২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভেলেন্টাইন দিবসের ইতিহাস

  • ড. রবীন্দ্রনাথ শীল

ইতিহাস ইতিহাসই। ভুল তথ্যের ওপর ইতিহাস লিপিবদ্ধ হলে সে ইতিহাস কোন না কোন সময়ে সমালোচিত হবে, উপেক্ষিত হবে এবং কোন এক পর্যায়ে তা বাদ দিয়ে আবার নতুন ইতিহাস রচিত হবে। পরবর্তীকালে সেটার আরও কোন ত্রুটি ধরা পড়লে তা আবার সংশোধিত হবে, সন্দেহ নেই।

আজ ভেলেন্টাইন দিবসের উৎস যে আলোচনা করছি তা ইতিহাসের তিনটি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রচিত। এগুলো সন্দেহ হলে বা আবার কোন পূর্বতর উৎসের সন্ধান পেলে আবার নতুন ইতিহাস রচনা হবে। তৃতীয় শতাব্দীতে রোম নগরীর রাজা ক্লডিয়াস-২ মতামত প্রকাশ করেছিলেন যে, অবিবাহিত সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রে বেশি পারঙ্গম। এ মতামতের ওপর ভিত্তি করে তিনি উঠতি বয়সের তরুণদের বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। তরুণদের মধ্যে এ নিয়ে দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি হয় কিন্তু রাজা বলে কথা- কে তার কথার অমান্য করে? কিন্তু এক ক্যাথলিক চার্চের মেট্রিয়ার্ড নামের একজন যাজক এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গোপনে বাদ সাধলেন। প্রকাশ্যে কোন বক্তব্য বা বিবৃতি না দিয়ে গোপনে গোপনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে থাকলেন। দুর্ভাগ্য, এ ঘটনা আর বেশিদিন গোপন থাকেনি। রাজার অমাত্যবর্গ ধরে নিয়ে এলেন মেট্রিয়ার্ডকে এবং তার মৃত্যুদ- কার্যকর করা হলো। ইতোমধ্যে প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে তিনি ভেলেন্টাইন হিসেবে দারুণ সুপরিচিত হয়েছিলেন। আরেক কাহিনীতে জানা যায় যে, খ্রীস্টান প্রেমিক-প্রেমিকাদের রোমান বন্দীশালা থেকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন বলে তাকে প্রাণদ- দেয়া হয়েছিল।

পুরনো ইতিহাসের আরেক কাহিনীতে জানা যায়, একজন যুবক জেলখানায় থাকাকালীন জেলারের মেয়েকে ভালবেসেছিলেন। নানা অজুহাতে তারা দু’জন প্রায়ই নির্জনে দেখা করত এবং প্রেম নিবেদন করত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তাদের ভালবাসা পূর্ণতা প্রাপ্তির আগেই জেলার সবকিছু জেনে যুবকের প্রাণদ- কার্যকর করেন। মৃত্যুর আগে প্রেমিক যুবক প্রেমিকাকে একাধিক চিঠি লিখেছিলেন যার প্রেরক হিসেবে তিনি নিজেকে ‘ভেলেন্টাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

মন্তব্য

১. এখন আর এমন করে চিঠি লেখার প্রচলন নেই তাই এসএমএসে প্রেমিক-প্রেমিকার শুধু নামই থাকে, কোন কোন ক্ষেত্রে নিক নামও ব্যবহৃত হতে পারে।

২. আমেরিকাতে ১৭০০ সালে হাতে লেখা কার্ডে এ দিবসের আমন্ত্রণ আদান-প্রদান শুরু হয় তবে ১৮৪০ সাল হতে বহুল প্রকাশিত কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে।

৩. ভেলেন্টাইন দিবস পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সংখ্যক কার্ড বিক্রি দিবস বলে বিবেচিত হচ্ছে যেখানে ক্রিসমাস ডে উপলক্ষে প্রথম বৃহত্তম সংখ্যক কার্ড বিক্রি হয়ে থাকে; যার সংখ্যা আনুমানিক ২.৬ বিলিয়ন।

লেখক : অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম