১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিয়ানমারে গণতন্ত্রের বাতাস ও বাংলাদেশ

  • একে মোহাম্মাদ আলী শিকদার

মিয়ানমারে গণতন্ত্রের পথ ক্রমশ সুগম হচ্ছে বলেই সকলে মনে করছেন। দীর্ঘ সংগ্রাম ও সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্রের নেত্রী আউং সান সুচি আজ যেখানে পৌঁছেছেন তাতে সারাবিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষ আশাবাদী হয়ে উঠছেন। তবে এখনও সবকিছু সংশয়পূর্ণ। ২০০৮ সালে জান্তা সরকার কর্তৃক প্রণীত সংবিধান অনুসারে সকল ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে কুক্ষিগত। এই সংবিধান অনুসারে সুচি রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত মন্ত্রণালয় থাকবে সেনাবাহিনী কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তির হাতে। তবে গত নবেম্বরের নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর আউং সান সুচি ধীরস্থির ও মাপা পদক্ষেপে এগোচ্ছেন। তাতে ১৯৯০ সালের মতো আশঙ্কা কেউ করছেন না। ১৯৯০ সালেও একবার সুচির দল এনএলডি (ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি) নির্বাচনে জয়লাভ করেও ক্ষমতায় যেতে পারেনি। সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে সবকিছু বাতিল হয়ে যায়। সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন সুচিকে গৃহবন্দী করে রাখে। কিন্তু ১৯৯০ থেকে ২০১৬, দীর্ঘ ২৫ বছরে সুচি আরও উজ্জ্বল, পরিশুদ্ধ এবং পরিপক্ব হয়েছেন। বন্দী অবস্থায় তিনি প্রচুর লেখাপড়া করেছেন, বই লিখেছেন। আহরিত জ্ঞানের আলোকে নিজের প্রজ্ঞার গভীরতা বাড়ানোর ব্রতে নিয়োজিত থেকেছেন নির্মল চিত্তে। তিনি নিজে এবং সহ-লেখকদের নিয়ে মোট ১১টি বই লিখেছেন। ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারসহ ১৭টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। সমৃদ্ধ প্রজ্ঞায় সুচি উপলব্ধি করেছেন মানুষের কল্যাণের প্রকৃত রাজনীতিতে শর্টকাট কোন রাস্তা নেই। হৃদয় দিয়ে বুঝেছেন নীতিহীন, আদর্শহীন, ষড়যন্ত্র, হিংসা এবং বিদেশী প্রভুনির্ভর রাজনীতি মানুষকে মুক্তি দিতে পারে না। সীমাহীন নির্যাতন ও বঞ্চনার পরেও ধীরস্থির থেকেছেন, নিজেকে শান্ত রেখেছেন, কখনও উত্তেজিত হননি। হিংসার পথ বেছে নেননি। জ্বালাও, পোড়াও, গুপ্তহত্যা, ষড়যন্ত্রের পথকে শুধু পরিহার নয়, ঘৃণা করেছেন। রাজনীতির ঘেরাটোপে শত উস্কানি উপেক্ষা করেছেন। সর্বদা লক্ষ্যে অটুট থেকেছেন। মনে রেখেছেনÑ ঊহফ রং মৎবধঃবৎ ঃযধহ গবধহং. তার চূড়ান্ত লক্ষ্য মিয়ানমারের মানুষের মুক্তি, যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আরোহণ নয়। তাই গত ২৫ বছরে তিনি এমন কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী দেননি, যা তার চূড়ান্ত লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রতিটি ঘাত-প্রতিঘাত ও সঙ্কটে প্রমাণ করেছেন তিনি জনগণের নেত্রী। সুচি যত ত্যাগ করেছেন মিয়ানমারের মানুষ তাকে ততই গ্রহণ করেছেন, পূজনীয় মেনেছেন। ত্যাগের দৃষ্টান্তে হয়েছেন অনন্য। সুতরাং গত ৮ নবেম্বর ২০১৫’র নির্বাচনে মিয়ানমারের মানুষ সুচিকে প্রাণভরে ভোটমাল্য পরিয়েছেন। সমস্ত বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষ এখন অপেক্ষায়। গণতন্ত্র আর সমরতন্ত্রের রাষ্ট্রনীতি এক হয় না। বাংলাদেশের জন্য গণতান্ত্রিক মিয়ানমার নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে এই প্রত্যাশা করা যায়। ভারত ব্যতীত অন্য যে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে সেটি হলো মিয়ানমার। ভৌগোলিক অবস্থান এবং এই অঞ্চলকে ঘিরে বিশ্বশক্তি বলয়ের মধ্যে সম্পর্কের যে যোগ-বিয়োগ চলছে তাতে মিয়ানমার ক্রমশই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মিয়ানমারের সঙ্গে স্থলপথে সংযোগ স্থাপিত হলে বিশ্বের উদীয়মান শক্তি চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য সকল দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন বাংলাদেশ স্বল্প সময়ে ও খরচে করতে সক্ষম হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেতু বা ব্রিজ হিসেবে কাজ করতে পারে মিয়ানমার। ছয় লাখ ৭৬ হাজার ৫৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে প্রায় চারগুণ বড়। তবে মিয়ানমারের লোকসংখ্যা আমাদের এক-তৃতীয়াংশ, প্রায় ছয় কোটি। অথচ দেশটিতে রয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ সদস্যের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী, যা আকারের দিক থেকে পৃথিবীর নবম বৃহত্তম। