১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিরোপা ভারত না ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফয়সালা আজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব দলের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে অনুর্ধ-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর্দা নামছে আজ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সকাল নয়টায় ম্যাচটি শুরু হবে। ম্যাচটি শেষ হতেই ১১তম যুব বিশ্বকাপ আসরের শিরোপা জিতে নিয়েছে কোন দল, তার ফয়সালা হয়ে যাবে। তার আগে শিরোপা কার, ভারত না ওয়েস্ট ইন্ডিজের? এ প্রশ্নটিই চতুর্দিকে ঘুরপাক খাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এমন মুহূর্তে এসে জয় পেয়ে ইতিহাস স্মরণীয় করে রাখতে চাইবে যে কোন দল। তাই দুই দলই চায় শিরোপা জিততে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিপক্ষ দলটি যেহেতু ভারত, তাই ক্যারিবিয়ানদেরই শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার ভাবনাটা বেশি। কারণ যুব বিশ্বকাপের ফাইনালের দল যে ভারত! সেই হিসেবে নিশ্চিত ফেভারিটও ভারতই।

এরআগে ১৯৮৮ সাল থেকে যুব বিশ্বকাপ হয়েছে ১০ বার। চারবার ফাইনালে খেলেছে ভারত। এরমধ্যে তিনবারই আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০০০, ২০০৮ ও ২০১২ সালে শিরোপা ঘরে তুলেছে। ২০০৬ সালে হয়েছে রানার্সআপ। শিরোপা জেতার দিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার (তিনবার শিরোপা জিতেছে) সঙ্গে ভারতের অবস্থান। দু’টি দল সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছে, এরমধ্যে ভারত একটি। ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের চাপ নেয়ার ক্ষমতা বরাবরই দেখিয়েছে ভারত। এবারসহ ভারত মোট ৫ বার ফাইনালে খেলছে। যুব বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশিবার ফাইনালে খেলার দিক দিয়েও এখন ােকিস্তানের (৫ বার ফাইনাল খেলেছে) সঙ্গে আছে ভারত। এবার ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে সবচেয়ে বেশিবার শিরোপা জেতার রেকর্ড গড়বে।

ভারতকে সেই সুযোগ দেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ? গ্রুপ পর্বে ‘যবুথবু’ দল হয়ে খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত যেখানে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই দাপটের সঙ্গে জিতেছে। সেখানে ফিজির সঙ্গে অনায়াসে জিতলেও, জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের ভেল্কিতে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছে। তবে নকআউট পর্ব থেকেই অন্যরকম দল হয়ে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাকিস্তানকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারানোর পরে সেমিফাইনালে স্বাগতিক বাংলাদেশকেও হারিয়ে ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে নিয়েছে। দলটির ক্রিকেটাররা দিনদিন আরও তুখোড় হয়ে উঠছে। সবার আগে বাংলাদেশে পাঁ রাখার উদ্দেশ্যই ছিল মানিয়ে নেয়া। সেটিতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেরেছেই, ফাইনালে ভারতের জন্য হুমকিও হয়ে দাঁড়াচ্ছে! ভারত জিতলেও যে সহজেই সেই অর্জন মিলবে না তা বোঝাই যাচ্ছে। আবার পুরো টুর্নামেন্টেই দুর্দান্ত খেলা ভারত শেষ মুহূর্তে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পাঁ ফসকাতেও পারে। বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে হারানোর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শিমরন হেটমায়ারতো অনেক কথার ভিড়ে বলেই ফেলেছিলেন, ‘শিরোপাও জিতে যাব।’ তা যে হয়েও যেতে ােরে।

যুব বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভালই সাফল্য আছে। ১৯৮৮, ২০০২, ২০১০ সালে সেমিফাইনালে খেলেছে। আর একবারই শুধু ফাইনালে খেলতে পেরেছে। সেটি ২০০৪ সালে। আশ্চর্যের বিষয় হল, সেবারও খেলা হয়েছিল বাংলাদেশে। কিন্তু পাকিস্তানের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা তাই একবারই হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এবার বাংলাদেশের মাটিতেই যখন খেলা হচ্ছে, দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে খেলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দল ভারতের বিপক্ষে লড়াই করবে। জিততে ােরলে যুব বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসের সেরা অর্জন মিলবে।

