১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমি আজ বেজায় খুশি

  • প্রাণ গোপাল দত্ত

২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে সৌদি গ্রান্ট বা জাপানিজ গ্রান্টের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রপাতি ক্রয়, অনুদান বা বিশ্ববিদ্যালয়কে যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ করার জন্য কিছু পাওয়া যায় কিনা সেই উদ্দেশ্যে শেরে বাংলা নগর ইআরডিতে যাই। সেখানে আমার সঙ্গে অনেকেরই কথা হয়। একজন আমাকে বললেন যে, সৌদি গ্রান্টের জন্য না গিয়ে আপনি জাইকার কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারেন। তারপরে জাইকার যিনি ডেস্ক অফিসার এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি তাদের দু’জনের কাউকে না পেয়ে আমি কোরিয়ান কঙওঈঅ-এর বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে যিনি কাজ করেন তার সঙ্গে দেখা করি। নেপথ্যের উদ্দেশ্য ছিল কোরিয়াতে যেহেতু পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি অটিস্টিক বাচ্চা তাহলে ২০১১ সালে শুরু করা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের নেতৃত্বে অটিজমের ব্যাপারে কিছু করা যায় কিনা। সেই ব্যাপারে কোরিয়ান ডেস্ক নিয়ে যিনি ডিল করেন তিনি জয়েন্ট সেক্রেটারি আসিফ ভাই। সম্ভবত এ্যাকাউন্টস ক্যাডারের। ওনার রুমে যাওয়ার পরে আমার কাছে মনেই হয়নি যে, তিনি একজন আমলা। বরং নিজে আগ্রহী হয়ে একের পর এক প্রাপ্তির পথ দেখিয়ে চললেন। কিছুক্ষণের মধ্যে একটি টেলিফোন এলো। ঐ টেলিফোনের জবাবে তিনি বললেন যে, আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছি অর্থাৎ তিনি অফিসে অপেক্ষমাণ ডেলিগেটদের জন্য। আমি জিজ্ঞাসা করলাম কোথাকার ডেলিগেট? আসিফ ভাই জবাব দিলেন, ‘স্যার আপনি বসেন’। ইতোমধ্যে কোরিয়ান একটা ডেলিগেট চট্টগ্রাম থেকে এলেন। যারা চট্টগ্রামে সম্ভবত পানি শোধনাগার কাজের ব্যাপারে গিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসার পর উনি আমাকে বললেন, স্যার আপনি চলে যান। আপনি কি বিকেল ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে তাদের আপনার জায়গাটা বা আপনি কি চান, তাদের সঙ্গে বসে কথা বলতে পারবেন? আমি বললাম, হ্যাঁ পারব। উনি আবার বললেন, আপনার চেম্বার আছে না? আমি বললাম, ঠিক আছে, চেম্বার আছে- তাতে কিছু আসে যায় না, আমি আমার টিম নিয়ে বসে যাব।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আমরা অপেক্ষা করছি। সঙ্গে ছিলেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক রুহুল আমিন মিঞা, পরিচালক পরিদর্শন অধ্যাপক আবু শফি আহমেদ আমিন, প্রধান প্রকৌশলী শ্রীকান্ত এবং পরিচালক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধ্যাপক আবু নাসের রিজভীসহ কয়েকজন। আসিফ ভাই মি. মাইকেল নামে একজন আর্কিটেক্ট, হ্যান্স নামে একজন ইউনিভার্সিটির টিচার এবং কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের একজন প্রতিনিধিকে নিয়ে এসে হাজির হলেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, স্যার আপনি কথা বলেন আপনার কি দরকার, কি চান। তখন আমি ওনাদেরকে বললাম যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জায়গা আছে, ঐ জায়গাতে একটি সুপার স্পেশালাইজড হসপিটাল করতে চাই। অর্থাৎ এর ভিতরে যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে সবকিছুই আসবে। সুতরাং শুধু যন্ত্রপাতি চেয়ে আর লাভ কি? কোরিয়ান ডেলিগেট বললেন যে, কোন্ জায়গাতে হবে? তোমাদের দেশে জায়গা এক্যুজিশান করতে এত সময় লাগে, টাকা ফেরত চলে যায়। কারণ তোমার দেশ জায়গা একোয়ার করতে সাত থেকে দশ বছরও সময় নেয়। কিন্তু জায়গা একোয়ার করে বুঝিয়ে দিতে পারে না। এ কথা বলেই চিটাগং কোরিয়ান ইপিজেডের উদাহরণ টেনে আনলেন। সেই উদাহরণের পরিপ্রেক্ষিতে আমি তাদের কেবিন ব্লকের উত্তর পার্শ্বের জায়গায় নিয়ে গেলাম। জায়গা দেখানোর পর ওদের অসম্ভব পছন্দ হলো। প্রফেসর হ্যান্স আমাকে কয়েকবার জিজ্ঞাসা করলেন- এই জায়গা কি তোমাদের? আমি তাকে যতই বলি আমাদের! আমাদের !! আমাদের !!! তারপরেও সে বলে তোমরা কি এই জায়গা আমাকে দিতে পারবে? আমি তখন আমাদের ছেড়ে চলে এলাম আমিতে। আমি বললাম যে, হ্যাঁ আমি এখনি জায়গা দিতে পারব যদি তুমি চাও। তুমি কি প্রজেক্ট করবা আমাকে বল। তাতেও তার অবিশ্বাস দূর হলো না। পরিশেষে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার শ্রীকান্ত তাকে জায়গার কাগজ, জমির মাপ সব যখন দেখাল এবং জায়গাটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় ১০% মূল্যে ক্রয়কৃত, তৎক্ষণাৎ তারা কনভিন্স হলেন।

