২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে

  • সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব ধরনের সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। আলোচিত সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের এক অতি সতর্কতার কারণেই পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আলোচিত সপ্তাহেও স্বল্প মূলধনী বেশ কিছু কোম্পানির অস্বাভাবিকভাবে দর বেড়েছে। তবে সার্বিকভাবে সপ্তাহের লেনদেনের বেশিরভাগই ছিল ওষুধ এবং রসায়ন খাতের দখলে।

বাজার পর্যালোচনায় জানা গেছে, আগের সপ্তাহের চেয়ে গত সপ্তাহে ডিএসইতে শেয়ার লেনদেন কমেছে ১৯৩ কোটি ৫৪ টাকার। সমাপ্ত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৮৬৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৫৭ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার।

সমাপ্ত সপ্তাহে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯২ দশমিক ৩১ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ২ দশমিক ২২ শতাংশ। ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হয়েছে ২ দশমিক ০৩ শতাংশ।

এদিকে, ডিএসইর সার্বিক সূচক বা ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে দশমিক ২২ শতাংশ বা ১০ দশমিক ২৩ পয়েন্ট। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে দশমিক ৯৭ শতাংশ বা ১৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট। অপরদিকে শরিয়াহ বা ডিএসইএস সূচক বেড়েছে দশমিক ৯৪ শতাংশ বা ১০ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৩৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৪টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ২২১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টি কোম্পানির। আলোচ্য সপ্তাহে ৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়নি।

বিনিয়োগকারীদের কাছে গেল সপ্তাহে অর্থনীতি ও খাত সংশ্লিষ্ট খবরগুলোর মধ্যে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ব্যাংকের সুদের হার, রফতানি ও বিনিয়োগচিত্র। রফতানি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলোর মধ্যে ছিল ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেশের তৈরি পোশাক রফতানি ১১ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ৫৪০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে ইউনিট প্রতি রফতানিমূল্য কমেছে। এদিকে পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, মূলত খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমায় জানুয়ারিতে দেশের মূল্যস্ফীতি দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট কমে ৬ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা গত ৩৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর উপাত্ত অনুসারে, জুলাই-জানুয়ারি সময়ে দেশের রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে ১৯ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। খাতভিত্তিক চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, কেনাবেচায় ওষুধ ও রসায়ন খাতই ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। ডিএসইর সপ্তাহিক লেনদেনের ১৮ শতাংশ ছিল সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর দখলে। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত, ১৫ শতাংশ। এর পর যৌথভাবে বস্ত্র ও বিদ্যুত-জ্বালানি।

বাজার মূলধন বৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল প্রকৌশল খাত, ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এর পর সিমেন্ট, ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বিপরীতে তথ্য প্রযুক্তি ২ দশমিক ৯২, ভ্রমণ-অবকাশ ২ দশমিক ৭২, ব্যাংক ১ দশমিক ৯৭ ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ১ দশমিক ৪৫ ও টেলিযোগাযোগ ১ দশমিক ২৪ শতাংশ হারে দর হারিয়েছে।

ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : বেক্সিমকো ফার্মা, বাংলাদেশ স্টিল মিলস লিমিটেড, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, এসিআই লিমিটেড, আইটিসি, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, সিভিও পেট্রো কেমিক্যাল। দর বৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : লিব্রা ইনফিউশন, জেমিনি সী ফুড, বাংলাদেশ স্টিল মিলস লিমিটেড, প্রাইম ইসলামী লাইফ, সিএমসি কামাল, গ্রামীণ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ১, স্টাইল ক্রাফট, এইমস ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আলহাজ টেক্সটাইল ও ফার ইস্ট ইসলামী লাইফ।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : ম্যাকসন্স স্পিনিং, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস, খুলনা প্রিন্টিং, ইসলামী ব্যাংক, এলআর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইটিসি, মুন্নু সিরামিক, এআইবিএল ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিটি ব্যাংক ও মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ২৭৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১১০টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১৪৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির।

নির্বাচিত সংবাদ