২০ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রেমের বৃন্দাবনে সেলফি তুলে মেমোরি কার্ডে ধরছে এবারের ফাল্গুন

প্রেমের বৃন্দাবনে সেলফি তুলে মেমোরি কার্ডে ধরছে এবারের ফাল্গুন

সমুদ্র হক ॥ এবারের ফাল্গুনের দিন এসেছে প্রযুক্তির সেলফি নিয়ে আর শীত উধাও করে দিয়ে বৃন্দাবনের মেলা বসিয়ে। বসন্তের প্রথম দিনে বসন্ত বেলার বসন্তের শুভেচ্ছা সবই সেলফি দিয়ে। ফাগুনের রঙের লাল পেড়ে হলুদ (বাসন্তী) রঙের শাড়ির সঙ্গে নানা রঙের শাড়ি কামিজ যোগ হয়েছে। খোঁপার একটি গাঁদা ফুলের সঙ্গে নানা জাতের নানা রঙের ফুল সিঁথির মধ্যে এসেছে। প্রণয়ের মানুষকে হাতে হাতে ফুল দেয়া-নেয়ার পাশাপাশি যোগ হয়েছে সেলফি তুলে স্মৃতি (মেমোরি) কার্ডে ধরে রাখার পালা। বর্তমানের তরুণ-তরুণীরা স্মার্ট ফোন সঙ্গে নিয়েই বের হয়েছে ফাল্গুন উদযাপনে। তরুণ-তরুণীরা বসন্ত লগ্নের মধুময়তার মিলনমেলায় হাজারও স্মার্ট ফোনের ক্যামেরা নিজেদের সামনে এগিয়ে ধরে সেলফিতে ছুঁয়ে দিচ্ছে।

এবারের ফাগুন এসেছে নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতি নিয়ে। এমনই দিনে কে আর ঘরে থাকে! নিজেরে হারিয়ে খুঁজে পেতে এবং মনের একান্ত গভীরে থাকা সেই মানব-মানবীকে খুঁজতে পথে নেমেছে। পরের দিন (আজ) কিউপিড দেবতা ধনুকে প্রেমের তীর ভরে ছুঁড়ে দেবে মানব মানবীর হৃদয় কোণে। মানবজীবনের রোমান্টিসিজমের চিরকালীন সত্তায় সেই তীর বিঁধবে সবার হৃদয়ে। এবার বুঝি প্রেমের কিউপিড দেবতা বাঙালীর ফাগুনের মধুময়তার এত সব আয়োজন দেখে তীর ছুড়ে দেয়ার সময়টাকে একদিন এগিয়ে নিয়েছে। তা না হলে এই দিনে এত মানবমানবীর মেলা বসল কেমন করে! ঢাকার সংসদ ভবন চত্বর, চন্দ্রিমা উদ্যান বগুড়ার এডওয়ার্ড পার্ক, যমুনা তীরের প্রেম যমুনার ঘাট, সরকারী আযিযুল হক কলেজের সামনের লেক চত্বরকে মনে হলো এ যেন আরেক বৃন্দাবন। যেখানে জুটি বেঁধে হাঁটছে তরুণ-তরণীরা। বাদ নেই মধ্যবয়সীরা। বগুড়ার আধা টাক মাথার এক মধ্যবয়সীকে দেখা গেল ফেসিয়াল করে নীল বঙের মধ্যে সাদা ফোঁটা ও স্ট্রাইপে লম্বা পাঞ্জাবি পরে আজকের দিনের ইতি-উতি তাকিয়ে প্রেমের বৃন্দাবনে ঘুরঘুর করছেন। আরেক তরুণকে দেখা গেল মেরুন রঙের চাদরে ফাল্গুনের কবিতা স্কিন প্রিন্ট করে গায়ে চড়িয়েছে। কোন তরুণীর কাছে গেলে কবিতা পড়তে চাইলে হৃদয় উজাড় করে কবিতা পাঠ করে শোনাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতা উপন্যাসের সংলাপ ‘তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান; গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছো আমায়...’ আউড়ে মাঝে মঝে বলছেন ‘এমনই দিনে তারে কি....’। বগুড়ার ফুলের দোকানের সামনে এমন ইঙ্গিতের কথায় কাউকে যে ফুল দেবে তাও আর হচ্ছে না। সকাল ন’টার মধ্যে ফুলের দোকানের ভান্ডার খালি। যা আছে তার দাম চড়া। একটি গোলাপের দাম হাঁকা হচ্ছে ৩০ টাকা, যা ছিল ৫ টাকা। দোকানিরা বলছেন বিকেলের আগে যশোর থেকে ফুল আসবে না। অগত্যা অপেক্ষা। একজন ফুল দোকানি বলেন এবার যে এত ফুল বিক্রি হবে তা আগে ভাবেননি। সাধারণ সময়ের চাহিদার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ফুল এনেও কুলান যায়নি। ফুলের অভাবে বগুড়া থিয়েটার বসন্ত বরণের র‌্যালি করেছে তাজা ফুলের সঙ্গে কিছু কাগজের ফুল নিয়ে। এবারের ফাগুনের দিনটি যেন কাটতেই চায়নি। ফাগুনের মাসে কোকিলের কুহু তানের মিষ্টি সুর ভেসে যায় দূর বহুদূর... এ যে বাঙালীর চিরন্তন ভালবাসার ফাল্গুন।