বলাবাহুল্য কোরিয়ান এই ডেলিগেটের জন্য আমি আসিফ ভাইয়ের ওখান থেকে যখন বেরিয়ে আসি তখন প্রায় দুটো-আড়াইটা বাজে। এসে তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করলাম এবং সেই খাওয়া-দাওয়া এমনভাবেই করা হয়েছিল যে, কোরিয়ান ডেলিগেটরা এক একজন দুটো করেও রূপচাঁদা মাছ ভাজি খেয়েছিলেন। বাঙালী খাবার খেয়ে এত তৃপ্তি এই অতিথিরা কোনদিন পাননি, তারা নিজেরাই তা ব্যক্ত করলেন। তারপরে শুরু হলো আসিফ ভাইয়ের সহায়তায় যোগাযোগের পালা। ঐ সময় ইআরডির সচিব ছিলেন বর্তমান মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ স্যার। আজাদ স্যারের প্রেরণা ও আন্তরিকতা তুলনাহীন ছিল। আজাদ স্যার আসিফ ভাইকেও নির্দেশ দিলেন যত তাড়াতাড়ি পারেন ওই জায়গাতে এই প্রজেক্টটা করে দেন। ইতোমধ্যে অনেক যোগাযোগ হলো। কোরিয়া থেকে এক্সিম ব্যাংকের একটা ডেলিগেট এলো। সেই ডেলিগেটও তাদের প্রশ্ন এবং দেশে ফিরে একটা ফরম পাঠিয়ে দিল সেটা পূরণ করার জন্য। সেই ফরম পূরণ করতে আমাদের যথেষ্ট হিমশিম খেতে হয়েছিল। পূরণ করার সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান এবং তার কর্মীবাহিনী অসম্ভব সাহায্য করেছিল। বলাবাহুল্য যে, আমি ঐ সময় উপাচার্য হিসেবে হোক বা ডাক্তার প্রাণ গোপাল হিসেবে তাদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত ছিলাম। আমাকে সাহায্য করতে কেউ কোনদিন না বলেনি। অনেক যোগাযোগ ও ই-মেইল যোগাযোগের পরে প্রথম মিটিংটি হলো ২০১৩ সালের ডিসেম্বর “১ংঃ ঈড়হপবঢ়ঃ সববঃরহম নবঃবিবহ ঊজউ, ইঝগগট এবং কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের সব প্রতিনিধিকে নিয়ে, যেখানে ঊটখঔও টহরাবৎংরঃুকে ঋঝ (ঋবধংরনরষরঃু ঝঃঁফু)র জন্য নিয়োগ করা হলো।

ইউলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা মোতাবেক আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক তথ্য ও পরিসংখ্যান তাদের নিকট পাঠানো হয়, জানুয়ারি ২০১৪ সালে। উভয়পক্ষের যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম কিক অব মিটিং অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ শেষে কার্যক্রম স্থির করা হয়।

২০১৪ সালের মার্চ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের নেতৃত্বে প্রকল্পের কাজ করার জন্য নতুন এক কমিটি গঠন করে দেই। অধ্যাপক জুলফিকার রহমান খানের নেতৃত্বে আমাদের টিমের সঙ্গে কোরিয়ান টিমের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হয় এবং ৩য় কিক অব মিটিংয়ে দুটো দলের চুলচেরা বিশ্লেষণের মধ্যে সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে গঙউ স্বাক্ষরিত হয় ঊজউ, কঊঢওগ, গঙঐঋড এবং ইঝগগট-এর মধ্যে। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে কোরিয়ান ঊঢওগ ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ মঞ্জুরির সম্মতি দেয়। জানুয়ারি ২০১৫-তে উচচ তৈরির কাজ শুরু হয় এবং আমার কার্যকাল মার্চ ২০১৫-তে ১ম চঊঈ-তে অনুমোদিত হয়। সর্বশেষ বর্তমান প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সবার অক্লান্ত পরিশ্রমে গত ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান নীরু সামসুন্নাহার আপা, প্লানিং কমিশনের উপ-প্রধান ফরিদসহ প্রত্যেকটা ব্যক্তি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা এবং ইআরডির প্রত্যেকের সহযোগিতা বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যে সব স্বাস্থ্য সচিব মহোদয় দায়িত্বে ছিলেন, যথাক্রমে হুমায়ূন কবির স্যার এবং বর্তমান সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম সাহেবের আন্তরিকতা প্রশংসাতীত।

