দরে ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান।

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে ফিলিস্তিনী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর বৈঠক হয়। বৈঠকে ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় ফিলিস্তিনের পাশে ছিল, ভবিষ্যতে অব্যাহতভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাবে। এ সময় ফিলিস্তিনীর প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সূত্র জানায়, জর্দান থেকে টোকিও যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রা বিরতি করেন ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্টের বিমান। এসময় তারা বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জেই কাটান। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল মালিক, প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রোদিনি, কূটনীতি বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মাজদি আল খালিদী, অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মুস্তাফা আবু আল রব ও জর্দানে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত আতাল্লাহ খাইরি এই সফরে প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সঙ্গে ছিলেন।

ঢাকায় ফিলিস্তিন দূতাবাসের শার্জ দ্য এ্যাফেয়ার্স ইউসুফ এসওয়াই রামাদানও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সবসময়ই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ও তার জনগণের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। ইসরাইলীর আগ্রাসনের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের পক্ষেও কথা বলে আসছে বাংলাদেশ। ফিলিস্তিন জনগণের প্রতি দিন দিন বিশ্বের সমর্থন বাড়ায় সে দেশের মানুষের জীবনেও পরিবর্তন আসছে। গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পতাকা তোলা হয়।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঁচিশ বছর পূর্তিতে ১৯৯৭ সালে ফিলিস্তিনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত ঢাকায় এসেছিলেন। তবে ইয়াসির আরাফাতও একাধিকবার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রা বিরতি করেছেন। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সফরের ক্ষেত্রে অনেক সময়েই ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপ্রধানরা ঢাকা বিমানবন্দরে যাত্রা বিরতি করে থাকেন। এর আগে ২০১০ সালে জাপান ও কোরিয়া সফরের সময়ও ঢাকায় যাত্রা বিরতি করেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

এদিকে জানা গেছে, ফিলিস্তিনের প্রেসিডন্টে মাহমুদ আব্বাস চার দিনের সফরে জাপান গেছেন। জাপান ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যই জাপান সফরে গেছেন তিনি। ২০০৫ সাল থেকে এ নিয়ে তিনি চারবার জাপান সফরে গেলেন। এর আগে গত বছর জানুয়ারিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ফিলিস্তিন সফর করেন। ১৯৯৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে জাপান।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া