১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাড়ম্বরে সরস্বতী পূজা উদ্্যাপিত, ভক্তদের উপচেপড়া ভিড়

সাড়ম্বরে সরস্বতী পূজা উদ্্যাপিত, ভক্তদের উপচেপড়া ভিড়

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শনিবার সারাদেশে বিদ্যাদেবী সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় এ উৎসবকে ঘিরে সারাদেশেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। সারাদেশের মন্দির ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভক্তরা বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠার্থী দেবী শ্বেতশুভ্র বসনা জ্ঞানদায়িনী দেবী সরস্বতীর পাদপ™ে§ পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেছেন। মণ্ডপে মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও হাতেখড়ি, প্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যারতি, আলোকসজ্জা ও মেলা বসেছে।

প্রতিটি পূজাম-পের বাণী অর্চনায় সমবেত হন নানা সাজে সজ্জিত নারী, পুরুষ, আবাল, বৃদ্ধ-বণিতা। আবহমান বাঙালীর অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে হিন্দুদের পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষকেও এ উৎসবে যোগ দিতে দেখা যায়। দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে মন্দির সংলগ্ন সড়কগুলোতে দিনভর ছিল যানজট।

রাজধানীর ঢাকেশ^রী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি আয়োজিত সরস্বতী পূজায় সকাল থেকে হাজার হাজার পূজারী ও ভক্ত উপস্থিত হন। এখানে সকাল ৬টায় প্রতিমা স্থাপন, ৯টায় পূজা অনুষ্ঠিত, ১০টায় পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, সন্ধ্যা ৭টায় সন্ধ্যারতি এবং রাতে আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়। মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ছিল বাহারি পণ্যের বিকিকিনি। গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দিরেও উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। সেখানেও বিপুল দর্শনার্থী বিদ্যাদেবীর কৃপা প্রার্থনা করেছেন। রমনা কালিমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম ম-পেও পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করা হয়।

তবে প্রতিবছরের ন্যায় সরস্বতী পূজার মূল আকর্ষণীই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনগন্নাথ হল। হলটি সেজেছিল অপরূপ সাজে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩টি বিভাগ ও অনুষদের পক্ষ থেকে বিদ্যাদেবীর পূজার আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পাশাপাশি পাঁচটি হলেও পূজার আয়োজন করা হয়। ভবনগুলোতে আলোকসজ্জার পাশাপাশি প্রসাদ বিতরণসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মেয়েদের হলগুলোও পরিণত হয়েছিল বিদ্যানুরাগীদের মিলনমেলায়।

জগন্নাথ হলের প্রতিটি বিভাগের ম-প তৈরি করা হয় নিজস্ব বিভাগীয় থিম অনুযায়ী। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সবার দৃষ্টি কাড়ে জগন্নাথ হলের পুকুরের মাঝখানে ভাসমান মঞ্চে নির্মিত চারুকলা বিভাগের ব্যতিক্রমীয় পূজার আয়োজন। পুকুরের মাঝখানে স্থাপিত শোলা দিয়ে তৈরি বিশালাকার একটি প্রতিমা পুণ্যার্থীদের নজর কাড়ে। ঢাবির বিভিন্ন বিভাগ ও হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে পূজা দেখতে আসেন। এসেছেন বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশীরাও। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও মন্ত্রীরা জগন্নাথ হলে এসে এ আনন্দের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

গতবারের মতো এবারও গণতন্ত্রের সূতিকাগার জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় সরস্বতী পূজার। সকালে দেবীর পূজা, পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণের পর সন্ধ্যায় সেখানে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশের প্রতিথযশা শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। পংকজ দেবনাথ এমপির পরিচালনায় সকাল থেকে রাত অবধি পূজার্চনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শামসুল হক টুকু, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, মাহবুব আরা গিনি, পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি, মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি, ইস্রাফিল আলম এমপি, আবুল কালাম আজাদ এমপিসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিশিষ্টজনেরা।

এছাড়া জয়কালী মন্দির রোডের রামসীতা মন্দির, ইসকন মন্দির, জজকোর্ট প্রাঙ্গণে ঢাকা আইনজীবী সমিতির ম-প, মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে সচিবালয় পূজা উদযাপন ও কল্যাণ পরিষদের ম-প, অডিট এ্যান্ড এ্যাকাউন্টস পূজা উদযাপন পরিষদের ম-প, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা), ব্যাংকার্স পূজা পরিষদ, ঠাঁটারিবাজার শিব মন্দির, বিহারী লাল জিউ মন্দির, রাধাগোবিন্দ জিও ঠাকুর মন্দির, রাধামাধব বিগ্রহ মন্দির, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, তিতুমীর কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, মিটফোর্ড হাসপাতাল ও কলেজ, বাংলা কলেজ, ভিকারুননিসা-নূন স্কুল এ্যান্ড কলেজ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠন ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।