১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উপ-আঞ্চলিক সহায়তায় নেপাল ও ভুটানকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে

রশিদ মামুন ॥ উপ-আঞ্চলিক সহায়তা বৃদ্ধিতে এবার সরকারী খাতের পাশাপাশি বেসরকারী খাতকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল এবং ভুটানকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান সম্প্রতি বেসরকারী খাতকে সহায়তা করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দিয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় দেশটির প্রতিষ্ঠিত আদানী পাওয়ার লিমিটেড এবং রিলায়েন্স গ্রুপ বাংলাদেশে বিদ্যুত খাতে বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসে। ওই সময় বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) স্বাক্ষর করে তারা। ভারতীয় কোম্পানি জিএমআরসহ বিভিন্ন কোম্পানি নেপাল এবং ভুটানে বিদ্যুত প্রকল্প নির্মাণ করছে। এছাড়া ভারতের প্রতিষ্ঠিত শিল্প গ্রুপ টাটা বাংলাদেশে পৃথক একটি শিল্প পার্ক স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে জমি বরাদ্দ চাইছে। উপ-আঞ্চলিক সহায়তায় বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না। গেল বছর নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় দেশের বিদ্যুত উৎপাদনকারী কোম্পানির মধ্যে সব থেকে বড় কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেড এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

ড. মসিউর রহমান তার চিঠিতে লিখেছেন অর্থনৈতিক কর্মকা-ে বেসরকারী খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ এবং ভারতের শিল্প ও বণিক সমিতি বিনিয়োগ কর্মসূচীতে গতি আনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। তারা জানিয়েছেন নেপাল ও ভুটানের প্রতিনিধিও সত্বর এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। বেসরকারী উদ্যোগ এবং সরকারী কর্মসূচীর মধ্যে সমন্বয় এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য দেশের সরকারের মধ্যে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা জরুরী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২০১৮ সালে এক হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হবে। বর্তমানে ৭০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি রয়েছে বাণিজ্য। যদিও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রায় সবটাই ভারতের অনুকূলে। যেখানে বিপুল পরিমাণ ঘাটতিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এর বাইরে নেপাল এবং ভুটানেও বাণিজ্যের সম্প্রসারণ করাও সম্ভব। দেশ দুটিতে বাংলাদেশের ওষুধ, প্রসাধন সামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন সরাসরি রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য এবং সহায়তা পেলে তারা লাভবান হবেন। সরকারী পর্যায় থেকে অন্য দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে যে কোন সমস্যার সমাধান করা হলে বাণিজ্যের সম্প্রসারণ সহজ ও দ্রুততর হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় দ্রুত পণ্য পাঠানো যায় আবার লেনদেনে খরচও কম পড়ে। অন্যদিকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন নৌরুট চালু হওয়ায় পণ্যপরিবহন আরও সহজ হয়েছে। বর্তমানে ২৫টি পণ্য (তামাক ও মাদকজাতীয় পণ্য) ছাড়া সব পণ্যেই বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা দিয়েছে ভারত। ফলে পণ্য রফতানিতে এখন শুল্কগত তেমন বাধা নেই। ভারত বাংলাদেশে প্রধানত তুলা, চিনি, খাদ্যশস্য, গাড়ি, কাপড়, মাছ, খনিজ জ্বালানি, লবণ ও সিমেন্ট রফতানি করে থাকে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রধানত কাঁচা পাট ও পাটপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিপণ্য, রাসায়নিক পণ্য, চামড়া, নিট ও ওভেন পোশাক এবং চা রফতানি হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা বেশকিছু দূর অগ্রসরও হয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য ভারতের গুজরাটে জমি দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদি। এছাড়াও বিভিন্ন উদ্যোক্তা ভারতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছে। যেহেতু দেশটির বাজার অনেক বড় সেজন্য ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বেশি। ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান ভারতে ব্যবসা শুরু করেছে। যেখানে তাদের অবস্থান বেশ সুদৃঢ়। সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে চায়। এতে দেশের বাণিজ্যের সম্প্রসারণের পাশাপাশি আমাদের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মসিউর রহমান গত ২ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক এবং বিদ্যুত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কাছে পত্রটি দেন। তিনি কমিটি গঠন বিষয়ে কোন আপত্তি বা পরামর্শ থাকলে জানানোর অনুরোধ করেন।

বলা হচ্ছে, গত বছরের ৭ জুন বাংলাদেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ইশতেহার, ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো স্মারক, গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে যৌথ বিবৃতি ও তার বক্তৃতা উভয় দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করেছে। নানা ইস্যুতে ভারত এবং বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল ও ভুটানকে সম্পৃক্ত করা যায়।