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানের (এ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস) সঙ্গে স্থলপথে সংযোগ স্থাপনকল্পে বাংলাদেশের জন্য একমাত্র গেটওয়ে রাষ্ট্র মিয়ানমার। ৫৫ কোটি মানুষের আসিয়ান এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী অঞ্চল। আসিয়ান দেশের অভ্যন্তরে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে তেল-গ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং মিয়ানমারে কৃষি উপযোগী জমির তুলনায় জনসংখ্যা কম হওয়ায় দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি থাকে। বাংলাদেশের সরকারী-বেসরকারী উদ্যোক্তাগণ কৃষিক্ষেত্রে যদি বিনিয়োগ করতে পারে তাহলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের অদক্ষ জনশক্তির জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, তেমনি আগামীতে আমাদের বাড়তি জনসংখ্যার জন্য খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিকল্প সম্ভাবনার পথ খুলে যাবে। এই দেশগুলো আবার বনজসম্পদেও অনেক সমৃদ্ধশালী। বাংলাদেশে বনজসম্পদের ঘাটতি রয়েছে এবং এই ঘাটতি ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে। এই ঘাটতি পূরণে স্থলপথে কম খরচে এসব দেশ থেকে কাঠ আমদানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। উদীয়মান বিশ্বশক্তি চীনের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন বহুমুখী। স্থলপথে চীনের সঙ্গে সংযোগ সৃষ্টির জন্য ভায়া মিয়ানমারই সবচেয়ে সহজতর পন্থা। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে কূটনৈতিক ভাষায় ওয়ার্কিং রিলেশন বলা যায়। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের মূল ও প্রধান অন্তরায় রোহিঙ্গা ইস্যু এবং তদসংশ্লিষ্ট সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপের তৎপরতা সম্পর্কে মিয়ানমারের অভিযোগ। ভুল নীতির কারণেই মিয়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দিয়ে সমস্যার সমাধান ব্যতিরেকে এর আরও বিস্তার ঘটিয়েছে এবং সমাধানের পথকে কঠিন করে ফেলেছে। রোহিঙ্গারা নিজেরাই সশস্ত্র সংগঠন গড়ে তুলেছে। এ সুযোগে পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় সৃষ্ট প্যান-ইসলামিজমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামিস্ট উগ্রবাদী গোষ্ঠী ও এনজিও রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ পুনর্বাসনের উদ্যোগের পরিবর্তে সশস্ত্র বিদ্রোহে ইন্ধন ও পৃষ্ঠপোষকতা যুগিয়েছে। এটি এখন বাংলাদেশের জন্য একটি মহাজটিল নিরাপত্তার ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের দুই সামরিক শাসক ও পরে তাদের বর্ধিত অংশ বিএনপি-জামায়াত সরকার শুরু থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার কারণে সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করে। একই কারণে অন্যান্য দেশের ইসলামিক জঙ্গীগোষ্ঠীগুলোও বাংলাদেশে আসার সুযোগ পেয়ে যায়। রোহিঙ্গাদের ভেতর থেকে সৃষ্টি হয় রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (জঝঙ), আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (অজঘঙ) এবং আরাকান লিবারেশন ফ্রন্টসহ (অখঋ) কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠন। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকায় এসব সশস্ত্র সংগঠন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তারা এখন আর তেমন কোন তৎপরতা চালাতে পারছে না। কিন্তু মিয়ানমার ভ্রান্ত নীতি পরিত্যাগ না করে পূর্বের মতোই ২০১২ সালে আবার ব্যাপকসংখ্যক রোহিঙ্গা পুশ ইনের চেষ্টা করে। কিন্তু এবার বাংলাদেশের বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোরভাবে তা প্রতিহত করে। ১৯৭৮ ও ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা না করে জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিতে ২০১২ সালের মতো তখনও রোহিঙ্গা পুশ ইন প্রতিহত করলে এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে সমস্যাটি আজ এত জটিল আকার ধারণ করত না। রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের জন্য দুটি কঠিন সমস্যা সৃষ্টি করেছে। প্রথমত. স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন এবং প্রশাসনের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ চলছেই। রোহিঙ্গা শিবিরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তারপর রোহিঙ্গা-বাঙালীদের মধ্যে বিয়েশাদির কারণে এবং অবৈধ পথে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়ও পেয়ে যাচ্ছে। এসব প্রবণতা দ্রুত রোধ করতে না পারলে এক সময় রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনের ফল নির্ধারণে অনুঘটনীয় ভূমিকায় চলে আসবে। তখন সমস্যা আরও জটিল হবে। দিন যত যাবে ততই এটি বাংলাদেশের ভূখ-ীয় নিরাপত্তার জন্য জটিল ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। কক্সবাজার বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন। এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিষয়। সুদূরপ্রসারি দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিকল্পনা না থাকলে সঙ্কট জটিল আকার ধারণ করার পর তখন তা সামাল দেয়া যায় না। হঠাৎ করে কিছু করতে গেলে সবকিছু তখন আরও এলোমেলো হয়ে যায়। রোহিঙ্গাপ্রসূত দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো- উল্লেখিত কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যথার্থভাবে উন্নতি হচ্ছে না। বাংলাদেশের বিপুল অর্থনেতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের সঙ্গে সংযোগ (কানেকটিভিটি) আবশ্যক এবং তার জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক দরকার। সব দেশের সব সামরিক শাসকগণ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে চরম বিভাজন সৃষ্টি করে, ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি চালু করে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালায়। পাকিস্তানের আইয়ুব খান থেকে শুরু করে প্রত্যেক সামরিক শাসক এবং বাংলাদেশের দুই সামরিক শাসক গত শতকের সত্তর ও আশির দশকে একই কাজ করেছেন। সামরিক শাসকগণ আরেকটি কাজ করে- রাষ্ট্রের বৃহত্তর জাতিগোষ্ঠীর সমর্থন পাওয়ার জন্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ওপর দমন-নিপীড়ন চালায়। এর ফলে জাতিগত সংঘর্ষ ও সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়। তখন সামরিক শাসকগণ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর বিস্তৃতি ঘটায় এবং শক্তিশালী করে। জনগণের কাছে নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করে যাতে মানুষ মানতে বাধ্য হয় যে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সামরিক বাহিনীর ক্ষমতায় থাকা দরকার এবং একই সঙ্গে সমরশক্তিও বাড়ানো দরকার। এই নীতির ফলে সকল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি ব্যাহত হয়। ১৯৬২ সাল থেকে মিয়ানমারের সেনা শাসকরা ঠিক এই কাজগুলোই করেছে। আরাকান থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার জন্য বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের উস্কে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। ১৯৮৬ সালে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। এতে মিয়ানমারের নিরাপত্তার জন্য আরও অধিকতর হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। একই কারণে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে প্রায় দেড় ডজন জাতিগত সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে। তাই মিয়ানমারের গণতন্ত্র উত্তরণের সুযোগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক সরকারের উপলব্ধিতে আনা দরকার যে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশ ইন করে তাদের সমস্যার সমাধান হবে না বরং তাতে সমস্যা আরও বাড়বে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে নীরব ভূমিকা পালনের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আউং সান সুচি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন। তার নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু তিনি সামরিক সরকারকে চটাতে চাননি বলেই হয়ত এতদিন সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করেছেন। তবে তিনি যেভাবে এগোচ্ছেন তাতে পরিপূর্ণ ক্ষমতাসহ মিয়ানমারের রাষ্ট্র পরিচালনায় অধিষ্ঠিত হতে পারলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গণতান্ত্রিক ভূমিকা ও পন্থা তাকে নিতে হবে। বাংলাদেশকে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে। তার জন্য আগের থেকে প্রেক্ষাপট তৈরি করে রাখা উচিত।

লেখক : ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক