২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা জারি

  • ইস্টার্ন ব্যাংকের নিরাপত্তায় দুর্বলতা থাকলে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বেসরকারী খাতে ইস্টার্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ডধারী কয়েকজন গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় সব ব্যাংকের জন্য সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সঙ্গে বিষয়টি কেন ঘটছে তা গ্রাহকের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিকে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) গ্রাহকের এ্যাকাউন্ট থেকে টাকা বেহাত হওয়ার ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর এস কে সুর চৌধুরী। এ ঘটনায় ব্যাংকের যদি নিরাপত্তাজনিত কোন দুর্বলতা পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, ‘ভুতুড়ে ট্রানজেকশনের’ কারণে বেসরকারী ইস্টার্ন ব্যাংকের (ইবিএল) এটিএম বুথ থেকে গত শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ২১ জন গ্রাহক তাদের হিসাব থেকে লাখ লাখ টাকা খোয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন। যার প্রেক্ষিতে ওই ব্যাংকের এটিএম বুথগুলো শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে ছয় ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের একজন সাংবাদিক মাহবুবা আক্তার ডিনা জানান, শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই ৭টা ১৫ ও ৭টা ১৯ মিনিটে তিনি মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ব্যাংকের দুটি নোটিফিকেশন পান। সেখানে দেখানো হয়, শেওড়াপাড়ার এমটিবি (মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক) বুথ থেকে দুইবারে তার এ্যাকাউন্ট থেকে ৪০ হাজার করে মোট ৮০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। বাড্ডার বাসিন্দা ডিনা বলেন, কিন্তু কার্ড তো আমার কাছে। পিনও কেউ জানে না। কী হলো বুঝতে না পেরে ইবিএলের কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়েছিলাম। ওরাও জানালো আমার এ্যাকাউন্ট থেকে ওই সময় ৮০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। তবে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কেন এই ধরনের ঘটান ঘটেছে তার সুনির্দিষ্ট কোন কারণ উদঘাটন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

ব্যাংকটির জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জিয়াউল করিম জানান, গত শুক্রবার ২১ জন গ্রাহক তাদের হিসাব থেকে টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ করেছেন। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটা সাইবার আক্রমণ, না সিস্টেমের প্রযুক্তিগত সমস্যা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি কার্ড ক্লোনিং বা সাইবার আক্রমণ ধরনের কোন কিছু ঘটেনি। তিনি দাবি করেন, ইবিএলের বুথ থেকে এ রকম কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে ইবিএলের কার্ডে ভিসা সুবিধা যুক্ত থাকায় অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথেও এই কার্ড ব্যবহার করা যায়। অন্য ব্যাংকের বুথ থেকেই জালিয়াতিটা হয়েছে। এদিকে আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে জিয়াউল করিম বলেন, একেকটি হিসাব থেকে দিনে এক লাখের বেশি টাকা তোলা যায় না। যার ফলে সব মিলিয়ে খোয়া যাওয়া টাকার পরিমাণটা খুব বেশি হবে না।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা এই ঘটনাকে সাইবার হামলা হিসেবে দেখতে নারাজ। তার মতে, এটা কোন ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি হতে পারে। তবে এটাতে কোন জালিয়াত চক্রের হাত নেই এমন আশঙ্কা তিনি উড়িয়ে দেননি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এটা কার্ড ক্লোনিংয়ের জালিয়াতি হতে পারে। শুভঙ্কর সাহা বলেন, এটা কোন ধরনের আক্রমণ তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তবে গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করবে এবং সে অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেবে। তবে সংশ্লিষ্ট ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডকে (ইবিএল) অবশ্যই গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে জানান তিনি। এদিকে কার্ড ক্লোনিংয়ের মতো কোন ঘটনা ইবিএলএর কার্ডধারীদের ক্ষেত্রে ঘটেনি বলে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এদিকে ইস্টার্ন ব্যাংকের এটিএম কার্ডধারী কয়েকজন গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় সব ব্যাংকের জন্য সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সঙ্গে বিষয়টি কেন ঘটছে তা গ্রাহকের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন সম্পর্কিত সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, আমানত গেলে তা অবশ্যই উদ্বেগের কারণ। তদন্ত না হলে আসলে কী ঘটেছে বা কীভাবে ঘটেছে- তার সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যাবে না। এ জন্য টাকা বেহাত হওয়ার কারণ জানতে নিজেদের মতো করে তদন্ত করছে ইবিএল। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের জন্য কমিটি গঠন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আলাদা করে কোন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হয় না। কারণ যখনই ব্যাংকগুলোতে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটে সেটাকে খুঁজে বের করতে সব সময় অন সাইড ইন্সপেকশন করার জন্য টিম রয়েছে। আলাদা কমিটি করার প্রয়োজন পড়ে না। এস কে সুর জানান, বুথ ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় সব ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। যাতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি বলেন, তদন্তের পর যাদের দায়ী হিসেবে পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন ব্যাংকের যদি নিরাপত্তাজনিত ঘাটতি পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।