২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইন ভাঙ্গার ফাইন

একুশ শতকে প্রযুক্তির যুগে বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে তথ্য অমূল্য সম্পদ। সহজে ও সুলভে সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি এবং ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারে, যার সুফল পাবে সরকার-প্রশাসন ও জনগণ- উভয়পক্ষই। সুতরাং এই বিষয়টি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে কোন অদৃশ্য কালো ছায়া থাকা উচিত নয়। জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত থাকা অত্যাবশ্যক। কারণ দেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বাীকৃত। আর তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তথ্য অধিকার জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও তা সংসদে পাস করায়। আইনে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারী ও বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট বা পরিচালিত বেসরকারী সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। ‘তথ্য’ অর্থ হিসেবে বলা হয়েছে, কোন কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামো ও দাফতরিক কর্মকা- বিষয়ক যে কোন স্মারক, বই, নক্সা, মানচিত্র, চুক্তি, তথ্য-উপাত্ত, লগবই, আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, দলিল, নমুনাপত্র, প্রতিবেদন, হিসাব বিবরণী, প্রকাশ প্রস্তাব, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও, অঙ্কিত চিত্র, ফিল্ম, ইলেক্ট্র্রনিক প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করা যে কোন ইনস্ট্রুমেন্ট, যান্ত্রিকভাবে পাঠযোগ্য দলিলাদি এবং ভৌতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য নির্বিশেষে অন্য যে কোন তথ্যবহ বস্তু বা তাদের প্রতিলিপিও এর অন্তর্ভুক্ত। আইনটির বিধানাবলী অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্যলাভের অধিকার রয়েছে। কোন নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য। এই প্রথমবারের মতো এ আইনে তথ্য না দেয়ায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে জরিমানা করা হয়েছে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা। রাজধানীর একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এই যে, হাইকোর্টের একটি নির্দেশ থানায় পৌঁছেছে কি-না তা জানতে তথ্য চেয়েছিলেন জনৈক ব্যক্তি। কিন্তু ওই কর্মকর্তা তার আবেদনটি গ্রহণে অস্বীকার করলে তিনি তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর কমিশন ওসিকে শুনানিতে অংশ নিতে ডাকলেও তিনি হাজির হননি। ফলে তার বিরুদ্ধে শুনানিতে গরহাজির থাকায় এবং এজন্য কোন সময়ের আবেদন না করায় কমিশন জরিমানা করে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মুখ্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়। বিষয়টি দৃষ্টান্তমূলক অবশ্য।

এমনিতেই আইনটির বিষয়ে জনগণ সচেতন নয়। সেই উদ্যোগও নেয়া হয় না। অথচ সারাদেশে জনগণকে তথ্য দেয়ার জন্য ২১ হাজার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। তথ্য জানার অধিকার এক দশক আগেও তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহের জনগণের কাছে সোনার হরিণ কিংবা অলীক কল্পনা বলে মনে হতো। তথ্য জনগণের ক্ষমতায়নের হাতিয়ার। দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে তথ্য অধিকারের গুরুত্ব অপরিসীম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব যাদের তারাই যদি আইন না মানে এবং সাজার আওতায় না আসে, তবে জনগণ দাঁড়াবে কোথায়? স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে অবাধ তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্র যেন রুদ্ধ না হয়, সেটাই প্রত্যাশা।

নির্বাচিত সংবাদ