এ ম্যাচটির জন্য প্র্রস্তুতি দারুণ করেছে ভারত। সেমিফাইনালের পর চারদিন বিরতি পেয়েছে। নিজেদের ভালভাবে তৈরি করে নিতে পেরেছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের বিপক্ষে সেমিফাইনালের রে মাত্র ২দিন বিরতি পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারত অধিনায়ক ইশান কিশান এ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। বলেছেন, ‘প্রস্তুতি খুবই ভাল। আজ (শনিবার) কঠোর পরিশ্রম করলাম। বোলিং ও ফিল্ডিং সেশন দুর্দান্ত ছিল। বোলাররা লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে বোলিং করেছে। ইয়র্কার অনুশীলন হয়েছে। স্লগ ওভারের বোলিংটাও ঝালিয়ে নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামীকালের (আজকের) জন্য আমরা প্রস্তুত। আশা করছি আমরা দারুণ কিছু করবো।’ দারুণ কিছু করা মানেই হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। তবে এজন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের সামলাতে হবে ভারতকে। সঙ্গে ব্যাটসম্যানরাতো আছেনই। তিন পেসার কিমো লে, চেমার হোল্ডার ও শামার স্প্রিংগারেই ডুবেছিল বাংলাদেশ। এ তিন পেসার নিয়েই সতর্ক থাকতে হবে ভারতকেও। আর আলজাররি জোসেফতো আছেনই। যে কোন সময় বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন। ব্যাটিংয়ে গিডরন পোপের সঙ্গে অধিনায়ক হেটমায়ার ও স্প্রিংগারকে নিয়ে ভাবনায় পড়তে পারে ভারত। ওপেনার টেভিন ইমলেচ, কিচি কার্টি ও জিড গুলিও যে কোন সময় ব্যাট হাতে ঝলক দেখিয়ে দিতে পারেন।

অবশ্য প্রতিপক্ষের বিষয়গুলো নিয়ে এত ভাবনা নেই ভারতের। ইশানই যেমন বললেন, ‘আমাদের টপ-অর্ডারের সবাই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সিনিয়র বোলারদের বিপক্ষে আমরা খেলি। সুতরাং এটা কোন ব্যাপার হবে না। সব পরিকল্পনা মাঠে ঠিকঠাক প্রয়োগ করতে পারাই আসল ব্যাপার।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘বেশি চিন্তা করলে বেশি সমস্যা হয়। (রাহুল) দ্রাবিড় স্যার আমাদের কোচ হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে। আমি তার সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাকে বলেছেন ভাল ইনিংসগুলো মনে রাখতে। আমি সেভাবেই চিন্তা করছি।’ ফাইনালে মূল চ্যালেঞ্জের কথা বলতে গিয়ে ভারত যুব দলের অধিনায়ক জানান, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাল খেলছে। আমরাও সেটা করার চিন্তা করছি। মাঠে নেমে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। ভবিষ্যতে কি করবো বা কি হবে তা নিয়ে চিন্তা করছি না। আমরা শুধু বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে ভাবছি। আলাদা কিছু চিন্তা করছি না।’ ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ সবসময় শক্তিশালী থাকে। সেটি যুব দল হোক কিংবা জাতীয় দল। যুব বিশ্বকাপেও তাই আছে। রিশাভ পেন্টতো অসাধারণ ব্যাটিং করেন। অধিনায়ক ইশানের সঙ্গে আছেন আনমলপ্রিত সিং। আর সরফরাজ খানতো প্রতি ম্যাচেই ব্যাট হাতে ভাল করছেন। বল হাতে পেসার আভেশ খানের সঙ্গে আছেন রাহুল বাথাম, স্পিনার মায়াঙ্ক ডাগার ও মাহিপাল লমরর। ভারতের ব্যাটিং ও বোলিং দু’টি নিয়েই বিস্তর ভাবতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক মনে করছেন বাংলাদেশের ম্যাচটিই তাদের প্রেরণা হয়ে আসতে ােরে। কারণ, বাংলাদেশ অপরাজিত দল ছিল। তাদের সেমিফাইনালে হারিয়ে ফাইনালে খেলছে। ভারতও এখন পর্যন্ত অপরাজিত দল। তাদেরকেও হারানোর আশা করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখন দেখা যাক, কোন দলের আশা পূরণ হয়। শিরোপা ভারত না ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে নেয়। সেই ফয়সালা আজই হয়ে যাবে।