২০১৪ সালে কাজটি সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নেবার জন্য আমি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জুলফিকার রহমান খানকে কোরিয়ান প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেই। অধ্যাপক জুলফিকারকে সহযোগিতা করার জন্য একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নূর এলাহী মিমকে তার কাজের অতিরিক্ত হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করি। কারণ সে আইটিতে খুবই পারদর্শী, যা চিকিৎসকদের মধ্যে বিরল।

ফেব্রুয়ারি ২০১৩ থেকে আমার অবসরের দিন ২৪ মার্চ, ২০১৫ পর্যন্ত ন্যূনতম ১০টি সভা হয়েছিল দু’পক্ষের মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সব সময়ই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ইআরডি উইং, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশনা দিত। এত বিশাল অঙ্কের টাকা, স্বল্প সুদে, চল্লিশ বছরে দেয় এবং যার প্রথম ১৫ বছর কোন সুদ দিতে হবে না, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুবই সৌভাগ্যের ব্যাপার। ইচ্ছে করলে বর্তমানে চলমান পরীক্ষা-নিরীক্ষার চার্জ এবং সরকারী নিয়মে সিট ভাড়া নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই টাকা পরিশোধ করতে পারবে, যদিও সাধারণত সরকারই তাই করে থাকে। তাই আমি আজ বেজায় খুশি। এই প্রকল্পের আওতায় জরুরী মেডিক্যাল কেয়ার সেন্টার, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ইন্টারভেনশান, হেপাটোবিলিয়ারি সেন্টার, চাইল্ড এ্যান্ড মাদার হেলথ কেয়ার সেন্টার, কার্ডিও সেরিব্রোভাসকুলার সেন্টার, কিডনি ডিজিজেস সেন্টার, আইসিইউ, কেন্দ্রীয় ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি বিভাগ স্থাপন। সেইসঙ্গে ক্লিনিকের রিসার্চের মাধ্যমে এভিডেন্সড বেসড মেডিসিন পদ্ধতি চালু করা। জটিল রোগের উন্নত সেবা প্রদান করে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানোসহ স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে কার্যকর রেফারেন্স লিংকেজ তৈরি করা হবে। গত ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ১ হাজার ৩৬৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটি একনেক পাস হয়েছে শুনে আনন্দে উদ্বেলিত, যখন দেখব প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ নিয়েছে, পর্বতশৃঙ্গে বসে প্রার্থনা করব তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের, পরিশেষে এদেশের আপমর জনগণের স্বাস্থ্যসেবার উৎকর্ষতা দেখলে বলব, ‘হে স্রষ্টা আমাকে আর পুনর্জন্ম দিও না, ‘আমি এখন শান্তিতে থাকতে চাই, অনেক শ্রম দিয়েছি।’

দুঃখ পাব যদি আমাদের চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মীদের (হেলথ কেয়ার প্রভাইডার যার মধ্যে নার্স, চিকিৎসক, ওয়ার্ডবয়, সুইপার, আয়া) অবহেলায় নতুন এই হাসপাতালটির অবক্ষয় হয়। আমি বিশ্বাস করি আমার উত্তরসূরি নতুন প্রশাসন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এ কাজ ত্বরান্বিত করবেন, যাতে করে এ দেশের দরিদ্র, নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ন্যূনতম ব্যয়ে সন্তোষজনক চিকিৎসা ও চিকিৎসা কর্মীদের উপদেশ এবং সহানুভূতি নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি যেতে পারে।

পরিশেষে আমার হৃদয় এবং আমার স্বপ্নের এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন এদেশের জনগণের শেষ আশা এবং ভরসার কেন্দ্রস্থান এবং রোগীদের তীর্থভূমিতে পরিণত হয়। পরম করুণাময় স্রষ্টা আমাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন করে মাদার তেরেসার সেই অমোঘ বাণী ‘এরাব, এরাব ধহফ এরাব, ঁহঃরষ রঃ যঁৎঃং’ মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তোলে। গীতায় উদ্ধৃত ‘ফুলকে দেখ কিভাবে স্ব-মহিমায় প্রস্ফুটিত হয়ে, বাগান তথা পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, সৌরভ ছড়িয়ে, নিঃশব্দে ঝরে যায়’, আমরা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন তাই করি।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়